শিরোনাম

শোক দিবস ও ঈদুল আজহা ঘিরে থাকবে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:২২:১২ অপরাহ্ণ - ১১ আগস্ট ২০১৮ | ২২৮

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস এবং আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে শনিবার পুলিশ সদরদপ্তরে এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

আইজিপি তার বক্তব্যে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট, ব্লক রেইডসহ সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যেসব সামাজিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠান ও কাঙালি ভোজের আয়োজন করা হয় তা যেন নির্বিঘœ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় সেইজন্য জেলা পুলিশ সুপারদের সংশ্লিষ্ট থেকে নজরদারি করার নির্দেশ দেন আইজিপি। কাঙালি ভোজের খাবার সিভিল সার্জন দ্বারা পরীক্ষা করে নেওয়ারও নির্দেশ দেন।

আইজিপি বলেন, ঈদুল আজহা উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাতে কোনো ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।

পুলিশপ্রধান বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়া মহাসড়কে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক থামানো যাবে না। তিনি সড়ক, রেল, নৌপথ, পশুর হাট এবং ঈদ জামাতস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

নির্ধারিত ঘাট ছাড়া কোরবানির পশু উঠানামা রোধ, পশুর হাটে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, পশুর হাট ইজারাদার কর্তৃক হাসিল হার প্রদর্শন, নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত হাসিল আদায় না করা, কোরবানির পশু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোরবানির পশু পরিবহনে ব্যবহৃত নৌপথ ও সড়কপথে চাঁদাবাজি রোধে পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পরিবহনের গায়ে উৎসস্থল ও গন্তব্যস্থলের নাম সম্বলিত ব্যানার সংযুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কোরবানির পশুর কৃত্রিম সংকটকারী, অতিরিক্ত হাসিল আদায়কারীসহ কোরবানির পশুর হাটের আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। চামড়া যাতে সীমান্তমুখী না হয় সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

আইজিপি জনগণের সার্বিক সহায়তা ও সচেতনতা কামনা করে বলেন, অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে পানীয় এবং খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন। বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তা নেবেন। অজ্ঞান ও মলম পার্টির অপতৎপরতা থেকে সতর্ক থাকবেন। প্রয়োজনে লিফলেট ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা করবেন।

ঈদে নৌপথে ঘরমুখে যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণের লক্ষ্যে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য নৌপুলিশ নিয়োজিত থাকবে। নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং চাঁদাবাজি রোধে নৌপুলিশ ইউনিট অন্যান্য পুলিশ ইউনিটের সহায়তায় চেকপোস্ট স্থাপনসহ টহলের ব্যবস্থা করবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ দেশের প্রধান প্রধান ঈদ জামাতস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেয়া হবে। এছাড়া, জেলা এবং থানা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ঈদ জামাতস্থলের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিরোধপূর্ণ স্থানে ঈদ জামাত না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাস টার্মিনাল এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে টহল জোরদার, টিকেট কালোবাজারি ও মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্ত হয়। ঈদ জামাতস্থল, লঞ্চ, ট্রেন, বাস এবং মসজিদে জঙ্গি গোষ্ঠীর নাশকতা রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। প্রতিটি ইউনিটকে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং ইউনিট গঠন এবং সাইবার পেট্রল বাড়ানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

১৫ আগস্টের আগে ও পরে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের পুলিশ সুপাররা সব হোটেল ও বোডিং তল্লাশি করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করবেন। ট্যুরিস্ট অঞ্চল, স্থানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার ও হোটেল এবং বোডিংগুলোতে চেকিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্ব স্ব ইউনিটের ট্যুরিস্ট পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করা হয়।

সভায় পুলিশ সদরপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (অপারেশনস্) সাঈদ তারিকুল হাসান ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উদযাপন এবং ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু পরিবহন ও কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা, মহাসড়ক, নৌপথ, রেলপথের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ঈদ জামাতস্থলের নিরাপত্তা, বিনোদন কেন্দ্রের নিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। প্রতিটি ইউনিট নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করবে এবং পুলিশ সদরদপ্তরকে জানাবে।

সভায় পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন ও অপারেশনস্) মো. মোখলেসুর রহমান, অতিরিক্ত আইজিপি (এফএন্ডডি) মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আবুল কাশেম, এপিবিএন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি সিদ্দিকুর রহমান, এটিইউয়ের অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিজি আবদুস সালাম, সকল পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ, হাইওয়ে, রেলওয়ে, নৌ ও ট্যুরিস্ট পুলিশসহ অন্যান্য ইউনিটের ডিআইজিবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের জনপ্রিয় খবর

সর্বশেষ
%d bloggers like this: