শিরোনাম

ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হবে

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫:২১:০৬ অপরাহ্ণ - ২৯ এপ্রিল ২০১৭ | ৪২৩

আসছে বাজেটে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা হলে ব্যবসায়ীরা নানা হয়রানির শিকার হবে। যার প্রভাব দ্রব্যমূল্যের ওপর পড়বে। এমনটাই জানালেন, ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাশেম খান। শনিবার দুপুরে মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার মিলনায়তনে আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন ভ্যাট আইনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে মন্তব্য করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, এসএমই কে চাঙ্গা রাখতে হলে ভ্যাট কোন পর্যায়ে রাখা যায়, তা সবার মতামত এবং আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে। নতুন ভ্যাট আইনে কিছু বিষয়ে পরিবর্তন করলে এসএমই খাতের ব্যবাসায়ীরা বেশি সুবিধা পাবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্দেশে আবুল কাশেম বলেন, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর নিয়ে এনবিআর কারো সঙ্গে বসছে কি না জানিনা।তবে এখন পর্যন্ত ডিসিসিআই থেকে কোন পরামর্শ নেয়া হয়নি। এছাড়াও ভ্যাট আইন কার্যকরে ভ্যাট কমিশনারকে বাড়তি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এতে ক্ষমতার অপব্যবহার হতে পারে। ব্যবসায়ীরা অনেক হয়রানির শিকার হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কিছু কিছু ব্যবসায়ী ভ্যাট ও কর ফাঁকি দেবে এটাই স্বাভাবিক। তাই সব ব্যবসায়ীদের দোষ দেয়া যাবেনা। আমাদের দিকটা এনবিআরের দেখতে হবে। ভ্যাট আরোপের বিষয়টি নিয়ে এনবিআরের আরেকটু ভাবা উচিত। প্রয়োজনে আমাদের কোন মতামত চাইলে আমরা তাদের সঙ্গে যেকোন সময় বসতে রাজি আছি। তারপরও ভ্যাট আইন কার্যকরে যেন কোন ব্যবসায়ী হয়রানির শিকার না হয়।

প্রতিটি দোকানে ইসিআর মেশিন বসানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার প্রতিটি দোকানে ইসিআর মেশিন বসিয়ে ভ্যাট আদায় করা কঠিন হয়ে পড়বে। দেশে প্রায় ৬০ লাখের মতো দোকান রয়েছে । সবগুলো দোকানে এই মেশিন বসানো এবং ব্যবসায়ীরা এটা পরিচালনার জন্য আলাদা লোক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাছাড়া অধিকাংশ দোকানেই এখন পর্যন্ত হিসাব সংরক্ষণ পদ্ধতি নেই।

এর বিকল্প হিসেবে  আবুল কাশেম আরো বলেন, দেশে সবাই মোবাইল ফোন ব্যাবহার করেন। তাই মোবাইল ফ্যোনে অ্যাপস ব্যবহার করে ভ্যাট আদায় সিস্টেম চালু করার পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা রয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা করার দাবি জানানো হয়। আসন্ন বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে নারী ও বয়স্ক (৬৫ বছর) করদাতার ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। এটা আগে ছিল চার লাখ ২৫ হাজার টাকা।

ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আয়কর সীমা বৃদ্ধির যুক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে, বর্তমানে মানুষের জীবন-যাত্রার ব্যয় বেড়েছে। ফলে করমুক্ত আয়ের সীমাও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ সময় ঢাকা চেম্বারের সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম রেজাউল কবিরসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

 

janatarpratidin.com /Md. Bappy /29 April 2017

সর্বশেষ