শিরোনাম

ময়মনসিংহে নারী সমাবেশে গৃহবধূদুরা ‘মরবো তবু কুড়েঘর ছাড়বো না’

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:৫৪:৪০ অপরাহ্ণ - ২৮ এপ্রিল ২০১৭ | ১৭২

যে শহরে আমরা থাকতে পারবো না, কুড়েঘর ছাড়বোনা কংক্রিটের শহর চাই না। আমাদেরকে উচ্ছেদ করে নতুন শহর গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দিবো না। আমরা জেলে যাবো, মরবো তবু কুড়েঘর ছাড়বো না। পুরুষদের হয়রানি করা হলে নারীরাই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ময়মনসিংহের চরাঞ্চলের নারীরা।
ময়মনসিংহ বিভাগের প্রশাসনিক ও নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের বসত ভিটা রক্ষার দাবিতে শুক্রবার বিকালে সদর উপজেলার জয়বাংলা বাজারে আয়োজিত এক নারী সমাবেশ বক্তরা এসব কথা বলেন।
নারী বক্তারা বলেন, এ মাটিতে কূড়েঘরে জন্মেছি  সাত পুরুষের ভিটা চরাঞ্চল। আমাদের বাবা-মায়ের করব এ মাটিতে। এ আন্দোলন আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন। নারী সমাবেশে বক্তরা বলেন, চরের মানুষ হিসাবে আমরা গর্বিত। নিজেদের বসত ভিটায় থাকতে চাই। এব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের প্রস্তাবিত নকশার পরিবর্তে বসতভিটা রক্ষা কমিটির ‘বিকল্প’ প্রস্তাব অনুযায়ী নতুন শহর গড়ার দাবিতে বসতভিটা রক্ষা কমিটির সাত মাস ধরে চলমান আন্দোলনের কর্মসুচীর অংশ হিসেবে নারীদের প্রথম এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মোক্ষপুর কলেজের অধ্যক্ষ নুরজাহান পারভীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ময়মনসিংহ জেলা শাখা সভাপতি ফেরদৌস আরা মাহমুদা হেলেন, সাধারণ সম্পাদক মনিরা বেগম অনু, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদা বেগম সাজু, কাশিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহীনা খাতুন, চরগোবিন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাহবুবা কামরুন্নাহার, চরগোবিন্দপুরের উম্মে রোকাইয়া অনিকা ও সালেমা খাতুন, চরআনন্দিপুরের নাজমা আক্তার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, ধর্মমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারি আবু সায়িদ, বসতভিটা রক্ষা কমিটির আহবায়ক ও ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়ের ভাইস প্রিন্সিপাল সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বাচ্চু এবং চরআনন্দিপুরের শহিদুল ইসলাম, শাহজাহান। সমাবেশে চরাঞ্চলের কয়েক হাজার নারী দলে দলে যোগদান করেন।
সমাবেশে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপাড়ের তিনটি ইউনিয়নের চার হাজার ৩৩৬ একর ভূমি নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার। যা বাস্তবায়িত হলে ৬০ হাজার মানুষ, ২৮ হাজার বাড়িঘর, ৪৭৫টি পারিবারিক কবরস্থান, ৩০টি সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি হাইস্কুল, ৬টি ঈদগাহ মাঠ, পাঁচটি বাজার, ৪৭টি মসজিদ, ২৫টি মাদরাসা, চারটি মন্দির, দু’টি মাজারসহ বৃক্ষরাজি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হবে।
সমাবেশে উপস্থিত একাধিক নারী জানান, বিগত ৯/১০ মাস ধরে প্রশাসনের নির্দেশে তিনটি ইউনিয়নের সাতটি গ্রামে জমি বেচা-কেনা ও নতুন বাড়িঘর নির্মাণ বন্ধ রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ে-সাদী হচ্ছে না। উচ্ছেদের ভয়ে একাধিক বিয়ে ভেঙে গেছে।
উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ বিভাগের উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রথমে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে এক হাজার দুইশত কুড়ি একর জমিতে নতুন শহর গড়ার নকশা প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে ওই নকশা বাতিল করে নতুন নকশা অনুযায়ী চার হাজার ৩৬৬ একর ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকেই চরাঞ্চলের মানুষ উচ্ছেদের আশঙ্কায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে বিগত সাত মাস ধরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ লাগাতার কর্মসুচী পালন করে আসছেন।

সর্বশেষ