শিরোনাম

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক কাঁচাবাজার আর অবৈধ স্থাপনায় তীব্র হচ্ছে যানজট

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫:৪৫:২৩ অপরাহ্ণ - ২৭ মে ২০১৭ | ৩৯২

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটির চার লেন প্রকল্পের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। এরই মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার দু’পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে কাঁচাবাজার ও অবৈধ স্থাপনা। ফলে রাস্তার প্রশস্ততা কমে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট এবং বাড়ছে দুর্ঘটনা।

মহাসড়কের গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অংশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দখল করে বাজার বসিয়েছেন প্রভাবশালীরা। এসব বাজার থেকে তারা নিচ্ছেন দৈনিক ও মাসিক চাঁদা। ময়মনসিংহের শেষ প্রান্ত চরপাড়া এলাকা থেকে দখল শুরু হয়ে শেষ হয়েছে টঙ্গীতে। আব্দুল্লাহপুর থেকে মহাখালী পর্যন্ত দখলমুক্ত।

চরপাড়ায় ফলবাজার দখল করেছে মহাসড়কের বড় একটা অংশ। হাসপাতাল গেট ‘রেন্ট-এ-কার’-এর দখলে আর ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শিকারীকান্দায় প্রতিদিন বিকালে বসছে কাঁচাবাজার। এখান থেকেই যানজটের শুরু। চুরখাই বাজার বাইপাস, ত্রিশাল উপজেলার বৈলর, ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড, রাগামারা বাজারে মহাসড়কের মূল অংশ জুড়ে বসে কাঁচাবাজার।

রাস্তার পরিসর কমে যাওয়ায় বেড়েছে দুর্ঘটনা। গত সোমবার ত্রিশালের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাকচাপায় দুজনের মৃত্যু হয়। শুধু কাঁচাবাজার নয়, ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জায়গা দখল করে সেখানে ঘর তুলে ভাড়া দিচ্ছে প্রভাবশালী দখলদাররা। ফলে চার লেন সড়কটি সরু হয়ে দুই লেনে পরিণত হয়েছে। এছাড়া  দু’পাশের ড্রেনের ওপরের খালি জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা এবং হরেক রকমের দোকান। নজরুল কলেজ মার্কেটের সামনে থেকে ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড হয়ে হাসপাতালের মোড় পর্যন্ত শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সম্মুখভাগে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত ভবনও দখল হয়ে আছে। সেখানেও চলছে বিভিন্ন সংগঠন ও হোটেলের কার্যক্রম।

এ অবস্থায় পথচারী ও যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের নিয়মিত যাত্রী আবুল বাশার। তিনি জানান, চার লেনের সড়ক দিয়ে ঢাকা যেতে ২ ঘণ্টা সময় লাগার কথা। কিন্তু গেটলক বাসেও ৪ ঘণ্টার কম সময়ে আসা-যাওয়া করা যায় না। মহাসড়কে গড়ে ওঠা বাজার ও দখলের কারণেই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

ত্রিশালের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন প্রভাবশালীদের ১০০-২০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ডে টেম্পোর চলাচল রোধে দৈনিক ৫০ টাকা করে চাঁদা দেন বাসচালকরা। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, শিগগির চরপাড়া মোড় এলাকার ফুটপাত ও মহাসড়কের দু’পাশে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ মহাসড়ক তাদের আওতায় না হলেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত আছে। ত্রিশালের নজরুল কলেজের গেটসহ বেশকিছু এলাকায় অবৈধ স্থাপনা সরানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ত্রিশালের সব অবৈধ স্থাপনা সরানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।

ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ খান জানান, মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ময়মনসিংহ-ত্রিশাল অংশটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিটা এখনো বুঝে পাননি। ত্রিশাল ও ভালুকার কয়েকটি জায়গায় অস্থায়ী বাজার ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এগুলো সরানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। ত্রিশালের বৈলরে একজন চেয়ারম্যান মহাসড়কের জায়গায় বাড়ি করেছেন, সেটি ভেঙে দেয়া হবে।

 

janatarpratidin.com / Md. Bappy / 27 May 2017

 

সর্বশেষ
%d bloggers like this: