শিরোনাম

মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা দিলেন এরশাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪:৪৩:২৪ অপরাহ্ণ - ০৭ মে ২০১৭ | ৩৬৯

আজ রোববার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে নাম সর্বস্ব কয়েকটি ইসলামি দলকে বুকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা দেন এক সময়ের সেনাপ্রধান ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরপরই রাজনীতিপাড়ায় ফের আলোচনায় আসে সেই ডিগবাজির এরশাদ!

অনেকে হাস্যরস করে বলছেন,  অবশেষে এরশাদ জান্নাতে যাওয়ার পথ ধরেছেন। জোট বেঁধেছেন আলেমদের সঙ্গে। তাও আবার একটি কিংবা দুটি নয়, ৫৮টি ইসলামি দলের সঙ্গে। ৫৮টি শেষ নয়, এই জোটকে সম্প্রসারিত করতে এরশাদের দরবারে সবার জন্য দরজা খোলা।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে বেশ জোর দিয়েই বলেছেন, আমাদের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে যারা একমত পোষণ করবে তাদের জন্যও আমাদের এ জোটের দরজা খোলা থাকবে।

২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ইস্যুতেও এরশাদ কতই না ভেল্কিবাজি দেখিয়েছিলেন। সেই কথা ফের মিডিয়া ও গণমাধ্যমে বেশ আলোচনা হচ্ছে। যা সবারই মনে আছে। সে সময় এরশাদ বলেছিলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে তিনি কোনো নির্বাচন করবেন না। এমন কথার আলোচনা শেষ না হতেই তিনি কণ্ঠ উচ্চকিত করে বললেন, এই সরকার নাস্তিকদেরকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তাদের  সঙ্গে আর কোনো আপস নয়। সব শেষে বলেছিলেন, সব দল না এলে তার পক্ষে শেখ হাসিনার সর্বদলীয় সরকারে যোগদানের প্রশ্নই ওঠে না। এরপরই তিনি প্রমাণ করলেন, এরশাদ অবস্থা দেখেই ব্যবস্থা নেন। তাই নির্বাচনে গেলেন, হলেন বিরোধীদলও!

রোববার সকালে মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ দূত বলেন, এই জোট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রেখে মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক মুক্তি, ইসলামী মূল্যবোধ তথা অন্যান্য ধর্ম বিশ্বাসীদের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে একটি আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই হবে লক্ষ্য। আমরা নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলব। কেউ কারো ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করবো না ।

তিনি আরও বলেন, ‘জোটের অন্তর্ভুক্ত দলের ক্ষেত্রে যেকোনো নির্বাচনে নিবন্ধিত দলের প্রতীক ব্যবহারের বিষয়টি উন্মুক্ত থাকবে। এই জোট জাতীয় নির্বাচনসহ সকল পর্যায়ের নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশগ্রহণ করবে। ফল যাই হোক জোট মেনে নিবে।’

এদিকে জাতীয় পার্টির সূত্রে জানা যায়, মোট ৫৮টি দল থাকছে এরশাদের জোটে। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির বাইরে নিবন্ধিত দল শুধু ইসলামিক ফ্রন্ট। এটি নিবন্ধিত হলেও নামসর্বস্ব। দেশের কোথাও এদের প্রভাব প্রতিপত্তি নেই। আর ইসলামি নাম থাকলেও এই ভাবধারার মানুষদের মধ্যেই নেই এর তেমন পরিচিতি। আর বাকি দলগুলো আজই শুনেছেন বলে উপস্থিত অনেক নেতাকেই মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

 

janatarpratidin.com /Md. Bappy /07 May 201

 

সর্বশেষ