শিরোনাম

রমজানে পণ্য সঙ্কটের সম্ভাবনা নেই : বাণিজ্যমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮:০৫:৪৫ অপরাহ্ণ - ০১ এপ্রিল ২০১৮ | ২৯১

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ে গণমাধ্যমে ঢালাও দোষারোপ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। এভাবে সংবাদ প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেল আয়োজিত সভায় এসব কথা বলেন ব্যবসায়ী নেতারা।
বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার প্রবণতা নিয়ে সমালোচনা আছে অর্থনীতিবিদদের। এমনকি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও নানা সময় এই সমালোচনায় যোগ দিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের এই প্রবণতার কারণে কোনো বিশেষ মৌসুমে কোনো পণ্যের চাহিদা বাড়লে সেটার দামও বেড়ে যায়। বিশেষ করে রোজার মৌসুমে এর ঝাঁঝটা টের পায় দেশবাসী।
আবার চলতি বছর দেশে বন্যায় ফসলহানির পর চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। সরকার নিজে বিদেশ থেকে চাল আনার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে আমদানিতে শূল্ক তুলে দিলেও চালের দাম প্রত্যাশা অনুযায়ী কমেনি। আর এ জন্য খোদ খাদ্যমন্ত্রী চালকল মালিক আর চাল আমদানিকারকদের অতি মুনাফা প্রবণতা এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরিকে দায়ী করেছেন।
অথচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে এক ব্যবসায়ী নেতার গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা ঢালাওভাবে ব্যবসায়ীদের ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী করে সংবাদ প্রকাশ করবেন না।’
‘ভোগ্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের এককভাবে সবকিছু করার থাকে না। ডলারের দাম বৃদ্ধি সহ আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির সাথে এসব বিষয় সম্পর্কিত থাকে।’
তবে পরে বাণিজ্যমন্ত্রীও যা বললেন তাতেও ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার প্রবণতার বিষয়টিই উঠে এসেছে। তিনি ব্যবসায়ীদেরকে বলেন, ‘আপনারা রোজাদার ভাইদের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। আমাদের ধর্মেও এ ধরনের নির্দেশনা রয়েছে। আপনাদের পক্ষ থেকে রোজাদার ভাইদের জন্য যতটুকু করার তা করার চেষ্টা করবেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক রেখেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে চাই। জোর করে কখনো কোনো স্বার্থ অর্জন করা যায় না।’
চলতি বছর রমজানে ভোগ্যপণ্যের চাহিদার চেয়ে মজুদ অনেক বেশি বলেও জানান তোফায়েল। বলেন, ‘এজন্য কোনোভাবেই কোনো ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ নেই।’
চলতি বছর ভোজ্যতেল, চিনি, মশুর ডাল, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ ও মসলার মজুদ চাহিদর দ্বিগুণেরও বেশি বলে জানানো হয় সভায়।
মন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমরা নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বাজার তদারকি করে থাকি। এছাড়াও দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেল কর্তৃক বিভিন্ন সূত্র, যেমন: টিসিবি, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যাদির বাজার মূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধির প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করি।’
‘আমাদের পক্ষ থেকে সবধরনের উদ্যোগ থাকবে যাতে এ বছর রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি না হয়।’
সভায় খাদ্য সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রতি বছরের চেয়ে এবছর চাল ও গমের মজুদ অনেক বেশি। আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হয়েছি। ফলে এবছর চালের দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, পুলিশ সদরদপ্তরের ডিআইজি এ কেএম শহিদুর রহমান প্রমুখ।

সর্বশেষ
%d bloggers like this: