শিরোনাম

বয়সের ভারে কাবু সুফী’র মৃত্যু যখন কড়া নাড়ছে দরজায়

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩:৩৬:৫৪ অপরাহ্ণ - ২০ মে ২০১৭ | ৩৩৫

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী, ময়মনসিংহ :
ময়মনসিংহ নগরীরর জিরো পয়েন্টের সামনে ৮০ থেকে ৮৫ বছর বয়েসী এক বৃদ্ধ নারী নির্বাক দৃষ্টি নিয়ে শুয়ে আছেন তিনি স্বামী, সন্তান হারা, ভুমিহীন, ঘরহীন বৃদ্ধ নারী নেই খাবর, নেই বস্ত্র ও পোষাক।
ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী গ্রামে তার বাড়ি বলতে পারে না কোথায়। অঝরে কাঁদেন স্বামী হারানোর বেদনায়, সম্ভ্রম হারানোর বেদনায়। ভুমিহীন ঘরহীন এই নারীর দিন কাটছে নানা কষ্টে।
বয়স ৮০ পেরিয়ে গেলেও এই বয়সে তাকে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। আর ঘুনে ধরা কুসংস্কারাচ্ছন্ন এই সমাজের প্রতি রয়েছে তার তীব্র ক্ষোভ।
ঠিক মতো হাটা চলাও করতে পারেন না সুফী। তারপরও এক মুঠো ভাতের জন্য ছুটতে হয় গ্রাম থেকে শহরে। বয়সের ভারে কাবু সুফী’র মৃত্যু যখন কড়া নাড়ছে দরজায়, তখন নিত্য যুদ্ধ পেটের খোরাক জোগাড় করতে।
তবে কোন কোন দিন না খেয়েও দিন পার করেন তিনি। বিধবা, দুই ছেলে তবুও খোজ খবর নেই। ছেলেদের সংসার ঠিকমতো না চলার কারণে তিনি এই বৃদ্ধ বয়সে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে বেড়ান।
বয়সের কারণে ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। লম্বা দীর্ঘদেহী এই নারী এখন হামাগুড়ি দিয়ে হাটেন। সুফী জানালেন, তার বয়স এখন একশ ছুঁই ছুঁই। বিধবা বা বয়স্ক ভাতার কোনটাই তিনি পান না। বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য কত নেতা আর জনপ্রতিনিধিদের দারস্থ হয়েছেন। কেও কথা আমার রাখেনি।
আক্ষেপ করে সুফী জানালেন, ভিক্ষুক পুনর্বাসনের তালিকায়ও তার নাম ওঠেনি। কত মানুষকে অনুনয় বিণয় করলাম একটা কার্ডের জন্য। কেও আমার কথা শোনেনি।
শনিবার নগরীরর জিরো পয়েন্টের সামনে মাথা গুজে বসে ছিলেন সাহায্যের জন্য। সেখানেই কথা হয় তার সাথে। এর কিছুক্ষন পরে শুয়ে পরেন জিরো পয়েন্টের চত্বরে।
জিরো পয়েন্ট মোড়ে এক ব্যাবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, খুব অসহায় একজন মহিলা। এই বয়সে যদি তিনি সরকারী সাহায্য না পান, তবে অন্যায় করা হবে।

 

janatarpratidin.com / Md. Bappy / 20 May 2017

 

সর্বশেষ
%d bloggers like this: