শিরোনাম

দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত এসএমই মেলা

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮:২৪:১২ অপরাহ্ণ - ০৭ এপ্রিল ২০১৮ | ৩০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : শনিবার ছুটির দিনে জমে উঠেছে এসএমই মেলা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের তৈরি বাহারি সব দেশীয় পণ্যের জন্য ভিড় জমিয়েছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। প্রতিটি দোকানে প্রচুর লোকসমাগম। কেই আসছেন কিনতে, কেউ আসছেন দেখতে। সব মিলিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা আর উদ্যোক্তাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে জাতীয় এসএমই মেলা।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলা আগামীকাল (রোববার) শেষ হবে। মেলায় বাহারি সব দেশীয় পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন উদ্যোক্তারা। বিভিন্ন নকশা করা পোশাক, পাটজাতপণ্য, খাবার, জুতা, চামড়া পণ্য, প্লাস্টিক, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন পণ্য মেলায় প্রদর্শিত ও বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের আকর্ষণে রয়েছে বিভিন্ন অংকের নগদ মূল্যছাড়।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, শনিবার সকাল থেকে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা ভিড় করতে থাকেন এসএমই মেলায়। শুধু কেনাকাটা নয়, মেলায় অনেকে এসেছেন নতুন নতুন পণ্য দেখতে আর উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পরিচিত হতে। মেলায় বিভিন্ন নকশার ফতুয়া, কামিজ, থ্রিপিস, বাচ্চাদের পোশাক, শাড়ি, মেয়েদের ভ্যানিটি ব্যাগ, পার্সসহ বিভিন্ন পণ্য বেচাকেনা বেশি হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত উদ্যোক্তারা মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী উদ্যোক্তা। তারা বুটিক ও বাটিক পণ্য নিয়ে এসেছেন। মেলার মাধ্যমে এসব পণ্য সরাসরি বিক্রি করছেন তারা। তবে বছরজুড়ে পণ্যগুলো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমে সরবরাহ করেন এসব উৎপাদনকারী।
মেলায় অংশ নেয়া ইলোরা বিউটি পার্লার অ্যান্ড বুটিকস হাউজের স্বত্বাধিকারী সাবরিনা ইসলাম বলেন, মেলা আজকে চতুর্থ দিন। প্রথম দুদিন দর্শনার্থী কম থাকলেও শুক্রবার থেকে বেড়েছে। বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের বেশিরভাগ পণ্য বৈশাখকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন শাড়ি, থ্রিপিস, জামা বিক্রি করছি। ১৮শ থেকে ৯ হাজার টাকায় শাড়ি বিক্রি করছি। এছাড়া ১৫শ টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকায় থ্রিপিস বিক্রি করছি। বৈশাখের পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে।
মেলায় দেশি-বিদেশি ক্রেতা দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে ঐতিহ্যবাহী কারুপণ্যের ‘শতরঞ্জি’। আরও রয়েছে রঙ-বেরঙের সুতা আর গ্রামবাংলার প্রকৃতিনির্ভর নকশার সমন্বয়ে কাঁচাপাট, পাটের সুতলিসহ দেশি কাঁচামাল দিয়ে তৈরি শতরঞ্জি, পাপোশ, ম্যাট, ব্যাগ, ও বিছানার চাদর।
প্রতিষ্ঠানটির এক বিক্রয়কর্মী জানান, হস্তশিল্প একটি জাতির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহন করে। তারই বড় উদাহরণ শতরঞ্জি। মেলায় পণ্য প্রদশর্নীর জন্য অংশগ্রহণ করেছি। পাশাপাশি বিক্রিও করা হচ্ছে। ক্রেতাদের ভালোই সারা পাচ্ছি।
মেলায় রাজশাহী থেকে আসা কাজল বুটিকের নারী উদ্যোক্তা ইসরাত জাহান। তিনি বলেন, আমরা নিজেরাই ডিজাইন করে বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করি। এসব পণ্য রাজধানীসহ বিভিন্ন শোরুমে সরবরাহ করি। মেলা উপলক্ষে আমরা সরাসরি ক্রেতার কাছে বিক্রি করছি। শাড়ি, জামা, থ্রিপিস, বেডকভার, কুশন কভারসহ বিভিন্ন নকশা করা পোশাক রয়েছে আমাদের।
পণ্যের দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে এ নারী উদ্যোক্তা বলেন, এখানে সব পণ্য ছাড়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে শাড়ি বিক্রি করছি ১৫শ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বেড কভার দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে কুশন কভার। এছাড়া নানান ডিজাইনের হাতের কাজের থ্রিপিস পাওয়া যাচ্ছে ১৫শ থেকে তিন হাজার টাকায়।
তিনি জানান, মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন ছাড় দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১০০ থেকে ২০০ টাকা মূল্য ছাড় দিচ্ছি। অনেক পণ্যে ৫০০ টাকাও ছাড় দেয়া হচ্ছে। ক্রেতা-দর্শনার্থীদেরও বেশ ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। নিজের পণ্য পরিচিতি বাড়াতে এবার মেলায় অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি। আজকে ছুটির দিন। দর্শনার্থী বেড়েছে। বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
মেলায় আসা মিরপুরের বাসিন্দা আকলিমা বলেন, আজকে ছুটির দিন। তাই মেলায় ঘুরতে এসেছি। এসএমই মেলায় অনেক নতুন পণ্য পাওয়া যায়। একটি থ্রিপিস ও পাঞ্জাবি কিনেছি। ঘুরছি পছন্দ হলে আরও পণ্য কিনবো।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রচার, প্রসারে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ‘জাতীয় এসএমই মেলা-২০১৮’। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৬ষ্ঠ বারের মতো জাতীয় এসএমই মেলা যৌথভাবে আয়োজন করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।
৪ এপ্রিল এ মেলা শুরু হয়েছে, চলবে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম চলবে। মেলায় সারাদেশ থেকে ২৭৪টি এসএমই উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মেলায় এবার বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে, কোনো বিদেশি পণ্য এ মেলায় প্রদর্শন কিংবা বিক্রয় করা হচ্ছে না।

সর্বশেষ
%d bloggers like this: