শিরোনাম

প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরাইলে মোদি

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১:০১:২২ পূর্বাহ্ণ - ০৫ জুলাই ২০১৭ | ১৮১

ভারতীয় কোনও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ইসরাইল সফরে তেল আবিবে অবস্থান করছেন নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার বিমান বন্দরে পৌঁছানো মাত্রই তাকে উষ্ণ অভ্যর্ত্থনা জানান ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এসময় একে অপরকে ধন্যবাদ জানান তারা।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় নয়াদিল্লিকে পুরোপুরি সমর্থন করার কথাও জানিয়েছে ইসরাইল। পাশাপাশি, ‘বন্ধু’ ইসরাইলের সঙ্গে যৌথ ভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর ডাক দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদিও। অন্যদিকে, মোদির এ সফরকে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির ‘বদল’ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

মোদির তিন দিনের সফরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি সই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫ বছর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর। সফরে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মোদির দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মোদির এই সফরে প্রধান ইস্যু জঙ্গি কার্যকলাপ মোকাবেলা। ইসরাইলে পৌঁছেই মোদি বলেন, ‘ভারত-ইসরাইল দু’দেশের প্রধান সমস্যা সন্ত্রাসবাদ। দেশের বাইরে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদের শিকার হতে হচ্ছে ভারত ও ইসরাইল উভয় দেশকেই। এ ধরনের শক্তিগুলির বিরুদ্ধে দু’টি দেশ একই ধরনের লড়াই চালাচ্ছে।’

ভারত-ইসরাইলের সম্পর্ককে ‘স্পেশাল’ বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভীষণ ভাবে এই সফরের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। আশা করি এই সফরের ফলে দু’দেশের সরকার ও নাগরিকরা একে অপরের আরও কাছাকাছি আসবে।’

সন্ত্রাসবাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সাইবার-নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে। ইসরাইলে বসবাসকারী প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা তার। এ ছাড়া, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত ভারতীয় সেনাদের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো, সেখানকার ঐতিহাসিক হলোকাস্ট মিউজিয়ামেও যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। পানিসম্পদ ও কৃষি, বিমান যোগাযোগ ও বিনিয়োগ নিয়েও একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে এই সফরে।

এছাড়া এই সফরে ইসরাইলি রাষ্ট্রপতি রয়েভেন রিভলিন এবং বিরোধী দলনেতা আইজ্যাক হারজগের সঙ্গেও দেখা করার কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর। কূটনৈতিক মহলের মতে, গত কয়েক দশকে আর কোনও বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে এতটা গুরুত্ব দেয়নি ইসরাইল।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ বছর ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও দেশের বিরাট মুসলিম জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় নিয়ে ভারত সবসময় ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছিল। ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের পরও এতদিন ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রীই সেখানে সফরে যাননি। ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের বিষয়টি গোপনই ছিল। এবার মোদির সফরের মধ্য দিয়ে সে ধারাই বদলাচ্ছে। উঠতে চলেছে দু’দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পর্দা।

 

janatarpratidin.com / Md. Bappy / 04 July 2017

 

এ বিভাগের জনপ্রিয় খবর

সর্বশেষ
%d bloggers like this: