শিরোনাম

ফরহাদ মজহার মুক্ত

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬:৫৬:৪৯ অপরাহ্ণ - ০৪ জুলাই ২০১৭ | ৪১৮

ফরহাদ মজহারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাকে নিজ জিম্মায় বাসায় যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে তাকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আহসান হাবিবের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন ফরহাদ মজহার।

জবানবন্দি শেষে একই আদালতে তার নিজ জিম্মায় মুক্তির জন্য করা আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদ মজহারের পক্ষে এই আবেদনটি করেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, জয়নাল আবেদিন মেজবাহ, জিয়াউদ্দিন জিয়া।

এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মাসুদ জামানের আদালতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথাছিল।

সোমবার নিখোঁজের ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগর থেকে উদ্ধার হওয়ার পর মঙ্গলবার ঢাকায় নিয়ে আসার পর আদাবর থানা হয়ে মিন্টো রোডে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয় ফরহাদ মজহারকে। সেখানে জিজ্ঞাসাবদ করা হয় তাকে। এরপর তাকে আদালতে পাঠানোর কথা ব্রিফিং করে জানায় পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন এই সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, ফরহাদ মজহার জানিয়েছেন, সোমবার ভোরে ওষুধ কেনার জন্য তিনি বাসা থেকে বের হলে কয়েকজন একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর উনি নিজের মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, ৩৫ লাখ টাকা দিলে উনাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। আমরা এখন জানার চেষ্টা করছি কারা উনাকে নিয়ে গিয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনের পর বেলা আড়াইটার দিকে ফরহাদ মজহারকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে জানিয়ে আবদুল বাতেন বলেন, তার জবানবন্দির ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার ভোরে শ্যামলীর নিজ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ফরহাদ মজহারকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। আর মোবাইল ট্র্যাকিং করে তার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করতে থাকে পুলিশ। দিনভর অভিযানের পর রাতে খুলনা থেকে ঢাকায় আসার পথে যশোরের অভয়নগরে একটি বাস থেকে উদ্ধার করা হয় ফরহাদকে।

রাতেই যশোরের অভয়নগর থেকে উদ্ধারের পর সকাল ৯টার দিকে তাকে ঢাকায় আদাবর থানায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে দেখতে যান স্ত্রী ফরিদা আখতারসহ স্বজনরা।

ফরহাদকে উদ্ধারের পর পুলিশ জানিয়েছে, তাকে অপহরণ করা হয়নি, গোটা ঘটনাটিকে নাটক বলেও মনে করছেন তারা। ফরহাদ স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন খুলনা পুলিশের ডিআইজি দিদার আহমেদ।

সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে অভয়নগর পুলিশ নওয়াপাড়ায় ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে। তিনি ওই বাসে আই-থ্রি সিটের যাত্রী ছিলেন। হানিফ পরিবহনের সুপারভাইজার জানিয়েছেন টিকিটে ফরহাদ মজহারের নাম লেখা ছিল ‘মিস্টার গফুর’।

নওয়াপাড়া থেকে তাকে খুলনা নিয়ে যায় র‌্যাব-৬। রাত দেড়টার দিকে ফরহাদ মজহারকে ঢাকার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে সকালে তাকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছেন তারা।

বামপন্থী হিসেবে নিজের পরিচয় দিলেও ফরহাদ মজহার ইদানীং তার বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন। নিজে ধর্মচর্চা না করলেও তিনি ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের একটি সমর্থক। ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার পক্ষে লেখালেখির কারণে হেফাজতের মধ্যে তার জনপ্রিয়তাও রয়েছে।

 

janatarpratidin.com / Md. Bappy / 04 July 2017

 

এ বিভাগের জনপ্রিয় খবর

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর
%d bloggers like this: