শিরোনাম

বর্ষবরণকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করতে মুকুল নিকেতন স্কুলে দিন রাত চলছে কারুকাজ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:২৮:৩৫ অপরাহ্ণ - ১২ এপ্রিল ২০১৮ | ৩০৫

স্টাফ রিপোর্টার : বাঙ্গালী চিরত্তণ ঐতিহ্য বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ এর ১লা বৈশালকে বরণ করতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বর্ষবরণ উৎসব উদযাপন পর্ষদের উদ্যোগে ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ময়মনসিংহের ব্যবস্থাপনায় বিশাল মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন করা হবে। এ লক্ষ্যে ১৪ এপ্রিল সকাল আটটায় শহরের সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবি, ছাত্র সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ মুকুল নিকেতন স্কুলে জমায়েত হবে। শোভাযাত্রা সফল করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুকুল নিকেতন স্কুলে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপন পর্ষদের আয়োজনে প্রেস ব্রিফিং করা হয়। ব্রিফিংয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহবায়ক অধ্যক্ষ আমীর আহাম্মেদ চৌধুরী রতন মঙ্গল শোভাযাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মমতাজ উদ্দিন মন্তা, সাংস্কৃতিক জোটের নেতা এডভোকেট আব্দুল মোতালেব লাল, ময়মনসিংহ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউল করিম খোকন, সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম মোস্তফা, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বর্ষবরণকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করতে মুকুল নিকেতন স্কুলে দিন রাত চলছে কারুকাজ। রংতুলি, কাঠ মিস্ত্রিরা ব্যস্তুার মধ্যে দিন পার করছে। যা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করছেন অধ্যক্ষ আমীর আহাম্মদ চৌধুরী রতনসহ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় গরুরগাড়ী, ঘোড়ার গাড়ী, মহিষের গাড়ী, পালকি, কুড়েঘর, জেলের দল, বাবুই পাখির বাসা, ডুলি, শিকা, কুলা, লাঙ্গল-জোয়াল, পলো, হুক্কা, মাতলা, বুইন্দা, বাইর, উড়ি, খালই,ডাল ভাঙ্গার যাতি, পাটের হাতা, খড়ের বেণী, খুইয়া জাল, তেšড়া জাল, শিপ জাল, পাটশোলা, টেডা, নাল বাত্তি, কৃষক-শ্রমিক, কামার, কুমার, চরকা, হাপড়, ধুনকর, ঢেঁকি, ঘুড্ডি-নাটাই, রাখাল, দই-মাঠাওয়ালা, হাওয়া-মিঠাই, বাইস্কোপ, লাঠিয়াল, দুন, ডোঙ্গা, বৈষ্ণব-বৈষ্ণবী, ঘটক, রাজা-রাণী, রাজা-উজির-সৈন্য, বর-কনে, বাউল, কবিয়াল, জারি দল, রাখাল বাঁশি, দোতারা বাদক, ন্যেকা, বেদে, শাপের খেলা, বানর খেলা, নাপিত, মুচি, লেইছফিতা, ফেরীওয়ালা, কাপড়-হাড়ি-পাতিল। এয়াড়াও রঙ্গিন ছাতা, বেলুন হাতে মেয়েরা, পশু পাখির দল, কলসীকাঁখে মেয়েরা, মেয়েদের প্রজাপতি দল, মুখোশ দল, বেলুন দল, হাত পাখা হাতে মেয়েদের দল, কুলা হাতে ধান ঝারা মেয়েদের দল, ধান মাড়াই দল, বাচ্চাদের বাঁশি দল, মহিলা বাঁশি দল, নকশী কাঁথা, কাঠমিস্ত্রি, ভেন্তী পানিওয়ালা, পুঁথিপাঠ, আদিবাসী সংস্কৃতি, রিক্সায় শাড়িবাধা নাইওর, ঢেঁকিতে ধান ভানা, নানা-নাতি, রানার, ভিক্ষুক, মুক্তিযোদ্ধা, ঢাক-ঢোল, খোল-করতাল, সানাই, ব্যান্ডপার্টিসহ গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য সম্বলিত জানা অৎানা আরো অনেক কিছুর সমন্বয়ে এ মঙ্গল শোভাযাত্রা সকাল সাড়ে আটটায় শুরু হবে। শোভাযাত্রাটি শহরের মুকুল নিকেতন থেকে শুরু হয়ে স্টেশন রোড, গাঙ্গিনার পাড়, নতুন বাজার, জেরা স্কুলের মোড়, টাউন হলের মোড় হয়ে আবুল মুনুসুর সড়ক হয়ে পার্ক এলাকা হয়ে সাহেব কোয়ার্টার বৈশাখী মঞ্চে শেষ হবে। বৈশাখী মঞ্চে বিশিষ্টজনরা শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণকারীদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাবেন। পরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সংগঠনগুলো নববর্ষকে নিবদন করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে। প্রেস ব্রিফিংকালে নববর্ষে সকল ধরণের বিশৃংখলা থেকে শহরবাসীকে মুক্ত রাখাসহ নিরবিচ্ছিন্ন আনন্দ দিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সহযোগীতা কামনা করেন অধ্যক্ষ আমীর আহাম্মদ চেšধুরী রতন। এর আগে নববর্ষে আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে সকল শ্রেণীপেশার মানুষদের নিয়ে পুলিশ সুপার এক মতবিনিময় করেন। এ সময় পুলিশ সুপার বলেন নববর্ষ উদযাপনে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সকল ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য তিনি নববর্ষের আগের দিন থেকে পরের দিন পর্যন্ত তিনদিনের বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। তবে সাংস্কৃতিককর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন বিকাল ৫টার মধ্যেই সকল অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে।

সর্বশেষ
%d bloggers like this: