শিরোনাম

বাণিজ্যিক ভাবে কুমির চাষ চামড়ার পর এবার মাংস রপ্তানি

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬:৪৪:৩৮ অপরাহ্ণ - ২৮ এপ্রিল ২০১৭ | ৪৮২

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী, ময়মনসিংহ  :
বানিজ্যিক ভিত্তিতে ময়মনসিংহের ভালুকায় উভচর সরীসৃপ প্রাণী কুমিরের চাষ হচ্ছে ১২বছর ধরে। ইতোমধ্যে উৎপাদিত কুমিরের চামড়া রপ্তানী হয়েছে বিভিন্ন দেশে। এবার মাংস রপ্তানীর ঘোষনা দিলেন উৎপাদকারী প্রতিষ্ঠান।
২০১০ সালের ৪ জুন থেকে প্রথম বারের মত এই খামারের উৎপাদিত কুমিরের চামড়া বিদেশে রপ্তানী করা হয়। গেল ৬ বছরে জার্মানীর হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শেষে রপ্তানী করা হয়েছে ১ হাজার ৩০টি কুমিরের চামড়া। ব্যবসায়ীদের মতে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটিকে আরো সম্প্রসারিত করা যাবে, আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন কুমির চাষ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি অন্যতম উৎস হতে পারে।
প্রথম দিকে দেশীয় আবহাওয়ায় এসব কুমিরদের বাঁচিয়ে রাখা, ডিম পাড়ানো, ডিম সংরক্ষন এবং তা থেকে বাচ্চা ফুটানো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। কিন্তু বিদেশ থেকে আনা কুমির গুলো অল্পদিনের মধ্যে আবহাওয়ার সাথে খাপ খাওয়ে উঠে। ডিম দেয় এবং তা থেকে বাচ্চা ফুটানো হয়।
কুমিরের চামড়া, মাংস, হাড়, দাঁত চড়া মূল্যে বিক্রি হয় আন্তর্জাতিক বাজারে। ফ্রান্স, জার্মানী, ইটালী, স্পেন সহ বিভিন্ন দেশে এগুলোর অনেক চাহিদা রয়েছে। ২০১০, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে বিভিন্ন দেশে ১ হাজার ৩০টি কুমিরের চামড়া রপ্তানী করা হয়েছে। প্রতিটি কুমিরের চামড়া ৬/৭’শ ডলার মূল্যে রপ্তানী করা হয়। ২০২০ সাল নাগাদ প্রতি বছর কুমিরের ১হাজার চামড়াসহ মাংস রপ্তানীর টার্গেট নেয়া হয়েছে বলে জানান এই প্রকল্প ব্যবস্থাপক।


রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবু সায়েম মোহাম্মদ আরিফ জানান, ভালুকা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে হাতিবের গ্রামে রেপটাইলস ফার্ম নামে ১৩ একর ৫৬শতক জমি ক্রয় করে ২০০৪সালের ২২ শে ডিসেম্বর ৭৪টি কুমির দিয়ে খামারটি শুরু করেন। মালয়েশিয়ার সারওয়াত থেকে সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫টি কুমির আনা হয়। এর মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৮টি কুমির মারা যায়। চাষ করার জন্য কুমির গুলো প্রকল্পের পুকুরে ছাড়া হয়।
কুমির গুলোর বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর ছিল। লম্বায় ৭ফুট থেকে সর্ব্বোচ ১২ফুট পর্যন্ত। কুমিরের গড় আয়ু ১০০বছর পর্যন্ত হয়। আমদানিকৃত কুমিরের মধ্যে ১৫টি পুরুষ কুমির রয়েছে। প্রতি মাসে এদের ৩০০ কেজি মাংস খাবার হিসাবে দেওয়া হয়। প্রতি বছরের (এপ্রিল-মে) মাসে স্ত্রী কুমির ৩০ থেকে ৪০টি ডিম দেয়।
ডিম ফুটতে সময় লাগে ৭০ থেকে ৮০ দিন। এখানে কৃত্রিম উপায়ে ডিম ফুটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে খামারে ৪০টি পুকুর রয়েছে। পরবর্তীতে আবারও মালয়েশিয়া থেকে দেড় কোটি টাকা দিয়ে ৪০টি ব্রিডার কুমির ক্রয় করে আনা হয়েছে। সবমিলে বর্তমানে এ খামারে ১০০টি ব্রিডার কুমির রয়েছে।


এছাড়া ফার্মের নিজস্ব উৎপাদিত বর্তমানে এই ফার্মে এখন কুমিরের সংখ্যা ছোট বড় মিলিয়ে ২ হাজার। যেগুলোর দৈর্ঘ্য ৫ফুট থেকে ৬ফুট পর্যন্ত লম্বা।
জলজ প্রানী চাষ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহাফুজুল হক জানান, কুমির চাষের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নয়ন করা সম্ভব।
জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ড. মো: আবতাফ হোসেন জানান, বাংলাদেশে কুমির চাষ আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় এর চামড়া ও মাংস বিদেশে রপ্তানী করে লাভজনক হওয়া সম্ভব। এর চাষ পদ্ধতি অত্যান্ত সহজ ও প্রতি সপ্তাহে কুমিরদের একবার করে খাবার দেয়ায় খরচও কম। কুমিরদের রোগ বালাইও খুব একটা হয়না বলেন প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা। কুমির প্রজেক্ট তদারকির কথাও জানান এই কর্মকর্তা।

সর্বশেষ