শিরোনাম

সৈয়দ আশরাফকে শেষ শ্রদ্ধা, ময়মনসিংহে লাখো মানুষের ঢল

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩:২৭:২৬ অপরাহ্ণ - ০৬ জানুয়ারি ২০১৯ | ২৫৭
মো. মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী,ময়মনসিংহ : আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার বেলা ৩টার দিকে ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে তাঁর তৃতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক জগতসহ সর্বস্তরের মানুষ ও মরহুমের শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন। এর আগে জানাজার জন্য তাঁর মরদেহ হেলিকপ্টারে করে আনা হয় ময়মনসিংহে।
জানাযায় অংশ নিতে সকাল থেকেই ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে জনস্রোত নামে। জানাযা শুরু হওয়ার আগে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ঈদগাহ মাঠ।
জানাযা শেষে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এরপর ময়মনসিংহ থেকে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় বনানী কবরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে গত ৩ জানুয়ারি রাতে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সন্তান সৈয়দ আশরাফ। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে রাজনৈতিক জগতসহ সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।
ব্যাংকক থেকে ৪ জানুয়ারি একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আনা হয় তার মরদেহ। বিমানবন্দর থেকে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সযোগে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর বেইলি রোডের বাসায়। সেখানে মরহুমকে শেষশ্রদ্ধা নিবেদন করেন দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা-সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। পরে বাসভবন থেকে মরহুমের মরদেহ নিয়ে রাখা হয় সিএমএইচে।
প্রসঙ্গত, সততার প্রতীক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৯৬ সালের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ২০০১ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
যখন আব্দুল জলিল গ্রেপ্তার হন, তখন সৈয়দ আশরাফুল আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে মন্ত্রীসভা গঠিত হলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পুনরায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৫ সালের ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করেন। এক মাস এক সপ্তাহ দপ্তরবিহীন মন্ত্রী থাকার পর ১৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নিজের অধীনে রাখা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন।
সর্বশেষ
%d bloggers like this: