শিরোনাম

ডিবি পরিচয়ে ময়মনসিংহে ৮ দিনে ৩ ব্যাক্তি অপহরণ

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫:৫৪:৪০ অপরাহ্ণ - ০৭ মে ২০১৭ | ২৫৪

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি)  পরিচয়ে ৮ দিনে ৩ ব্যাক্তিকে অপহরন করে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার ( ২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে মাওলানা শহীদুলøাহ সরকারকে শহরের খাগডহর এলাকার নিজ বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু ১৩ দিনেও তার কোন হদিস মিলেনি।
জানা গেছে, ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা থেকে মেহেদী হাসান বাবুল (৩০) নামের এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। মুক্তিপণ হিসেবে মুঠোফোনে টাকা দাবির কথাও জানিয়েছেন বাবুলের পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয়রা জানায়, গত বুধবার (৩ মে) উপজেলার মধুপুর গ্রাম থেকে বাবুলকে আইনশশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি তারাকান্দা বাজারে সরকার খেলাঘর নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি মধুপুর গ্রামের মৃত চান মিয়া সরকারের ছেলে।
তবে একই দিনে মেহেদী হাসান বাবুলের আরেক বন্ধু আনোয়ার হোসেনকে অপহরন করার অভিযোগও উঠেছে। সে একই উপজেলার মধুপুর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে বলে জানা গেছে।
এব্যাপারে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল হক ও বাবুলের বড় ভাই বিলøাল হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিলøালের বরাত দিয়ে ওসি মাজাহারুল জানান, বুধবার ভোররাত সোয়া ৪টার সময় বিলøাল হোসেন তাঁর ভাই বাবুলকে ডাকতে যান। ঘরের সামনে গিয়ে বারান্দায় চারজন অচেনা লোকসহ তাঁর ভাই বাবুলকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তাঁরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।
তাঁরা বলেন, বাবুলের নামে অভিযোগ আছে। নিয়ে যাচ্ছি, পরে ফেরত দিয়ে যাব। এই বলে বাবুলকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, বাবুলের বন্ধু আনোয়ার হোসেনকে একই দিনে মুঠো ফোনে টাকা চেয়ে নগরীর আকুয়া এলাকা থেকে অপহরন কারীরা ডেকে নিয়ে যায়। পরে সেও ফিরৎ আসেনি।
ওসি আরো জানান, খবর পাওয়ার পরই তিনি তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাবুল ও আনোয়ারকে উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।
এ ঘটনায় বুধবার একটি মামলা করা হয়েছে। তবে আনোয়ারের বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।
এদিকে বাবুলের বড় ভাই বিলøাল জানান সে একজন দলিল লেখক। তিনি বলেন, অপহরণের পর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ও বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আমাকে ফোন দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছে অপহরনকারীরা। টাকা দিলে বাবুলকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে ফোনে জানায় তারা।
কিন্তু এত টাকা দেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের নেই উলেøখ করে বিলøাল জানান, বিষয়টি এরই মধ্যে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-১৪) ময়মনসিংহ সদর দপ্তরে জানানো হয়েছে। এদিকে জেলা পুলিশের ‘গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া ময়মনসিংহে মাদ্রাসা শিক্ষক নিখোঁজের ১৩ দিনেও কোন খোঁজ দিতে পারেনি পুলিশ। তবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক শহীদুলøাহ সরকারের কোনো খোঁজ মিলছেনা। মাওলানা শহীদুলøাহর মা জহুরা খাতুন তাঁর কোল থেকে নিয়ে যাওয়া ছেলেকে কোলে ফিরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহŸান জানিয়েছেন।
পরিবারের দাবি, গত মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে মাওলানা শহীদুলøাহ সরকারকে শহরের খাগডহর এলাকার বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মাওলানা শহীদুলøাহর মাকে বলে, সকালে ডিবি অফিসে খোঁজ নিতে। এরপর বুধবার (২৬ এপ্রিল) দিনভর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করা হলে কেউ তার কোনো সন্ধান দিতে পারেনি। পরে তার মা জহুরা খাতুন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
এদিকে রবিবার (৭ মে ) সকালে কথা হয় নিখোঁজ শহীদুলøাহ সরকারের পরিবার ও তার স্বজনদের সঙ্গে। তার মা জহুরা বলেন, আমার কোল থেকে নিয়ে যাওয়া ছেলেকে আজও কোলে ফিরে পাইনি। এসময় কান্নঁ জনিত কন্ঠে তিনি বলেন, তারা আমার ছেলেকে যেভাবে তুলে নিয়ে গেছে সেভাবেই আমার কোলে ফিরিয়ে দিক। আমি আর কিছুই চাই না, শুধু ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ১৪-এর উপ-অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ইফতেখার রাকীব জানান, ৩টি পরিবার তার কাছে এসেছিল। তিনি নিখোঁজের বিষয়টি শুনেছেন। গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বিষয়টি।
ময়মনসিংহে ৩ ব্যাক্তি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব জায়গায় আমরা খোঁজ নিয়েছি। ওই ৩ জনের গ্রেফতারের কথা কেউ জানায়নি। আমরা তাদেরকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি।

সর্বশেষ