শিরোনাম

স্পষ্ট হলো পেছনে ঢেকে যাওয়া বাংলাদেশের মানচিত্র

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫:৫৯:১৯ অপরাহ্ণ - ২৭ মে ২০১৭ | ৩৮২

সুুপ্রীমকোর্টের ভাস্কর্যটি সরানোতে স্পষ্ট হলো পেছনে ঢেকে যাওয়া বাংলাদেশের মানচিত্র। ‘লেডি জাস্টিসে’র আদলে ভাস্কর্যটি স্থাপনের পর সুপ্রীমকোর্টের দেয়ালে আগে থেকে স্থাপিত মানচিত্রটি আড়ালে পড়ে যায়। ভাস্কর্য স্থাপনে মানচিত্র আড়ালে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে দেখতে চান অনেকে।

প্রধান বিচারপতির প্রবেশপথের ঠিক আগের দেয়ালে বাংলাদেশের একটি মানচিত্র অঙ্কিত রয়েছে। আগে সুুপ্রীমকোর্টের প্রধান ফটক থেকে স্পষ্টভাবেই সবুজ রঙের মানচিত্রটি চোখে পড়ত। স্বভাবিকভাবেই ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে পাওয়া প্রিয় মানচিত্রের প্রতি বাংলদেশী হিসেবে অন্য রকম আবেগ কাজ করে। কিন্তু থেমেসিসের ভাস্কর্যটি স্থাপনের ফলে আড়ালে পড়ে যায় মানচিত্রটি। মানচিত্রের উত্তর ও পূর্বাংশের মাত্র কিছুটা দেখা যেত। কাছে না গেলে বোঝা যেত না ভাস্কর্যের পেছনে বাংলাদেশের মানচিত্র! কেন ভাস্কর্য বসাতে গিয়ে মানচিত্র আড়ালে চলে গেল বিষয়টি নানা সময়ে আলোচিত হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন হয়তো অনিচ্ছাকৃত ভুলেই এমনটা হয়েছে। সচেতনভাবে ভাস্কর্য স্থাপন করলে এমনটি হওয়ার কথা নয়। তাদের মতে একজন ভাস্কর বা বিচারাঙ্গনের কারোই দেশের মানচিত্রের প্রতি বিদ্বেষ রয়েছে এমনটা চিন্তা করা তাদের প্রতি অন্যায় করার শামিল। এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। এখন আবার মানচিত্রটি স্পষ্ট হয়েছে।

হেফাজতে ইসলাম এই ভাস্কর্য সরানোর দাবি জানিয়ে সরকারকে ৫ মে মতিঝিলে ফের সমাবেশের হুমকি দেয়। ওলামা লীগও তা অপসারণের দাবি জানায়। এরপর গত ১১ এপ্রিল হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বাধীন এক দল ওলামার সঙ্গে গণভবনে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাস্কর্যটি সরাতে পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও আলোচনা হয়।

ভাস্কর্য অপসারণের পক্ষে যুক্তি হিসেবে এর নান্দনিক ‘ত্রুটির’ পাশাপাশি জাতীয় ঈদগাহের কাছে অবস্থানের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ভাস্কর্যটি সরানোর পক্ষে যুক্তি হিসেবে এর নন্দনতাত্ত্বিক সমস্যার পাশাপাশি সুপ্রীমকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহের অবস্থানের কথা বলেছিলেন শেখ হাসিনা। গ্রিক দেবীকে শাড়ি পরানো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এদিকে ভাস্কর্য সরিয়ে নেয়ার পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ভাস্কর্য সরনোর বিষয়টি সুপ্রীমকোর্টের। তবে রাতে ভাস্কর্য সরানোর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান বিচারপতি একটি সভা ডেকেছিলেন। শুক্রবার এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, প্রধান বিচারপতি ভাস্কর্য অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বৃহস্পতিবার সভা ডেকেছিলেন। সেখানে ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ও এ্যাটর্নি জেনারেল এবং বার এ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি ছিলেন। সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলীসহ আরও যারা ছিলেন সবার সঙ্গে তিনি পরামর্শ করেছিলেন কী করা যায়? তারা পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, ভাস্কর্যটি সরিয়ে নিলে ভাল হয়, এ নিয়ে কোন বিতর্ক থাকুক, প্রধান বিচারপতিকে বিতর্কিত করা হোক এটা আমরা কেউ চাই না। তবে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে শুক্রবার সারাদিনই বিক্ষোভ হয়েছে।

janatarpratidin.com / Md. Bappy / 27 May 2017

সর্বশেষ
%d bloggers like this: