শিরোনাম

বেনা‌পোল কাস্টমসের চোখ এড়িয়ে ভারতের একটি বাস তিন সপ্তাহ্ ধরে যাত্রী বহন করেছে (ঢাকা-বেনাপোল) রুটে!

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:১৩:৪৪ অপরাহ্ণ - ১৩ মে ২০১৮ | ৩০৭

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ

ভারতের একটি বাস গত তিন সপ্তাহ্ ধরে যাত্রী বহন করে আসছে ঢাকা-বেনাপোল রুটে । বেনা‌পোল কাস্টমসের চোখ এড়িয়ে বাস‌টি বাংলা‌দে‌শের ঢুকে পড়ে।চলে যায় রাজধানীর ঢাকা পর্যন্ত।এটা কি করে সম্ভব হলো? কাস্টমস্ বলছে এরা কৌশল করে ঢুকেছে

বাসটি বে-আইনিভাবে ঢোকার পর সীমান্ত পার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিল না। সুযোগ না পেয়ে ঢাকা-বেনাপোল রুটে যাত্রী পরিবহন করছিল বাস‌টি। বাংলা‌দে‌শ-ভারতের ম‌ধ্যে প্রটোকল অনুযা‌য়ী, কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে আগরতলা রুটে একই রকম এক‌টি বাস বর্তমানে চালাচ্ছে গ্রিনলাইন। এর আগে শ্যামলী চালাতো বাসটি।

বিষয়‌টি বিআরটিসির নজরে আসার পর জানানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। এরপর বাসটি (নম্বর-ডব্লিউবি ২৩ডি৬৮১২) আটক করে কমলাপুর আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনালে রাখেন বিআরটিসির কর্মকর্তারা।

কমলাপুর আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনালের যেখানে এ বাসটি রাখা হয় সেখানেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ডব্লিউবি-২৩০১২০৩ ও ডব্লিউবি- ২৩ডি৬৮১২ নম্বরট্লেটের ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের দু’টি বাস। দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী বাস দুটি ঢাকা-বেনাপোল রুটে যাতায়াত করছে।

আটক করা বাসটি ঢাকা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী আনা-নেওয়া করছিল গত তিন সপ্তাহ ধরে। এ রুটে চলার জন্য বাসটিকে বাংলাদেশ অনুমতি দেয়নি।কেবলমাত্র সৌহার্দ্য প‌রিবহ‌নের এক‌টি বাসের কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে আগরতলা পর্যন্ত চলার অনুমতি দেয়া আছে।

বেনপোল কাস্টসম কর্মকর্তারা বলছেন এটা অসম্ভব, কীকরে দু’টি সৌহার্দ্য বাস বাংলাদেশের ভেতরে এক সাথে ঢুকলো?

১০ মে সন্ধ্যায় বেনাপোল কাস্টমস-এর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ রকম ঘটনা ঘটার কথা নয়। তারপর ও তদন্ত করে দেখা হবে।

দুই দেশের সরকারি পরিবহনের চুক্তি অনুযায়ী, কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে আগরতলা রুটে সৌহার্দ্য প‌রিবহ‌নের এক‌টি বাস চলাচল করার কথা। এর বাইরে বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের কোনো বাস চলবে না।

দুই দেশের সরকারকে ফাঁকি দি‌য়েই সৌহার্দ্য না‌মে অনুমোদনহীন বাস‌টি বাংলা‌দেশে ঢু‌কে পড়েছে। এতে ভারত সরকার যেমন রাজস্ব হারা‌চ্ছে। তেমনি বাংলাদেশ সরকারও পড়েছে বিব্রতকর অবস্তায়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়্যারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়টা জানিয়েছেন। বিষয়টা এখন দেখবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও বলেন, দু’দেশের রুটে চলাচলের ক্ষেত্রে ছয় মাস পরপর দ্বিপাক্ষিক রিভিউ মিটিং হয়। কিছুদিন আগে কলকাতায় রিভিউ মিটিংয়ে এ রকম বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।সেখানে নিয়মের বাইরে কোনো বাস যেন এসব রুটে না চ‌লে সেটা নি‌শ্চিত কর‌তে বলা হয়েছিল।

রিভিউ মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রটোকলের বাইরে গাড়ি চললে তার ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠিও দিয়েছে বিআরটিসি কতৃপক্ষ। চিঠিতে প্রটোকল-স্বাক্ষর অনুযায়ী যেসব বাস চলবে সেসব বাসের নম্বর ও সময়সূচিও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাসটি সরকারি নির্দেশে ঢাকা থেকে বেনাপোল কাস্টমসের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কাস্টমস বাসটিকে প্রথমে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখে। পরে মোটা অংকের জরিমানা ও শর্ত সাপেক্ষে মুচলেকা দিয়ে বাসটি ভারতে ফেরত পাঠায়।

আগামী সেপ্টেম্বরে ঢাকায় রিভিউ মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানানো হয়।

সর্বশেষ
%d bloggers like this: