শিরোনাম

ময়মনসিংহে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী যারা

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬:১৪:৫৭ অপরাহ্ণ - ০৭ মে ২০১৭ | ৩৯৫

দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১৯ সালে। সংবিধান অনুয়ায়ী বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আরেকটি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ হিসাবে ২০১৮ সালের শেষের দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

ইতোমধ্যে দায়িত্ব নিয়েছেন নতুন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আপত্তি জানালেও কমিশনকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেনি দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। বাইরে অন্য কথা বললেও ধারণা করা হচ্ছে ভেতরে ভেতরে এ কমিশনের অধীনেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

এছাড়া পরপর দু’বার জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে বিরত থাকলে আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন থাকে না। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০ –এইচ এর ১ দফায় রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের এ নির্দেশনা রয়েছে। সুতরাং নিবন্ধন বাতিল ঠেকাতে বিএনপিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতেই হবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ইসি নিয়ে প্রত্যাশার গুঁড়েবালি হলেও এবার নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে রাজনীতির মাঠে সরব থাকার চিন্তা দলটির। একই সঙ্গে সংসদীয় আসনগুলোতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের খসড়া তালিকা চূড়ান্ত করার প্রতিও মনোযোগী হচ্ছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

তবে এক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করতে চায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা। কারণ মনোনয়নের বিষয়টি আলোচনায় আসলে সহায়ক সরকারের দাবিতে সরব অবস্থান অনেকটাই চাপা পড়বে। তাই নীরবে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে কাজ শুরু করেছে দলটি।

আগামী নির্বাচনে সংসদীয় আসনগুলোতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের খোঁজ-খবর নিতে বেশ কয়েকদিন ধরে অনুসন্ধান চালায় জাগো নিউজ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্বে থাকছে ময়মনসিংহ বিভাগের ৩০টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সম্ভাব্য তালিকা।

ময়মনসিংহ- ১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ময়মনসিংহ- ২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে ফুলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ শহীদ সারোয়ার, ময়মনসিংহ- ৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল হক, সাবেক মন্ত্রী নুরুল আমিন খান পাঠানের ছেলে কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নেতা ফয়সাল আমিন খান পাঠান, ময়মনসিংহ- ৪ (সদর) আসন থেকে সাবেক এমপি দেলায়ার হোসেন খান দুলু ও জেলা বিএনপির সাধরণ সম্পাদক ওহাব আকন্দ, ময়মনসিংহ- ৫ (মুক্তাগাছা) আসন থেকে থানা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, ময়মনসিংহ- ৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে ফুলবাড়িয়া থানা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শামসুদ্দিন আহমেদ, ময়মনসিংহ- ৭ (ত্রিশাল) আসনে ত্রিশাল থানা বিএনপির সভাপতি ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, ময়মনসিংহ- ৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে সাবেক এমপি শাহ নুরুল কবির শাহীন, ময়মনসিংহ- ৯ (নান্দাইল) আসনে জেলা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক খুররাম খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ- ১০ (গফরগাঁও) আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কাসেম ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ময়মনসিংহ- ১১ (ভালুকা) আসন থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোর্শেদ আলমের নাম শোনা যাচ্ছে।

জামালপুর- ১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাহী কমিটির সদস্য রশিদুজ জামান মিল্লাত এবং সাবেক আইজি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাউয়ুম, জামালপুর- ২ (ইসলামপুর) আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতান বাবু, জামালপুর- ৩ (মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ) আসনে বিএনপির জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, জামালপুর- ৪ (সরিষাবাড়ি) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি শামীম তালুকদার, জামালপুর- ৫ (সদর) আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ ওয়ারেছ আলী, সাবেক উপমন্ত্রী সিরাজুল হক ও বিএনপির সহ-স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক নিলুফার চৌধুরী মনির নাম শোনা যাচ্ছে।

নেত্রকোনা- ১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, নেত্রকোনা- ২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. আনোয়ার, নেত্রকোনা- ৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম হেলালী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ আলমগীর ও জি-৯ এর সদস্য হায়দার আহমেদ খান মন্টু, কেন্দুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দুলাল, নেত্রকোনা- ৪ (মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুড়ি-মদন) আসন থেকে সাবেক মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, নেত্রকোনা সরকারি কলেজের সাবেক জিএস মাসুদ রানা চৌধুরী, নেত্রকোনা- ৫ (পূর্বধোলা) আসন থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু তাহের তালুকদার ও ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন ইমরানের নাম শোনা যাচ্ছে।

শেরপুর- ১ (সদর) আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, শেরপুর- ২ (নালিতাবাড়ি-নকলা) আসন থেকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর- ৩ (ঝিনাইগাতি-শ্রীবর্দি) আসন থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেলের নাম শোনা যাচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ- ১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল করিম চুন্ন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহল, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হিলালি, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি ইসরাইল মিয়া ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওয়ালিউল্লাহ রাব্বানী; কিশোরগঞ্জ- ২ (কটিয়াদি-পাকুন্দিয়া) আসন থেকে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আসফাক আহমেদ জোন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রুহুল আমিন আকিল, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইদ্রিস আলী ভূইয়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শহীদুজ্জামান কাকন; কিশোরগঞ্জ- ৩ (তাড়াইল-করিমগঞ্জ) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. ওসমান ফারুক; কিশোরগঞ্জ- ৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসন থেকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান; জিয়াউর রহমান সরকারে থাকাকালীন সংসদ সদস্য ফরহাদ আহমদ কাঞ্চনের ছেলে বর্তমানে ড্যাবের নেতা ডা. ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ- ৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, বাজিতপুর পৌর বিএনপির সভাপতি এহসান কুফিয়া, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সালেহুজ্জামান রুনু খান এবং সাবেক এমপি মজিবুর রহমান মঞ্জুর ছেলে মাহমুদুর রহমান উজ্জ্বল এবং কিশোরগঞ্জ- ৬ (কুলিয়ারচর-ভৈরব) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি শরিফুল আলমের নাম শোনা যাচ্ছে।

জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ারেছ আলী মামুন এ প্রসঙ্গে  বলেন, যতদূর জানি মনোনয়নের বিষয়টি মূলত চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকেই হয়। দলের মহাসচিবও বলেছেন বিএনপি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে সহায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

প্রার্থী চূড়ান্তের ক্ষেত্রে দলের প্রতি যাদের আনুগত্য আছে তাদের মূল্যায়ন করা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, মনোনয়নের বিষয়টি মাননীয় চেয়ারপারসন ও মহাসচিব বলতে পারবেন। তবে আমাদের প্রস্তুতি আছে। আমাদের চেয়ারপারসন ও মহাসচিব যেভাবে বলছেন সবকিছু সেভাবে হলে তিনশ আসনেই আমরা জয়ী হব। প্রতিটি আসনে ইনশাআল্লাহ ভালো ও ত্যাগী প্রার্থী দিতে পারব।

তিনি আরও বলেন, ঘরোয়াভাবে মনোনয়নের কাজ চলছে। প্রার্থীরা যার যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করছেন মনোনয়নের টিকিট নিশ্চিত করতে। কেন্দ্র থেকে যেভাবে নির্দেশনা আসবে সেভাবেই কাজ করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।

 

janatarpratidin.com /Md. Bappy /07 May 2017

 

সর্বশেষ