শিরোনাম

রক্ত আর ঘাম মাখা শ্রমিকের শ্রমে আজকের বিশাল শহর

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩:৩২:৫৫ অপরাহ্ণ - ০১ মে ২০১৭ | ৩৯৯

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী, ময়মনসিংহ :
ময়মনসিংহ শহরে কি গ্রামে ও অন্যান্য বড় বড় শহরে কত-না দালানকোঠা। এসব দালানকোঠা বৃদ্ধিকে উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি বলে অনেকে মনে করেন। এসব দালান নির্মাণে যুক্ত আছে হাজারো নির্মাণশ্রমিকের রক্ত আর ঘাম মাখা শ্রম।
রক্ত আর ঘামের উত্তাপে সেই বুননের গভীরে পুথিত হয়ে আছে বাংলার সেইসব মানুষের ইতিহাস, যারা দারিদ্রের শৃঙ্খল ভেঙে চলে পানির গতিতে। নির্মাণশ্রমিকের নিজের শ্রম বিক্রি করে গড়ে উঠছে আজকের বিশাল শহর।
সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত কাজ করে কত পান তারা? সেটা কি শ্রমের তুলনায় যথেষ্ট? আর কাজ না পেলে কী করেন তারা? গ্রাম ছেড়ে কেনইবা তারা শহরমুখী হয়েছেন।
প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শানকিপাড়া রেলক্রসিং মোড়ে কাজের খোঁজে কোদাল, ডালাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বাজারে আসেন। সেখানে জড়ো হন নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও যুবকেরা। কেউ করেন জোগালির (রাজমিস্ত্রির সহকারী) কাজ, কেউ মাটিকাটা, কেউ রাজমিস্ত্রি আবার কেউ কেউ বাসাবাড়ি পরিষ্কারের কাজ। সবার লক্ষ্য এক। কোনো ক্রেতা পেলে দর কষাকষি করে কাজ জুটিয়ে নেওয়া।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা মানুষগুলোর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন প্রতিদিন নুন্যতম একটি কাজ খুঁজে বের করা, যা দিয়ে চলবে তার জীবন-সংসার। যদি কাজ না জোটে তাহলে ফিরে যেতে হয়। পরদিন আবার আসে।
অকাল বন্যায় ধানখেত তলিয়ে যাওয়া কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনায় এক সময় যারা কৃষিকাজ করতেন তারা পেটের দায়ে ময়মনসিংহ শহরে। কিন্তু এখানে এসেও কাজ মিলছে না। ফলে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে তাদের।
জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবন চলে চর খরিচার ৬০ বছর বয়সী আব্দুল আওয়ালের। গায়ের জোর দেখিয়ে অন্যরা কাজ পেলেও তার সে অবস্থা নেই। গত ৩০ বছর ধরে বিভিন্ন শহরে রাজমিস্ত্রির কাজ করে পরিবার চালান।
তিনি বলেন, বছরখানেক আগে দৈনিক ৩০০-৪০০ টাকা মজুরিতে কাজ করলেও এখন বাজার খুবই মন্দা। কখনও কাজ মেলে আবার কখনও মেলে না। পরিশ্রমের তুলনায় এ মজুরি খুবই কম। তবু অন্য কোনো উপায় না থাকায় এ কাজ করতে হয়।
অকাল বন্যায় মো: ছালামের নেত্রকোনা এলাকার সব তলিয়ে গেছে। তাই পেটের দায়ে চারদিন আগে ময়মনসিংহ শহরে আসা। দুদিন বালু টানার কাজ পেয়েছিলেন। অন্যদিনের চাইতে কাজ কম। কাজের চাইতে বাজারে শ্রমিক বেশি থাকায় আমাদের চাহিদা কম। প্রতিদিন সবার কাজ জোটা কঠিন।
কিশোরগঞ্জ থেকে আসা শ্রমজীবী আলী হোসেন জানান, সকাল থেকে বসে আছি, কাজ নেই। তাই আলøাহর ওপর নির্ভর কইরা বইয়া রইছি। তিনিই চালিয়ে নিবেন বলে আশা করেন।

 

janatarpratidin.com /Md. Bappy /01 May 2017

সর্বশেষ