শিরোনাম

জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে পূর্বনির্ধারিত প্রবাদ বাক্যটি আসলে কতটুকু সঠিক

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২:৩৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ - ০৬ জুলাই ২০১৭ | ১,৪৬০

মুহাম্মাদ শায়েস্তা খান: মানুষ মরণশীল- এই চিরসত্য কথাটি সকলে জানে। কিন্তু কিভাবে মরবে, কোথায় মরবে- এ সকল প্রশ্নের জবাব কি কারো কাছে আছে? আবার মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গায় বিয়ে-শাদী করে জীবনকে শান্তিময় করার স্বপ্ন দেখবে এটাও বাস্তবতা। কিন্তু এই বিয়ে কবে, কোথায়, কার সঙ্গে ও কিভাবে হবে তার কি কোনো আগাম ধারণা মানুষের আছে? এ সকল বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা নিতে সঙ্গেই থাকুন।

সুপ্রিয় পাঠক

জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে পূর্বনির্ধারিত কথাটি সঠিক বলে বিশ্বাস করা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০০ ভাগ। জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে পূর্বনির্ধারিত প্রবাদ বাক্যটি আসলে কতটুকু সঠিক তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। আমাদের স্বাভাবিক বিবেক-বুদ্ধি কি এটাকে সাপোর্ট করে? বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা দরকার। কারণ, যে কাজের ফলাফল বা পরিণতি পূর্বনির্ধারিত তথা যে কাজে মানুষের ইচ্ছা ও কর্মপ্রচেষ্টার কোনো মূল্য নেই, সে কাজ পালনে সফল বা ব্যর্থ হওয়ার ভিত্তিতে মানুষকে পুরস্কার বা শাস্তি দেয়া ইনসাফ বা ন্যায়বিচার নয়। অথচ মহান আল্লাহ তা’য়ালা সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায়বিচারক।

তাই যদি দেখা যায়, জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে তিনটি ঘটনার কারণে ইসলামে পুরস্কার বা শাস্তি নেই তবে বুঝতে হবে এ তিনটি বিষয় পূর্বনির্ধারিত নয়। আবার যদি দেখা যায়, জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে বিষয় তিনটি ঘটার ধরনের কারণে কোনোটিতে শাস্তি আছে আবার কোনোটিতে নেই, তবে বুঝতে হবে যেটিতে শাস্তি নেই সেটি পূর্বনির্ধারিত। জন্মের স্থান, কাল ও সময়ের কারণে মানুষকে পুরস্কার বা শাস্তি দেয়ার বিধান ইসলামে নেই তথা মহান আল্লাহ রাখেননি। তাই জন্ম পূর্বনির্ধারিত, কিন্তু আত্মহত্যা করলে ইসলামে শাস্তি আছে।

কথাটি কুরআনে বলা হয়েছে এভাবে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ ۚ وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا.

অর্থ: হে যারা ঈমান এনেছো! তোমাদের পরস্পর সন্তুষ্টির ভিত্তিতে ব্যবসা করা ব্যতীত তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; আর তোমরা নিজেকে হত্যা (আত্মহত্যা) করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। (নিসা/৪ : ২৯)

ব্যাখ্যা: এ আয়াত থেকে জানা যায় আত্মহত্যা করা নিষেধ। অর্থাৎ আত্মহত্যা করলে শাস্তি আছে। তাই, এ আয়াত থেকে জানা যায় মৃত্যু পূর্বনির্ধারিত নয়।

আবার বিয়ের কারণে শাস্তির বিধান ইসলামে আছে। তাই, বিবাহ পূর্বনির্ধারিত নয়। এ তথ্যটি কুরআন জানিয়েছে এভাবে-
الزَّانِي لَا يَنْكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لَا يَنْكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ ۚ وَحُرِّمَ ذَٰلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ .

অর্থ: জেনাকারী, জেনাকারিণী বা মুশরিক মহিলা ব্যতীত এবং জেনাকারিণী, জেনাকারী বা মুশরিক পুরুষ ব্যতীত কাউকে বিয়ে করবে না। আর মুমিনদের জন্য উহা হারাম। (নূর/২৪ : ৩)

সুপ্রিয় পাঠক

জন্মের স্থানের ভিত্তিতে ইসলামে পুরস্কার বা শাস্তির বিধান নেই। যেমন- মুসলিম ঘরে বা মক্কা শরীফে জন্ম হলে পুরস্কার নেই। আবার পতিতার ঘরে বা হিন্দস্থানে জন্ম হলে শাস্তি নেই। আত্মহত্যা করলে ইসলামে কঠিন শাস্তির বিধান আছে। অমুসলিম মেয়ে মুসলিম বানিয়ে বিয়ে না করলে শাস্তির বিধান আছে। এর কারণ কি? কারণ হলো-

১. জন্মের স্থান ও সময় পূর্বনির্ধারিত। মানুষের ইচ্ছা ও কর্মপ্রচেষ্টার এ ব্যাপারে কোনো ভূমিকা নেই।

২. মৃত্যুর কারণ ও সময় পূর্বনির্ধারিত নয়। মানুষের ইচ্ছা ও প্রচেষ্টার সেখানে ভূমিকা আছে।

৩. বিবাহ পূর্ব নির্ধিারিত নয়। মানুষের ইচ্ছা ও প্রচেষ্টার এখানে বিরাট ভূমিকা আছে।

এই সকল বিষয় নিয়ে কুরআন ও হাদিসে উপস্থিত থাকা আপাতঃবিরোধী বক্তব্য দেখে অনেক নিষ্টাবান মুসলিমের দ্বন্দ্বে পড়তে হয়। দুষ্ট লোকদের টিটকারীমূলক বক্তব্য নিয়ে দূরাবস্থায় পড়তে হয়।

আশা করি, এই আর্টিকেল পড়ে তা নিরসন হবে এবং জীবনের সকল দিকে কর্ম প্রচেষ্টা বাড়বে। আর ফলস্বরূপ মুসলিম জাতি আবার পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ বা বিজয়ী হতে পারবে ইনশাআল্লাহ। ধন্যবাদ সবাইকে।

 

janatarpratidin.com / Md. Bappy / 06 July 2017

 

সর্বশেষ
%d bloggers like this: