শিরোনাম

বৈশাখকে সামনে রেখে বেড়ে যাচ্ছে ইলিশের দাম

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:৩৭:৫৩ অপরাহ্ণ - ৩১ মার্চ ২০১৮ | ৩০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বেড়ে যাচ্ছে ইলিশ মাছের দাম। সরবরাহ বাড়ায় সবজিতে স্বস্তি রয়েছে ভোক্তাদের। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ ও আটার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির। রসুনের দাম কমলেও বেড়েছে আদার।
শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, কাপ্তান বাজার, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট এবং মিরপুর সিটি কর্পোরেশন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাজার করতে এসে ভোক্তাদের দৃষ্টি ছিল ইলিশ মাছের দিকে। মাছটি না কিনলেও অনেককে দাম জিজ্ঞাস করতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানালেন, বৈশাখ সামনে রেখে এখন ইলিশ মাছের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। ভোক্তারাও সুবিধা মতো ইলিশ সংগ্রহ করছেন। এ কারণে মাছটির চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়ে যাচ্ছে। ৫০০ গ্রাম সাইজের একটি ইলিশ গত সপ্তায় ৬০০ টাকায় বিক্রি হলেও সেই মাছ পেতে এখন ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ৭০০-৭৫০ টাকা পর্যন্ত।
এছাড়া এককেজি সাইজের ইলিশ ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, এবছর ইলিশের সরবরাহ যথেষ্ট ভাল। এবার শীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। এখনও ধরা পড়ছে। সারাবছর ইলিশ মাছের দাম স্বস্তির মধ্যে ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বৈশাখ সামনে রেখে মাছের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কৃত্রিম সঙ্কটের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মাছ নিয়ে ব্যবসায়ীদের এক ধরনের কারসাজি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ভোক্তারা।
কাওরান বাজারের ইলিশ মাছ বিক্রেতা রহমত উল্লাহ জনকণ্ঠকে বলেন, পাইকারি বাজারে মাছের দাম বেশি। এ কারণে খুচরায় দাম বেড়ে গেছে। প্রতিবছর বৈশাখ মাসের আগেই ইলিশ মাছের দাম বেড়ে যায়। ভোক্তাদের বাড়তি চাহিদার কারণেও দাম বাড়ে। তবে বাজারে ইলিশ মাছের দাম বাড়লেও দেশীয় জাতীয় রুই, কাতলা, মৃগেল, চিংড়ি, শিং, টাকি মলা, কাচকিসহ অন্যান্য মাছের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়। এছাড়া গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আটা, চিনি, ডিমসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যেও দাম স্থিতিশীল থাকলেও সবজির বাজারে স্বস্তি রয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সবজি উঠায় চাপ কমেছে শীতকালীনটির। সবজির বাজারে দেখা যায়, বেগুন (কালো) ৩০ টাকা (সাদা) ৩৫ টাকা, করলা ৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ৪০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা, সজনে ডাটা ৭০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা এবং শসা ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া গত দু’সপ্তাহ ধরে চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন ফসল উঠলে চালের দাম আরো কমে আসবে। বৈশাখ মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে উঠতে শুরু করবে নতুন ধান। তখন ৬২ থেকে ৬৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মিনিকেট চাল ৬০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন চাল ব্যবসায়ীরা। এছাড়া মোটা চালও ৪০ টাকার নিচে নামতে পারে। বাজারে স্বর্না চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৩ থেকে ৪৭ টাকা, বি আর-২৮ চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, মিনিকেট মানভেদে ৬২ থেকে ৬৪ টাকা এবং পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে। কাপ্তান বাজারের চাল ব্যবসায়ী মো. নুরুদ্দীন জনকণ্ঠকে বলেন, আপাতত চালের দাম আব বাড়বে না। শীঘ্রই ইরিসহ নতুন ধান কাটা শুরু হবে। সাধারনত নতুন ধান কাটা শুরু হলে চালের দাম কমে যায়। তিনি বলেন, জাত ও মানভেদে মোটা চাল ৪৩-৪৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে সয়াবিন লুজ ৮৫-৮৮ টাকায় প্রতিলিটার, বোতলজাত পাঁচ লিটার ৪৮৫-৫২৫, পামওয়েল লুজ ৭০-৭২, পামওয়েল সুপার ৭৩-৭৫, মসুর ডাল কানাডা তুরস্ক মোটা দানা ৬০-৭০, ডাল উত্তম মানের নেপালী ১১০-১২০, এ্যাংকর ডাল ৫০-৫৫, ছোলা ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সর্বশেষ
%d bloggers like this: