শিরোনাম

শেরপুরে খাল-বিল উন্মুক্ত জলাশয় সংরক্ষণের দাবি

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২:২০:৪১ পূর্বাহ্ণ - ০১ মে ২০১৭ | ৩৮৬

প্রাকৃতিক পরিবেশ আজ ভালো নেই। অসময়ে হচ্ছে বন্যা, খরতাপে পুড়ছে জনপদ, কোথা সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। নেমে আসছে নানা প্রাকতিক দুর্যোগ, পাল্টে যাচ্ছে ফসলের মৌসুম।

 জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং দূষণ আর দখলে বিপর্যস্ত খাল-বিল, নদী-নালা, উন্মুক্ত জলাশয়। এতে বিপর্যয় ঘটছে প্রাকৃতিক পরিবেশের। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে খাল-বিল, নদী-নালা উন্মুক্ত জলাশয়গুলো সংস্কার ও সংরক্ষণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

শেরপুরে উন্মুক্ত জলাশয় সংস্কার ও সংরক্ষণ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা এমন দাবি জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে শহরের নিউমার্কেট আইডিইবি হলরুমে নাগরিক সংগঠন জন উদ্যোগে এ গোলটেবিলের আয়োজন করে।

বৈঠকের আলোচনায় উঠে আসে, শেরপুর জেলায় খাল রয়েছে ২০টি, বিল ৫৬টি। তার মধ্যে যে সকল বিল সরকারিভাবে লিজ দেয়া হয়েছে তা বাদে বাকি বিলগুলোর অস্তিত্ব এখন না থাকার পথে।

ভুয়া কাজগপত্র তৈরি করে অথবা অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে সরকারি খাস জমি দখল করা হয়েছে। দখলকারীদের মধ্যে প্রভাবশালী রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি।

এভাবে জেলার প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো দখল হয়ে যাওয়ার ফলে প্রাণের স্বাভাবিক গতি বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। এতে কৃষিনির্ভর শেরপুর জেলার কৃষি অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতিসাধন হচ্ছে।

সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এসব বিল ও এর আশপাশের অধিকাংশ জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক এসব জলাশয় ভরাট হওয়ার কারণে পানির স্তর অতি দ্রুত নিম্নগামী হচ্ছে। জেলার ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

জন উদ্যোগ কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, নদী-খাল-বিল অন্যান্য প্রাকৃতিক জলাশয়ের স্বাভাবিক পানি প্রভাব বাধাগ্রস্ত করে মৎস্য চাষ কিংবা স্থাপনা নির্মাণে সরকার প্রধানের কড়া হুঁশিয়ারি থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।

শেরপুর জেলায় পরিবেশ আইন, কৃষি জমি সুরক্ষায় খাস জমি বন্টন নীতিমালা উপেক্ষা করে স্থানীয় এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ সরকারি খাস জমি হিসেবে চিহ্নিত অনেক খাল-বিল-নদী ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা করে যাচ্ছেন। সকলের চেখের সামনে এ ধরনের অপকর্ম চললেও কেউ প্রতিবাদ করছে না। সবাই যেন এসব দেখেও না দেখার ভান করছেন। আইন এদের কাছে অসহায় বলেই মনে হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীম আরা শামীমা প্রধান অতিথি ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এতে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, নারীনেত্রী, মানবাধিকার কর্মী, রাজনীতিক ও ভুক্তভোগী লোকজন অংশগ্রহণ করেন।

 

janatarpratidin.com /Md. Bappy /01 May 2017

সর্বশেষ