শিরোনাম

বাজেট ঘিরে উৎসবমুখর সংসদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬:১৬:৪১ অপরাহ্ণ - ০১ জুন ২০১৭ | ২৫৩

মহাজোট সরকারের চতুর্থ ও দেশের ৪৬তম বাজেট পেশ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সংসদভবন এলাকায় ছিল উৎসবের আমেজ। অধিবেশন কক্ষে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

আর উপস্থিত সংসদ সদস্যরা কক্ষে বসে বাজেট বক্তৃতা শুনেছেন, পাশাপাশি টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাচ্ছেন রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। যা অধিবেশনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।

বাজেট পেশ উপলক্ষে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল অধিবেশন কক্ষ। সংসদ গ্যালারি থেকে ভিআইপি লাউঞ্জ সর্বত্রই ছিল উপচেপড়া ভিড়। সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিজের জীবনের ১১তম বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী।

ঘড়ির কাঁটায় ১টা ৩৫ মিনিটে বাজেট বক্তব্য শুরু করেন তিনি (অর্থমন্ত্রী)। বক্তৃতার আগেই জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বাজেট অনুমোদন করা হয়।

রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ সংসদে নিজ কক্ষে বসে বাজেট উপস্থাপন প্রত্যক্ষ করেন। রাষ্ট্রপতিকে সংসদ ভবনে স্বাগত জানান সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। সংসদ কার্য-উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪৫ ঘণ্টা আলোচনার পর আগামী ২৯ জুন বাজেট পাস হবে।

বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীসহ সিনিয়র সদস্যদের প্রায় সবাই অধিবেশনে অংশ নেন।

অন্যদিকে, ভিআইপি গ্যালারিতে ছিলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর, পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ।

এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরাও অধিবেশন কক্ষের নির্ধারিত চেয়ারে বসে বাজেট বক্তৃতা প্রত্যক্ষ করেন। তাদের মাঝে অর্থমন্ত্রীর ইংরেজিতে প্রিন্ট করা বাজেট বক্তৃতা সরবরাহ করা হয়। গত সংসদে বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে ছায়া বাজেট দেয়া হতো। কিন্তু এবার বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। অধিবেশন কক্ষে শান্তভাবেই তারা প্রত্যক্ষ করেন বাজেট বক্তৃতা।

নবম জাতীয় সংসদে মহাজোট সরকারের পাঁচটি বাজেট বিরোধী দল বর্জন করলেও এবারের চিত্র ছিল ভিন্ন। রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় সদস্যরা বাজেট উত্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০০৯-১০, ২০১০-১১, ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন বর্জন করে তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি।

আর সর্বশেষ ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপনের আগে বিরোধী দল অধিবেশনে যোগ দিলেও বাজেট উত্থাপনের দিন তারা অধিবেশন কক্ষে যাননি। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে বসে তারা বাজেট বক্তৃতা শোনেন।

বাজেট পেশ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন এলাকায় ছিল উৎসবের আমেজ। নেয়া হয়েছিল বাড়তি নিরাপত্তা। এদিকে, অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার পর আমন্ত্রিত অতিথিরা যাতে নির্বিঘ্নে বের হতে পারেন সেজন্য সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার পিজিয়ন হলের গেটটিও খোলা রাখা হয়েছিল।

আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল আলাদাভাবে। তাদের আগমন উপলক্ষে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। একমাত্র বৈধ পাস ছাড়া আর কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি সংসদ ভবন এলাকায়। এমনকি দর্শক গ্যালারিতে পাস ইস্যুতেও ছিল কড়াকড়ি।

র‌্যাব-পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য পুরো ভবনে নিরাপত্তা ঘেরাটোপ গড়ে তোলেন।

 

janatarpratidin.com / Md. Bappy / 01 June 2017

 

সর্বশেষ
%d bloggers like this: