শিরোনাম

পৃথিবী ধ্বংসের কারণ হবেন ট্রাম্প

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭:২৮:৩২ অপরাহ্ণ - ০৪ জুলাই ২০১৭ | ২৩৭

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি থেকে নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পৃথিবীকে ধ্বংসের কাছে নিয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্টিফেন হকিং।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিখ্যাত এই পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ জানান, জলবায়ুর পরিবর্তন এমনভাবে ঘটতে পারে যে পরিস্থিতি হবে অপরিবর্তনীয়।

তিনি সতর্ক করে আরো বলেন, ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত পৃথিবীকে উত্তপ্ত গ্রহে পরিণত করবে। স্টিফেন হকিংয়ের ৭৫তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি একথা জানান।

রোববার প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে বিখ্যাত এই বিজ্ঞানী বলেন, ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের এমন এক পর্যায়ে আছি যা আরেকটু বেশি হলে সেখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব নয়। ট্রাম্পের এমন ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত পৃথিবীকে আরেকটি ভেনাসের রূপান্তরিত করতে পারে, যেখানে থাকবে দুইশো পঞ্চাশ ডিগ্রি তাপমাত্রা এবং সালফিউরিক এসিডের বৃষ্টিপাত।’

জলবায়ু পরিবর্তনকে পৃথিবীতে বিদ্যমান ‘সবচেয়ে বড় বিপদ’ বলেও তিনি উল্লেখ করে তিনি এ থেকে রক্ষার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের উপরও জোর দেন।

তিনি আরো বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের বড় বিপদগুলোর মধ্যে একটি এবং এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিলে আমরা ক্ষতি রোধ করতে পারি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রমাণ অস্বীকার করে এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বের হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিবেশের ক্ষতি সাধনের মাধ্যমে আমাদের ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুন্দর পৃথিবীটাকে বিপজ্জনক করে তুলেছেন।’

এদিকে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচকদের প্যানেল আইপিসিসিতে পৃথিবীতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ও এর সম্ভাব্য ঝুঁকি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের মতে, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট মাত্রাটি নিশ্চিত করার বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে অচলাবস্থার দিকেই যাচ্ছে। যা হচ্ছে মানুষ এবং প্রাকৃতিক কারণেই।’

বিবিসির প্রশ্ন ছিল, ‘আমরা কি কখনো আমাদের পরিবেশগত সমস্যা ও মানব সংঘাতের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হতে পারবো?’ উত্তরে স্টিফেন হকিং বলেন- ‘আমার মনে হয় বিবর্তন মানুষের মনের লোভ ও সহিংসতা জাগিয়ে তুলছে। মানব সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ নেই। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির বিকাশ এবং মারাত্মক অস্ত্রগুলো যেকোনো সময় মানুষের জন্য ধ্বংসাত্মক হতে উঠতে পারে। যে কারণে মানবজাতির বেঁচে থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হতে পারে মহাকাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে স্বাধীনভাবে উপনিবেশ স্থাপন করা।’

 

janatarpratidin.com / Md. Bappy / 04 July 2017

 

সর্বশেষ
%d bloggers like this: