শিরোনাম

বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ সড়কের আজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩:০৪:১৬ পূর্বাহ্ণ - ০৬ মে ২০১৭ | ১৩৯

উদ্বোধনের অপেক্ষায় কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত নির্মিত মেরিন ড্রাইভ সড়ক। ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের দুইপাশে রয়েছে ওয়াক ওয়ে ও শেডসহ নানা সুবিধা। সেনাবাহিনীর ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে শেষ হয়েছে এর নির্মাণকাজ।

কক্সবাজারের ১৯৯৩ সালে শুরু হওয়া বিশ্বের দীর্ঘতম এ সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে সম্প্রতি। প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী বছর। কিন্তু এক বছর আগেই তা শেষ হয়ে গেছে।

আগামী ৬ মে সমুদ্র সৈকত, পাহাড় ও জনপথ ঘেরা এ মেরিন ড্রাইভ সড়কটির অানুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ এলাকার জেলেরা সাগর থেকে আহরিত মাছ নিয়ে এখন যে কোনো সময় যে কোনো ধরনের যানবাহনে করে নিকটবর্তী হাট বাজার, উপজেলা কিংবা সারাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। যেখানে কোনো কাঁচা সড়ক পর্যন্ত ছিল না সেখানে বর্তমানে দুই দুইটি পাকা সংযোগ সড়ক, অসংখ্য ইট বিছানো রাস্তা।

কক্সবাজারের কলাতলী থেকে উখিয়ার ইনানী-মনখালী হয়ে টেকনাফের শামলাপুর থেকে টেকনাফ সদর জপর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৮০ কিলোমিটারের দুইটি পাকা সড়ক। বিস্তৃর্ণ এলাকার মানুষগুলোর দুঃখ কষ্ট লাঘবের পাশাপাশি পাল্টে যাচ্ছে তাদের জীবনযাত্রা, পর্যটক সহ আর্থসামাজিক কাঠামো গত সার্বিক উন্নয়ন চিত্র।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উখিয়ার ইনানীতে সেনাবাহিনীর অবকাশ কেন্দ্র বে-ওয়াচ সংলগ্ন এলাকায় শনিবার দুপুর নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের দীর্ঘতম নব নির্মিত এ মেরিন ড্রাইভ রোডের উদ্বোধন করবেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইঞ্জিনিয়ারিং কোর ব্যাটলিয়ান বা ইসিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে মেহেদি হাসান মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ ২৬ বছরের পরিশ্রম আর মেধার সমম্বয়ে সেনাবাহিনীর ইসিবি দীর্ঘ এ সড়কটি নির্মাণ করতে পেরেছে। এটি নির্মাণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের গর্বিত ৬ সেনা সদস্যকেও হারিয়েছে।  পাহাড় ধসের ঘটনায় ৬ জন সেনাসদস্য প্রাণ হারান।

এ দীর্ঘ সময় ধরে সেনা সদস্যদের প্রকৃতির সাথে নানা সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে জয়ী হতে হয়েছে। এ সড়কটি আরো দৃষ্টিনন্দন, মনোমুগ্ধকর ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে ইসিবির আরো ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কক্সবাজার সূত্রে জানা গেছে, ৪৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার-ইনানী-টেকনাফ মেরিনার্স সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রকল্পের দায়িত্বশীল সূত্রমতে, ২০১৪-২০১৭ অর্থবছরের জুন নাগাদ কক্সবাজার থেকে ইনানী হয়ে টেকনাফের শীলখালী পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০৩ কোটি ২১ লাখ টাকা।

তবে পর্যটনের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় টেকনাফ সদর পর্যন্ত সংযুক্ত করতে সড়কের দৈর্ঘ্য আরো ৩২ কিলোমিটার বৃদ্ধি করা হয়। এতে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয়সহ বিভিন্ন কাজের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫৬ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি পায় ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত।

কিন্তু সেনাবাহিনীর আন্তরিকতা, দক্ষতা, মেধা ও পরিশ্রমের ফলে নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় এক বছর আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

 

janatarpratidin.com /Md. Bappy /06 May 2017

এ বিভাগের জনপ্রিয় খবর

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর