শিরোনাম

দিশেহারা হয়ে জব্দ করা অবৈধ অটোরিকশা’কে বৈধ করার অনুমতি

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬:৫১:২৩ অপরাহ্ণ - ০৭ জুন ২০১৭ | ২৫৪

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী, ময়মনসিংহ : 
ময়মনসিংহ নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। জেলা ও পৌর প্রশাসন এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের মধ্যে ইঁদুর-বিড়াল খেলা চলে আসছে বছরের পর বছর ধরেই। দফায় দফায় চেষ্টা করেও অটোরিকশা চালকদের বাগে আনতে পারেনি কোন প্রশাসন।
জেলা ও পৌর প্রশাসনের উদ্যোগে গত ১ ও ২ জুন নগরীর যানজট নিরসনে জব্দ করা তিন চাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ইজিবাইকগুলোকে নিয়মের আওতায় আনার লক্ষে ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে সেগুলো ফের চলাচলের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ পৌরসভা সুত্রে জানা গেছে, ৬০৯টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও লাইসেন্সবিহীন ৩ হাজার ১শ ৪৬টিসহ মোট ৩ হাজার ৭৫৫টি ইজিবাইক জব্দ করে রফিক উদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়ামে জড়ো করা হয়। এরপর রবিবার লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৬০৯টি ইজিবাইককে নতুন নাম্বার প্লেট দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। আর লাইসেন্সবিহীন বাকি ৩ হাজার ১শ ৪৬টি মঙ্গলবার সকাল থেকে যথাযথ কাগজপত্রসহ ৮ হাজার টাকায় ট্রেড লাইসেন্সের বিনিময়ে নাম্বার প্লেটসহ গায়ে লাল ও সবুজ রঙ লাগিয়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের কাছে সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ শহরে এখন ১০ হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ইজিবাইক চলাচল করত। প্রায় চার হাজার জব্দ করার পর অন্যরাও আর রাস্তায় নামছে না। এসব বাহন চালাতে কোনো নিয়ম মানে না। চালকদের কোনো প্রশিক্ষণও নেই। শহরের যানজট ও দুর্ঘটনার জন্য এসব ইজিবাইক এখন সবার আগে দায়ী করা হয়। এসব বাহনে কোনো নম্বর না থাকায় দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ইজিবাইককে চিহ্নিতও করা যায় না। একারনে ট্রেড লাইসেন্সের বিনিময়ে নাম্বার প্লেটসহ গায়ে লাল ও সবুজ রঙ লাগিয়ে চলাচল করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে রফিক উদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখাযায় শত শত নারী, পুরুষ লাইসেন্স প্রার্থী দের লম্বা লাইন। প্রার্থীদের এ প্রচন্ড ভীড় সামলাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের।
কর্তৃপক্ষ্যদের কাছ থেকে জানাযায়, তিন চাকার ব্যাটারিচালিত গাড়ি ইজিবাইক এখন সাধারন মানুষের একটি জনপ্রিয় বাহন। মধ্য ও নিম্নবিত্তের প্রাইভেটকারও বলা হয়ে থাকে এটিকে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যেমন নাগরিকদের কম খরচে যাতায়াতে সুবিধা দিচ্ছে, তাই কর্তৃপক্ষ দিশেহারা হয়ে শহরে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে গণপরিবহনের বিকল্প হিসেবে ইজিবাইক চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে।
নগরীর সাধারন জনগনের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্বল্প আয়ের মানুষ, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা এটাকে উপযোগী বাহন মনে করে। যদিও নগরীতে প্রচুর ইজিবাইকের কারণে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনারও অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে এ বাহন। তার পরও এসব ইজিবাইক নাগরিকদের কম খরচে ও ন্যুনতম সময়ে যাতায়াতের সুবিধা দিচ্ছে। এছাড়া ইজিবাইকের কারণে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আর পরিবারের সদস্য সংখ্যা হিসাব করলে অন্তত ২৫ হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল এ বাহনের ওপর।
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জাহাঙ্গীর জানান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০০ ইজিবাইক ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। কাগজপত্রসহ ৮ হাজার টাকায় ট্রেড লাইসেন্সের বিনিময়ে নাম্বার প্লেটসহ গায়ে লাল ও সবুজ রঙ লাগিয়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।


জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদুর রহমান, ময়মনসিংহ পৌরসভার লাইসেন্স ও কর উপকমিটির আহ্বায়ক পৌরসভার কাউন্সিলর সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু, ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান দুলাল, পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সহকারী লাইসেন্স পরিদর্শক (রকিশা) ওয়ালিউল ইসলাম মামুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাজের তদারক করছেন।

 

janatarpratidin.com / Md. Bappy / 07 June 2017

 

সর্বশেষ
%d bloggers like this: