শিরোনাম

হাওর এলাকাকে দুর্গত অঞ্চল ঘোষণা না করায় খালেদার আক্ষেপ

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১:০৮:৫১ পূর্বাহ্ণ - ০১ মে ২০১৭ | ৩৬৪

হাওর এলাকাকে দুর্গত অঞ্চল ঘোষণা না করায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেছেন, ‘যেভাবেই ক্ষমতায় থাকুন না কেন, প্রধানমন্ত্রী এখন ক্ষমতার চেয়ারে আসীন। সেই হিসেবে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রধান দায়িত্ব মূলত তারই। তাছাড়া একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের মানুষের চরম দুর্দশা তার অন্তর স্পর্শ করবে, এই ধারণা থেকে আমাদেরও আশা ছিল, হাওর এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি হয় তো ওই এলাকাকে ‘দুর্গত অঞ্চল’ ঘোষণা করবেন।’

রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া এমন আক্ষেপের কথা জানান।

এর আগে রোববার সকালে বিধ্বস্ত হাওরবাসীকে দেখতে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদেরকে নানা সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

খালেদা বলেন, ‘দুঃখের বিষয়, সে আশা পূরণ হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তার গতানুগতিক তৎপরতা দেখে ও বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে যে, তিনি পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করেননি বা স্বীকার করতে চাননি।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘দেশের উত্তর-পূর্বের হাওরাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতিতে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। প্রতিবেশী দেশ থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আগাম বন্যায় ব্যাপক শস্যহানিসহ গবাদি পশু, মাছ, জলজ প্রাণী এবং অন্যান্য সম্পদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতিতে সহায়-সম্বল হারিয়ে সেখানে এক অকল্পনীয় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। রোগে-শোকে, খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে মানুষ এক অবর্ণনীয় দুর্দশায় জীবন কাটাচ্ছে। তাদের কষ্ট বর্ণনাতীত।’

হাওরবাসীর জন্য নিজ দলের পদক্ষেপের কথা জানিয়ে খালেদা বলেন, ‘বিপর্যয়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে সেখানে একটি প্রতিনিধিদল পাঠাই। তারা সেখানে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহস যুগিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং ত্রাণতৎপরতা চালিয়েছেন।’

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি প্রতিনিধিদল হাওরাঞ্চলে বিপর্যয় ও ক্ষয়ক্ষতির যে ভয়াবহ চিত্র দেখেছেন তার আলোকেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে দুর্গত অঞ্চল ঘোষণার আহ্বান জানাই। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, মানবিক বিবেচনা থেকেই এ আহ্বান জানানো হয়েছিল। পরে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকেও একই দাবি উত্থাপন করা হয়।’

হাওরবাসীর জন্য দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সব দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা ও আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে সেই পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। আমি দাবি করছি, নতুন ফসল না আসা পর্যন্ত হাওরের ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হোক। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি কৃষিঋণের সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ এবং সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত করা হোক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ ও বিনাসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়া হোক। এক বছরের জন্য জলমহালের ইজারা বাতিল করে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ স্থানীয় দরিদ্রদের দেয়া হোক। ত্রাণ, পুনর্বাসন ও চিকিৎসার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হোক। হাওরের শস্য, মৎস্যসম্পদ, গবাদিপশু ও অন্যান্য জলজপ্রাণীর যে বিপুল হানি ঘটেছে তা আমাদের জন্য এক জাতীয় বিপর্যয়ের শামিল। এই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমি জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানাই।’

দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সামর্থ্য অনুযায়ী হাওরের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

 

janatarpratidin.com /Md. Bappy /01 May 2017

সর্বশেষ