শিরোনাম

অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার, রবিবার ব্যবসায়ীদের ডেকেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:২২:৫৫ পূর্বাহ্ণ - ৩০ এপ্রিল ২০১৭ | ২২৯

রোজা আসতে সময় বাকি এখনও প্রায় একমাস। অথচ এরইমধ্যে অস্থির হয়ে উঠছে দেশের নিত্যপণ্যের বাজার। মাসখানেকের ব্যবধানে বেড়েছে, চাল, তেল, সয়াবিন, মসুর ডাল, ছোলা ও চিনির দাম। মাংস, মাছ ও সবজির দাম বেড়েছে আগেই। বাজারে সব পণ্যের মজুদ ও সরবরাহ পর্যাপ্ত। এর পরেও নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এবারের অজুহাত অনেক। প্রথম অজুহাত ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, দ্বিতীয় অজুহাত অতিবৃষ্টি। তৃতীয় অজুহাত বন্যা। এবছর এই তিন অজুহাতে নিত্যপণ্যের বাজারকে অস্থির করে তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তাই, করণীয় নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের ডেকেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। রবিবার দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মন্ত্রী। এ বৈঠকে এফবিসিসিআই’র সভাপতিসহ আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে। এ বৈঠকে রাজধানীর বড় কয়েকটি বাজার সমিতির নেতাদেরও ডাকা হয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘সামনে রোজা ও বাজেট আসছে। তাই আগেভাগেই দেশের নিত্যপণ্যের বাজারকে স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে ডেকেছি। বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে এবারসহ মোট ৪টি রমজান ফেস করছি। আশা করছি, সমস্যা হবে না। আমরা (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) টিসিবিকেও প্রস্তুত রেখেছি। সব ধরনের পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মজুদ রয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ‘কারসাজি করে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট আমি দেখিনি।’

ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে আমদানিকৃত পণ্যের দামে প্রভাব পড়বে স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে গভর্নরের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৮৪ টাকার ডলার ৮২ টাকায় নেমেছে। অবশ্যই কিছুদিনের মধ্যে ৮০ টাকার নিচে নেমে আসবে। চিন্তার কারণ নাই।’

এদিকে, সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও সিটি করপোরেশনের নজরদারি  না থাকায় বাজার স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। ফলে, কারণে অকারণে সুযোগ পেলেই অসৎ ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার আশায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।

রমজান এলে অধিক মুনাফার আশায় ব্যাবসায়ীরা উন্মাদ হয়ে যায় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জনিয়েছেন কাওরান বাজারে আসা সরকারি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি জানান, গত কয়েক সপ্তাহে বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। ভারতের কড়াকড়ি ও গাবতলীর ইজারাদারের অতিরিক্ত ইজারা আদায়ের কারণে অনেক আগেই বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। এই অজুহাতে দেশি বিদেশি মুরগি ও খাসির মাংসের দামও বেড়েছে। বন্যা ও অতিবৃষ্টির অজুহাতে বেড়েছে সব ধরনের সবজি ও মাছের দাম।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরের অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দরে। আর বৃষ্টির অজুহাতে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা। দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি ২৫ থেকে হয়েছে ৩০ টাকা। করলা ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা দরে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে যা দু সপ্তাহ আগেও ২৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো।
বাজারের সব্জি বিক্রেতারা বলছেন, বেশিরভাগ চাহিদা রয়েছে যেসব সবজির সেগুলোর কোনোটাই এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার নিচে নেই।
এদিকে, কেজিতে গরুর মাসের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। শনিবার বাজার ও মহল্লা ভেদে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা দরে।
দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে মশলাজাতীয় পণ্যেও। মুদি দোকানিরা জানিয়েছেন, বর্তমানে লবঙ্গ, এলাচ, গোলমরিচসহ সব ধরনের মসলার দাম কেজিতে বেড়েছে ২০০ টাকা করে। আমদানি করা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ডলারের মূল্য বাড়ার কারণে । ৮৫ টাকা লিটার দরের সয়াবিন তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা দরে। চিনির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা। মসুর ডালের দামও বেড়েছে কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বছরজুড়ে রাজধানীর বাজারগুলো নজরদারির জন্য ১৪টি দল কাজ করার কথা। প্রতিটি নজরদারি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থায় কর্মরত একজন উপ-সচিব পদ মর্যাদার কর্মকর্তা। এই দলগুলোতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও কাগজে কলমে আছেন।

কিন্তু সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, বছরজুড়েই নজরদারি করার কথা থাকলেও শুধুমাত্র রোজার মাসে তারা লোক দেখানো কাজ করে থাকে।

janatarpratidin.com /Md. Bappy /30 April 2017

সর্বশেষ