শিরোনাম

শেষ হলো প্রচার-প্রচারণা: ভোটের অপেক্ষায় ময়মনসিংহ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:৫৩:১৮ অপরাহ্ণ - ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৬৫

মো. মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ময়মনসিংহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে শুক্রবার সকাল ৮টায়। টানা ১৯ দিন বিরামহীনভাবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে চষে বেরিয়েছেন ময়মনসিংহের প্রার্থীরা।

এখন অপেক্ষা ভোটের। প্রার্থী ও ভোটারদের এই অপেক্ষা করতে হবে টানা দুই দিন (৪৮ ঘণ্টা)। রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ। কোনও বিরতি ছাড়া চলবে ওইদিন ৪টা পর্যন্ত। ওইদিন জনরায়ের ফলে গঠিত হবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন সরকার।

কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ করছে বিএনপি। নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও করা হচ্ছে। এর পরও ভোটের মাঠে জিতে আসার আশা ছাড়ছে না দীর্ঘদিন নির্বাচনের বাইরে থাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ এ দল।

জেলার ১১ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, সিপিবিসহ নয়টি রাজনৈতিক দলের মোট ৫৭ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নয়টি দলের প্রার্থী অংশ নিলেও আটটিতে মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। বাকি তিনটি আসনে লড়বেন জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

জেলার সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনটি। এখানে হাইকোর্ট ঘুরে ২৪ ডিসেম্বর চূড়ান্তভাবে ধানের শীষ পান আফজাল এইচ খান। হাতে অনেক কম সময় নিয়েই নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন তিনি। সে হিসাবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি জুয়েল আরেং বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে অনেকটা সহিংস পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সম্প্রতি সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির দেড় হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ফলে ধানের শীষের শাহ শহীদ সরোয়ারের তুলনায় এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য শরীফ আহমদ।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে ভালো অবস্থানে আছেন বিএনপির প্রার্থী এম. ইকবাল হোসেইন। সমানতালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ।

হেভিওয়েট প্রার্থী জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের আসন ময়মনসিংহ-৪ (সদর)। এখানে ধানের শীষে লড়ছেন তরুণ রাজনীতিক সাবেক ছাত্রনেতা আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এখানে বেশ উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে লাঙ্গলের প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হবে মহাজোটের প্রার্থী আওয়ামী লীগের কেএম খালিদ বাবু ও বিএনপির জাকির হোসেন বাবলুর মধ্যে। কারণ এখানে লাঙ্গলের পক্ষে কোনো প্রচারণা নেই বললেই চলে।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে ভোটাররা আওয়ামী লীগ-বিএনপি দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখলেও লাঙ্গল প্রতীকের ভোট নৌকার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া মহাজোটের শরিক জাসদের (জাসদ-ইনু) নেতা (স্বতন্ত্র প্রার্থী) সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টুও (সিংহ) কিছু ভোট কাটবেন। ফলে মহাজোটের ভোট তিন ভাগে বিভক্ত হবে। এ পরিস্থিতিতে বিএনপির প্রার্থী নিজেকে সুবিধাজনক অবস্থানেই দেখছেন।

শুরুতে ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে আলোচনায় ছিলেন রওশন এরশাদ। পরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাফেজ রুহুল আমিন মাদানীকে (নৌকা) সমর্থন দিয়ে সরে গেছেন তিনি। এখানে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। এখানে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ দেখছেন না ধানের শীষের প্রার্থী।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মহাজোটের প্রার্থী জাপার বর্তমান এমপি ফখরুল ইমাম (লাঙ্গল) এবং ঐক্যফ্রন্টের হয়ে গণফোরাম নেতা এএইচএম খালেকুজ্জামান (ধানের শীষ)। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মাহমুদ হাসান ২৫ ডিসেম্বর মহাজোটের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে খালেকুজ্জামানের অবস্থানও বেশ শক্ত।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে শুরুতে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন কিছুটা বেকায়দায় থাকলেও পরে বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুস সালাম প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় তা মিটে গেছে। বিএনপির খুররম খান চৌধুরীর (ধানের শীষ) সামনে এখন শক্তিশালী নৌকা।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে নির্বাচন অনেকটা একপক্ষীয়। আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল নির্বাচনী মাঠ দাবড়ে বেড়ালেও ঐক্যফ্রন্ট থেকে এলডিপির সৈয়দ মাহমুদ মোরশেদ (ধানের শীষ) অনেকটাই নীরব।

প্রায় একই পরিস্থিতি ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনেও। আওয়ামী লীগের কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাধা দেয়ার অভিযোগ করছেন বিএনপির ফকরউদ্দিন আহমেদ।

সর্বশেষ
%d bloggers like this: