শিরোনাম

দাউদ ইব্রাহিমের অজানা ১০ তথ্য

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১:৪২:০৫ পূর্বাহ্ণ - ০১ মে ২০১৭ | ৩২৩

ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড দাউদ ইব্রাহিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এখন একা হাঁটারও ক্ষমতা নেই তার। ৭ বছর হল অবসর নিয়েছেন। তাই সেভাবে খবরের পাতাতেও নাম ওঠে না এখন আর।কিন্তু শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে করাচির হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবরে ফের শিরোনামে দাউদ।

দাউদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে হাজারো গুজব চলছে। কেউ বলছেন দাউদের অবস্থা আশঙ্কা জনক, কেউ বলছেন হৃদরোগ নয় প্যারালাইসিস অ্যাটাক হয়েছে দাউদের, কেউ আবার বলছেন, সম্ভবত দাউদ মারা গিয়েছে কিন্তু সে খবর ঘোষণা করা হচ্ছে না। যদিও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। হার্ট অ্যাটাকের পর সঙ্কটজনক দাউদ ইব্রাহিম, জল্পনা মৃত্যু ঘিরে।

তবে দাউদ ঘনিষ্ঠ ছোটা শাকিল এই গুজব উড়িয়ে জানিয়েছেন দাউদ হাসপাতালে নয় বাড়িতেই আছেন, সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছেন।

দাউদকে নিয়ে একজনরে ১০টি অজানা তথ্য…

দাউদের জন্ম

১৯৫৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর মহারাষ্ট্রের রত্নাগিরিতে জন্ম হয় দাউদ ইব্রাহিমের। ঘটনাচক্রে দাউদের বাবা ইব্রাহিম কাসকর বম্বে পুলিশের হেড কনস্টেবল ছিলেন। দাউদের ১১ জন ভাইবোন ছিল। দাউদের পুরো নাম দাউদ ইব্রাহিম কাসকর। মা আমিনা গৃহবধূ ছিলেন।

দাউদের ছোটবেলা

ডোংরি এলাকার তেমকার মহল্লায় দাউদের ছোটবেলা কেটেছে। আহমেদ সেলর হাই স্কুলে পড়াশোনা করা। কিন্তু মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দেন দাউদ। স্কুলে পড়ার সময়ই খারাপ সঙ্গে পড়ে চুরি ডাকাতি শুরু করে দেন তিনি। দাউদের ভাই ইকবাল কাসকরসহ পরিবারের অনেক সদস্য এখনও মুম্বাইয়ে বসবাস করেন।

দাউদের পরিবার

গোয়েন্দাদের খবর অনুযায়ী করাচিতে দাউদের সঙ্গে তার স্ত্রী জুবিনা জরিন থাকেন। একমাত্র ছেলে মোইন নওয়াজও থাকেন সঙ্গে । এছাড়াও দাউডের দুই মেয়ে রয়েছেন, নাম মাহরুখ ও মারহীন। তৃতীয় কন্যা মারিয়া ১৯৯৮ সালে মারা যান। মাহরুখের স্বামী জুনেদ ও মাহরিনের স্বামীর নাম আয়ুব। মোইনের স্ত্রী সানিয়াও পাকিস্তানেই থাকেন।

ক্রিকেটের সঙ্গে যোগ

মাহরুখের স্বামী জুনেদ পাকিস্তানের জনপ্রিয় প্রাক্তন ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াদাদের ছেলে। এই বিয়ের কারণে মিয়াদাদকে ভারতে চিরকালের জন্য নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দাউদের শখ

দাউদের জীবনধারা অত্যন্ত চকচকে ছিল। সেরার প্রতি দাউদের লোভ সবারই জানা ছিল। বলিউডের বহু চকচকে পার্টির উদ্যোক্তা ছিলেন দাউদ। সেখান থেকেই বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মন্দাকিমিকে নিজের জন্য বেছে নেন দাউদ। ঘোড়া এবং দামি ও পুরনো ওয়াইন নিয়ে খুব শৌখিন দাউদ।

দাউদের অপরাধে হাতে খড়ি

শোনা যায় দাউদ নিজের অপরাধ জগতের কাজ শুরু করেন করিম লালা গ্যাংয়ের হাত ধরে। সেই সময় মুম্বাইয়ের কুখ্যাত ডন ছিল এই করিম লালা। মুম্বাইয়ে তখন করিম লালারই রাজত্ব চলত। আশির দশকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত নাম হয়ে যান দাউদ। এছাড়াও বেটিং ও বলিউডের ছবি প্রযোজনা করতেন দাউদ। বেটিংয়ের সময়ই ছোটা রাজনের সঙ্গে আলাপ হয় দাউদের। হাওলা থেকে তারপর অস্ত্র চোরাচালানের কারবার শুরু করেন। ভারত ছেড়ে দুবাই চলে যাওয়ার পর সেখানে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অপরাধ সিন্ডিকেট ডি কোম্পানি গড়ে তোলেন দাউদ। ১৯৯৩ সালে মুম্বাইয়ের ধারাবাহিক মামলায় দাউদের হাত রয়েছে জানার পরই তাকে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড ঘোষণা করা হয়।

নানা নাম নানা বেশ

এস হুসেন জেডির লেখা “ডোংরি সে মুম্বাই তক” বইতে দাউদের ১৩টি নামের উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাধ জগতের শুরুতে দাউদের ঘন কালো গোঁফের জন্য তাকে ‘মুচ্ছড়’ বলে ডাকা হত। ভারত থেকে পালানোর পর একাধিকবার নিজের নাম পরিবর্তন করেন দাউদ। শোনা যায় চেহারায় বদল আনতে একাধিকবার মুখের প্লাস্টিক সার্জারিও করেছেন দাউদ। দাউদের ১৩টি ছদ্মনামের মধ্যে একটি শেখ দাউদ হাসান। এছাড়াও ডেভিড নামেও ডাকা হত তাকে। ভারতে কাউকে ফোন করলে নিজেকে হাজি সাহাব কিংবা আমির সাহাব নামে পরিচয় দিতেন।

দাউদের পাসপোর্ট

দাউদ ইব্রাহিমের চারটি পাসপোর্ট আছে। যার মধ্যে একটি ১৯৯৬ সালের ১০ জুলাই করাচি থেকে ইস্যু করা হয়। এই পাসপোর্টে দাউদের তখনকার সাম্প্রতিক ছবি ছিল। পাসপোর্টের নম্বর ছিল c267185। বাকি তিনটি ইয়েমেন, আবুধাবি ও রাওয়ালপিন্ডি থেকে ইস্যু করা হয়েছিল।

বলিউডে দাউদ

দাউদ একটা রহস্য। আর এই রহস্য নিয়ে মানুষের মনে কৌতূহলও অনেক। আর সেই কারণেই এই কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনকে নিয়ে বলিউডে একাধিক ছবি তৈরি করেছেন পরিচালকরা। কোম্পানি (২০০২), ডি (২০০৫), ব্ল্যাক ফ্রাইডে (২০০৭), শুটআউট অ্যট লোখন্ডওয়ালা (২০০৭), ডি ডে (২০১৩) প্রভৃতি। এছাড়াও আন্ডারওয়ার্ল্ডের বহু ছবিতেও দাউদের চরিত্রের উল্লেখ করা হয়েছে। দাউদের বোন হাসিনাকে নিয়েও সম্প্রতি একটি সিনেমা হচ্ছে। এই সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন শ্রদ্ধা কাপুর।

আন্তর্জাতিক জঙ্গি

আল কায়দার সঙ্গে যোগ রয়েছে এই বিশ্বাসে ২০০৩ সালে দাউদকে ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি’ ঘোষণা করা হয়।

 

 

janatarpratidin.com /Md. Bappy /01 May 2017

সর্বশেষ