শিরোনাম

যেখানে বিপদ, সেখানেই ছবি তুলব: ফিলিস্তিনি সাংবাদিক

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:২০:৫৪ অপরাহ্ণ - ২৩ জুন ২০১৮ | ৩৪৭

৩০ বছর বয়সি ইয়াসের মুর্তজা। ছবি তুলতেন তিনি। আড়াই মাস আগে ছবি তুলতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন তিনি। সেই ঘটনা বলতে গিয়ে কেঁপে ওঠেন ইয়াসেরের বন্ধু এবং চিত্রসাংবাদিক আশরাফ। আশরাফ তবুও দৃঢ়চিত্তে বলেন, যেখানে বিপদ, সেখানেই ছবি তুলব।

বিপদের সঙ্গে নিত্য সংসার দায়ের আল-বালাহর বাসিন্দা আশরাফ ও তার সহকর্মীদের। দিনটা, ৬ এপ্রিল। সকাল সকাল অন্য সাংবাদিক বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরোন আশরাফ। খবর ছিল, ওই দিন গাজ়ার দক্ষিণপ্রান্তের শহর খান ইউনিসে গোলমাল হতে পারে।

আশরাফরা গিয়ে দেখেন, ফিলিস্তিনি তরুণ, ইসরায়েলি সেনা দু’পক্ষই প্রস্তুত। এই বিবদমান দু’পক্ষের বাইরে তারা যে তৃতীয় পক্ষ, তা বোঝাতে আশরাফরা সেদিন গায়ে দেন নীল জ্যাকেট। যার গায়ে বড় বড় অক্ষরে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘প্রেস’।

শুরু হল ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ। আশরাফের অভিজ্ঞতা, ট্রাকে করে আনা হল অজস্র টায়ার। তাতে আগুন দিলেন ফিলিস্তিনি তরুণেরা। উল্টো দিক থেকে ধেয়ে এল গ্যাস বোমা, বুলেট। আচমকা আকাশ ফুঁড়ে দেখা দিল যুদ্ধবিমান। পড়তে থাকল একের পর এক বোমা।

আশরাফ দেখলেন, সীমান্তে লুটিয়ে পড়ছে মানুষ। সেই ‘যুদ্ধভূমি’র একের পর এক ছবি ক্যামেরাবন্দি করছিলেন আশরাফরা। কাছেই ছিলেন ইয়াসের। হঠাৎই আশরাফের ক্যামেরার ফোকাস নড়ে গেল। দেখলেন, রক্তে ভেসে যাচ্ছে ‘প্রেস’ লেখা নীল জ্যাকেট। মাটিতে পড়ে রয়েছেন ইয়াসের।

সেই মৃত্যুতেই দিনটা শেষ হয়নি। আশরাফ লিখেছেন, ‘বন্ধুকে হারানোর যন্ত্রণা চেপে রেখেই ছবি তুলছিলাম, কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝলসে গেল বাঁ হাতটা। মনে হল, সব শেষ।’ প্রায় অচেতন অবস্থায় আশরাফকে উদ্ধার করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। আশরাফের বলেন, ‘ভেবেছিলাম, আর ছবিই তুলতে পারব না। আন্দোলনকারী ও সাংবাদিকদের সেদিন আলাদা করে দেখা হয়নি। তাই এত বড় বিপদ ঘটল।’ খবর আনন্দবাজারের।

আসলে গাজ়ায় সাংবাদিকদের বিপদ নানা রকম। বেশ কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় আশরাফ দেখেছেন, প্রথমত, বোমা-গুলিতে মৃত্যুর ভয়। দ্বিতীয়ত, ‘সাংবাদিক’ স্বীকৃতি না পাওয়ার ভয়। যেমন, মৃত্যুর পরে ইয়াসের আদৌ সাংবাদিক কি না, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব বাধে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের। তৃতীয়ত, বিদেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিস্তর বাধা রয়েছে গাজার সাংবাদিকদের।

যেমন, ২০১৬ সালে রাশিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক ফোটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছিলেন আশরাফ। কিন্তু ইসরায়েলি অবরোধের জেরে পুরস্কার নিতে যেতে পারেননি তিনি।

দীর্ঘ চিকিৎসার পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে আশরাফ ফের ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ নেমেছেন, বিপদের ছবি তুলতে। হাতে ক্যামেরা। গায়ে নীল জ্যাকেট। তাতে বড় বড় অক্ষরে ইংরেজিতে লেখা ‘প্রেস’।

সর্বশেষ
%d bloggers like this: