শিরোনাম

বঙ্গোপসাগরে গোপন কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১:০২:২০ পূর্বাহ্ণ - ০৪ জুলাই ২০১৭ | ৩৮১

বঙ্গোপসাগর হল বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর। এটি ভারত মহাসাগরের উত্তরপশ্চিম অংশে অবস্থিত একটি প্রায় ত্রিভূজাকৃতি উপসাগর। এই উপসাগরের পশ্চিম দিকে রয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা, উত্তর দিকে রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ এবং পশ্চিম দিকে রয়েছে মায়ানমার ও ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। একাধিক বড়ো নদী এই উপসাগরে এসে মিশেছে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য গঙ্গা ও তার প্রধান দুই উপনদী পদ্মা ও হুগলি, ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদী যমুনা ও মেঘনা, ইরাবতী, গোদাবরী, মহানদী, কৃষ্ণা ও কাবেরী নদী। বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলি হল চেন্নাই, চট্টগ্রাম, কলকাতা, মঙ্গলা, পারাদীপ, টুটিকোরিন, বিশাখাপত্তনম ও ইয়াঙ্গন। বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার এই উপসাগরের তীরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে অবস্থিত।

বিশ্বের বড় বড় দেশগুলো শকুনি ‍দৃষ্টি পড়েছে এই বঙ্গোপসাগরে। লোকচক্ষুর আড়ালে বঙ্গোপসাগরের তীরে এক বিপুল কর্মযজ্ঞে শামিল হয়েছেন ভারতের বড় বড় বিজ্ঞানীরা। দিন-রাতের হিসেব না রেখে এক ছাদের নিচে জড়ো হয়েছেন ভারতের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীরা। এমনই এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের অনলাইন গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন। ওই বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পারমাণবিক গবেষণায় বহুদূর এগিয়ে যাবে ভারত। পাঠকদের জন্য যা হুবহু প্রকাশ করা হলো।

কিন্তু কী চলছে সেখানে?
গত ১৫ বছর ধরে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে চেন্নাইয়ের কালপাক্কামে এক দৈত্যাকার ‘হাই-টেক’ পারমানবিক চুল্লি তৈরির কাজ চালাচ্ছেন ভারতীয় বৈজ্ঞানিকরা। এবার সেই বিপুল কর্মযজ্ঞ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই এই খবর প্রকাশ্যে আনতেই দেশ জুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যাটমিক এনার্জির বিজ্ঞানীরা এই পারমাণবিক চুল্লিকে পৌরাণিক ‘অক্ষয় পাত্র’র সঙ্গে তুলনা করছেন। মাস্টার ফাস্ট এই ব্রিডার রি-অ্যাক্টর তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে। এই পারমাণবিক চুল্লি অন্যান্য প্রথাগত চুল্লি অনেক বেশি কার্যকরী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈজ্ঞানিকরা জানিয়েছেন, কালপাক্কামে সকলের অজান্তে যে চুল্লি তৈরি হচ্ছে, তাতে কম খরচে অনেক বেশি জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির(IAEA) ডিরেক্টর জেনারেল ইউকিয়া আমানো বলেছেন, “প্রথাগত পরমাণু চুল্লির চেয়ে এই ধরনের মাস্টার ফাস্ট ব্রিডার রি-অ্যাক্টরে অন্তত ৭০ শতাংশ বেশি শক্তি উৎপাদন করা যাবে। এর পাশাপাশি এই ধরনের রি-অ্যাক্টর অত্যন্ত নিরাপদ। এতে পরিবেশ দূষণ কম হয়।” গত ২৭ বছর ধরে ভারত একইরকম একটি ফাস্ট ব্রিডার ‘টেস্ট’ রি-অ্যাক্টর তৈরি করে কাজ চালাচ্ছিল। কিন্তু কালপাক্কামের নয়া চুল্লির কাছে ওই পরীক্ষামূলক চুল্লিটি নেহাতই ‘শিশু’। ‘প্রোটোটাইপ’ ফাস্ট ব্রিডার রি-অ্যাক্টরটি থেকে যে বিদ্যুৎশক্তি উৎপন্ন হবে তা বাণিজ্যিক কাজের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বে একটিমাত্র এরকম বাণিজ্যিক পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে। রাশিয়ার উরাল পাহাড়ে অবস্থিত বেলোয়ার্স্ক নিউক্লিয়ার (বিএন) পাওয়ার প্লান্ট। ১৯৮০ থেকে রাশিয়া এই বিএন ফাস্ট ব্রিডার রি-অ্যাক্টর মারফত শক্তি উৎপাদনে বিশ্বের প্রথম স্থানে রয়েছে। ২০১৬-ই রুশ সরকার আরও বৃহৎ, ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম বিএন৮০০-কে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের ছাড়পত্র দেয়। ইন্দিরা গান্ধী সেন্টার ফর অ্যাটমিক রিসার্চ বা IGCAR-এর অরুণ কুমার ভাদুড়ি বলেছেন, “কারেন্ট জেনারেশন নিউক্লিয়ার প্লান্টের তুলনায় এই ফাস্ট ব্রিডার রি-অ্যাক্টরগুলি ঢের বেশি নিরাপদ। সেই সঙ্গে অফুরন্ত বিদ্যুৎশক্তির জোগান দিতে পারে।” সেই কারণেই এই প্রকল্পকে ‘অক্ষয় পাত্র’ বলছেন বৈজ্ঞানিকরা।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

janatarpratidin.com / Md. Bappy / 03 July 2017

 

সর্বশেষ
%d bloggers like this: