শিরোনাম

৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎবিহীন নেত্রকোনা, জনদুর্ভোগ চরমে

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:২৯:৪২ পূর্বাহ্ণ - ১৪ মে ২০১৮ | ২৫৪

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনায় কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে সংযোগ লাইনে বিঘ্ন ঘটায় গত ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। এতে জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গ্যাস সংকট। এছাড়া হাসপাতালে রোগীদের দুর্ভোগসহ জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার (১১ এপ্রিল) ভোর ৬টার দিকে প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ চলে যায়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ না আসায় দেখা দিয়েছে পানি ও বিদ্যুতের সমস্যা। মোবাইলে চার্জ না থাকায় ফোন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্বাভাবিক যোগাযোগে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় শহরের সাধারন মানুষের চলাচলের অটোরিকশা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যে কয়েকটি শহরের রাস্তায় চলছে তারা যাত্রীদের কাছ থেকে নিচ্ছে দ্বি-গুণ ভাড়া। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ও জেনারেটর না থাকায় নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনেরা চরম দুভোর্গে পড়েছে।শিশু ওয়ার্ডের রোগীরা বিদ্যুতের কারণে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এছাড়াও ভর্তিকৃত রোগীরা হাসপাতালের বেড থেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। পর্যাপ্ত পানি সরবারাহ না থাকায় ময়লা ও দুর্গন্ধে ভাসছে হাসপাতালের শৌচাগার গুলো।
নেত্রকোনা বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবারের কালবৈশাখী ঝড়ে নেত্রকোনা জেলা সদরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় ঘর-বাড়ির পাশাপাশি বিদ্যুতের শতাধিক খুঁটি উপড়ে পড়ে ও ভেঙে যায়। এছাড়া জেলার বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় বিভাগের (পিডিবি) ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্ট) লাইনের ৭টি খুঁটি উপড়ে পড়ে,এছাড়াও ৩০টি ১১ কেভি খুঁটি ও ২টি গাছ বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে যায়। অপরদিকে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৯০টি খুঁটি ভেঙে গিয়ে জেলার কেন্দুয়া, আটপাড়া, মদন, সদর উপজেলাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিদ্যুৎ বিছিন্ন রয়েছে।
নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আনিসুর রহমান বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগের মাঝে আছি। খাবার পানি নেই, গোসল করার পানি নেই, মোবাইল বন্ধ সকাল থেকে। শুধু শুকনা খাবার খেয়ে আছি। দোকান থেকে পানি নিয়েছি প্রতি লিটারে ৫ টাকা বেশি দিয়ে।’
শহরের নাগড়া এলাকার বাসিন্দা ও জেলা কৃষকলীগের সভাপতি কেশব রঞ্জন সরকার বলেন, ‘শহরের মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে চরম আকার ধারণ করেছে। সকাল থেকেই মানুষের পানি সংকট দেখা দিয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ কেন দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করছেনা।
নেত্রকোনা শহরের কাজী রোড়ের বাসিন্দা এ আজাদ মুন্না বলেন, ‘শহরে কারেন্ট নেই, বাসায় পানি নেই। তাই সকালে ভাড়া করে জেনারেটর এনে ৭শ’ টাকা দিয়ে এক হাজার লিটার ট্যাংকিতে পানি তুলি। এভাবে চলতে থাকলে এ সমস্যা আরো তীব্র আকার ধারণ করবে।’
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মা ও শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রাশিদা বেগম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মোম জ্বালিয়ে কাজ চালাচ্ছি। গরমের কারণে রাতে অসুস্থ বাচ্চা ঘুমাতে পারে না, সুস্থতার জন্য এসে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছি।
আধুনিক সদর হাসপাতালের সেবিকা শেফালি আক্তার বলেন, ‘ঝড়ের কারণে এসি বন্ধ হয়ে গেছে। শিশুদের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যাবে এমন আশংকায় শিশুদের তাদের মায়েদের কাছে দেওয়া হয়েছে। আর অন্যদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মহিলা ওয়ার্ডের সেবিকা স্মৃতি বলেন, ‘আমরা অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে যতটুকু পারছি সেটুকু সেবা দিচ্ছি। কারেন্ট নেই, তাই রোগীদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।’
জেলার নেত্রকোনা বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, শহরের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করছে। ৩৩ কেভি লাইনের ৭টি খুঁটি ভেঙে পানিতে পড়ে যাওয়ায় একটু দেরি হচ্ছে। তবে খুব দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যাবে।
এছাড়া জেলা শহর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিদ্যুৎ সরবারাহ স্বাভাবিক করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। ময়মনসিংহ থেকে উন্নত মানের ট্যাকনিশিয়ান এনে সমাধান করার চেষ্টা চলছে। নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ৯০টি খুঁটি ভেঙে গেছে।এজন্য আমাদের লাইনের সমস্যা সমাধান করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে জরুরি ভিত্তিতে তা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মো. মঈনুল ইসলাম বলেন। ‘ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় যে সকল সমস্যা হয়েছে তা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হবে।’

সর্বশেষ
%d bloggers like this: