শিরোনাম

সুস্থ হয়ে বাংলাদেশে ফিরছে সেই তিন পা-ওয়ালা শিশু

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:১১:৪৪ অপরাহ্ণ - ২৭ এপ্রিল ২০১৭ | ২৮৯

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে সফল অস্ত্রোপচার শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরছে তিন পা নিয়ে জন্ম নেয়া সেই কন্যা শিশু চৈতি খাতুন। বিশ্বের প্রথম ম্যারাথন অপারেশনেরর পর চৈতি এখন হাঁটতে পারছে। জীবন রক্ষাকারী অস্ত্রোপচার শেষে এখন বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে চৈতি ও তার মা শিমা খাতুন।
মেলবোর্নের মনাশ চিলড্রেন হাসপাতালে গত দশমাস ধরে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অতিরিক্ত পা’টি অপসারণ করে তার ক্ষুদ্র শরীর পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন। আটজন সার্জনের একটি টিম ৮ ঘণ্টা ধরে এই অস্ত্রোপচার করেন।

২০১৪ সালে বাংলাদেশের একটি হাসপাতালে তিন পা নিয়ে চৈতি জন্ম নেয়। শিমা খাতুন ওই কন্যা শিশুটির জন্ম দেন। সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর দেখা যায়, শিশুটির হাত, পা, মুখ, ত্বক, আঙ্গুল সব ঠিক থাকলেও পা ৩টি। তলপেটের একেবারে মাঝ বরাবর একটি পা বেরিয়ে এসেছে। পাটির সামনের দিকে একটু বাঁকানো। তার জননাঙ্গ ও পায়ুপথ স্বাভাবিক ছিল না।

এরপরই সেখানকার চিকিৎসকরা শিশুটির উন্নত চিকিৎসরা জন্য স্বজনদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় শিশু চৈতির করুণ অবস্থা নজরে পড়ে মেলবোর্নভিত্তিক চ্যারিটি চিলড্রেন ফাস্ট ফাউন্ডেশনের। প্রতিষ্ঠানটি নিজ তত্তআববধানে কন্যা শিশুটিকে চিকিৎসা করাতে গত বছর  মেলবোর্নে নিয়ে যায়।

মনাশ চিলড্রেন হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক খ্রিস কিম্বার বলেন, জন্ম নেয়ার পর প্রথম দুই বছর শিশুটির বেঁচে থাকা ছিল বিস্ময়কর। এটা খুবই বিরল। এই ধরনের বেশিরভাগ শিশু গর্ভাবস্থায় মারা যায় অথবা জন্ম নেয়ার পরপরই মারা যায়।

তিনি বলেন, ‘জন্মের কয়েক সপ্তাহ পর তাকে ঢাকার প্রধান হাসপাতালে নেয়া হয়া কিন্তু কীভাবে কী করতে হবে তা নিয়ে সেখানকার ডাক্তাররা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।

চৈতির মা তার অসুস্থ মেয়ে শিশুকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায দেশে ফিরিয়ে আনতে পারায় উচ্ছ্বসিত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘এখন অত্যন্ত ভালো লাগছে। এটা খুবই বিস্ময়কর। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

শিশুটি জন্ম নেয়ার পর তখন ডাক্তাররা জানান, শিমার টুইন বেবি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মায়ের পেটে তা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শিশুর একটি পা পেটে রয়ে যায়। পেটের নিচে অস্বাভাবিক একটি পা থাকায় স্বাভাবিকভাবে শিশুটি প্রস্রাব পায়খানা করতে পারছিল না। এজন্য বিকল্প পথে তার প্রস্রাব-পায়খানা করানো হচ্ছিল। তবে বাড়তি পায়ে কোন অনুভূতি বা শক্তি ছিল না। তারা জানান, চিকিৎসা শাস্ত্রের ভাষায় এধরনের বাড়তি অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে ‘অনজয়েন্ট টুইন’ অথবা ‘ফিটাসিন সিটর’ বলা হয়।

শিমার ৬ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের দু’বছর পর একটি ছেলে শিশু জন্মের পরই মারা যায়। এই শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই ৩টি পা নিয়ে চৈতি জন্ম নেয়।

সর্বশেষ