শিরোনাম

বাজেট টাজেট বুঝি না কম দামে ডাল-ভাত খেতে পারার সুযোগ চাই

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬:৫৩:২৪ অপরাহ্ণ - ০২ জুন ২০১৭ | ৩৯১

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী, ময়মনসিংহ :
সদ্য ঘোষিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দেশের ৪৬তম আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭তম এবং মুহিতের একাদশ বাজেট প্রস্তাব এটি।
স্মরণ কালের সর্ববৃহৎ এ বাজেটের আকার হচ্ছে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট। বছর যায়, বছর আসে, বাজেট হয়। কিন্তু গরিব, অসহায়, খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। চক্রবৃদ্ধি ভ্যাটের ফাঁদে পড়তে হয় দরিদ্র ও নির্দিষ্ট আয়ের ব্যক্তিরাই।
শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহ নগরীর মেছুয়া বাজার ও সানকি পাড়া রেল ক্রসিং বাজারে কথা হয় আসন্ন বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের সাথে।
কথা বলে জানা যায়, খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারেন, সে রকম বাজেটই প্রত্যাশা তাদের। এ ছাড়া, বাজেট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সরকারের ওপর অনেক দিনের পোষা ক্ষোভও ঝেড়েছেন কেউ কেউ।
সানকি পাড়া রেল ক্রসিং বাজারে মাছ বিক্রেতা জয়নাল আবেদিনের সাথে কথা হয় বাজেট নিয়ে। তিনি বলেন, ওসব বাজেট টাজেট বুঝি না। চাই বেঁচে থাকার অধিকার। কম দামে ডাল-ভাত খেতে পারার সুযোগ চাই। জিনিসপত্রের দাম যেন না বাড়ে, বাড়ি ভাড়া যেন না বাড়ে। এটাই আমরা বুঝি।
কথা হয় আরেক ভাসমান ব্যবসায়ী শাহজাহান পারভেজের সঙ্গে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ভাই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিশ্রম করেও পরিবারকে তিন বেলা ঠিক মত খেতে দিতে পারি না। আর আপনি এসেছেন বাজেটের খবর নিতে। আপনাদের কাজই তো এটা করার। আপনাদের দোষ কিসের?
আলাপকালে কয়েকজন সাধারণ মানুষ জানান, বিড়ি-সিগারেটের ওপর আরো করারোপ করা দরকার। যাদের জন্য বাজেট, তাদের কণ্ঠ অনেক সময়েই শুনতে পান না অর্থমন্ত্রী। প্রতিবছর বাজেটে অনেক খটমট শব্দ ব্যবহার করা হয়। সাধারণ মানুষ তার মর্ম তাৎক্ষণিকভাবে বুঝে উঠতে পারে না। তবে বছরজুড়েই থাকে এর রেশ। টেস্ট বা টি ২০-এর মানে কেউ যদি না জানেন, তবে ক্রিক্রেট খেলা দেখে তিনি কী মজা পাবেন ?
নগরীর মেছুয়া বাজার এলাকার শবজি বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম তার সাথে কথা হয় বাজেটের বিষয়ে। তিনি বলেন, বাজেট দেইখ্যা সময় নষ্ঠ করার আমগর সময় নাই। আমরা যা চাইমু তাকি বাজেটে আইব। কোন জিনিসের দাম বাড়ে বাজারে আইলেই কাষ্টমার টের পায়। বাজেট আমগর লাইগা না ভাই উপর তলার মানুষের জন্য।
বৃহস্পতিবার ০১ জুন ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের জন্য বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ বছর বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২শ ৬৬ কোটি টাকা। গত অর্থ বছরের ২০১৬-২০১৭ বাজেটের আকার ছিলো ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। এবারের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ৯৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা।

 

janatarpratidin.com / Md. Bappy / 02 June 2017

 

সর্বশেষ
%d bloggers like this: