শিরোনাম

জনগণের নিরাপত্তা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে র‌্যাব : প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২:২৭:১১ অপরাহ্ণ - ২৬ এপ্রিল ২০১৭ | ৩৫৪

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, অস্ত্ উদ্ধারসহ নানা অপরাধ দমনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সফলতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে জনগণের নিরাপত্তা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে র‌্যাব। তিনি বলেছেন, তাই র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি এক ধরনের বিনিয়োগ।

আজ বুধবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাবের সদর দপ্তরে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন্ প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের দরবারে জঙ্গিবাদ আজ একটা বিরাট সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশেও আমরা এই জঙ্গি হামলার শিকার হচ্ছি। তবে এই জঙ্গিবাদ ঠেকাতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, আমাদের কোস্টগার্ড, র‌্যাব সবাই যার যেখানে যতটুকু সুযোগ হচ্ছে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে।’ তিনি এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জঙ্গি অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিহত সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

প্রধানমন্ত্রী আলাদা করে র‌্যাবের সাফল্যের চিত্রও তুলে ধরেন। দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাব যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চরমপন্থী দমনসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে র‌্যাব অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। সে জন্য আমি র‌্যাবের সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ বিশেষ করে জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ উল্লেখযোগ্য জঙ্গি সদস্যকে হত্যা, তাদের কাছ থেকে অস্ত্র-বোমাসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরতে গিয়ে  বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। আমরা চাই জনগণের নিরাপত্তা ও আর্থিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে। তাই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উন্নয়নের জন্য আমরা বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছি এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি আমরা সংগ্রহ করে দিচ্ছি।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী খাতে বরাদ্দ বিশেষভাবে বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই বৃদ্ধি বা যে অর্থ আমরা বরাদ্দ করছি এটা আমাদের ব্যয় না। বরং জনগণের জানমাল নিরাপত্তা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য এটাও এক ধরনের বিনিয়োগ বলে আমরা মনে করছি। সেই চিন্তাচেতনা থেকেই আমরা এই বরাদ্দ বৃদ্ধি করে যাচ্ছি।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের জন্য ১২৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একসঙ্গে এত বেশি বেতন বৃদ্ধি পৃথিবীর আর কোনো সরকার তা দিতে পারেনি। আমরা দিতে পেরেছি, কারণ আমাদের সেই সক্ষমতা আছে।

জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য যা যা করার দরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আত্মসমর্পণ করে ছেড়ে দিলে হবে না। তাদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যাতে তারা আর সেদিকে পা না বাড়ায়্।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আত্মসমপর্ণ করছে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে হবে এবং তারা যেন এই ধরনের ভুল পথে না যায় সেজন্য তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা আমাদের করে দিতে হবে। যেন তারা স্বাভাবিক জীবনের, সুস্থ ভাবে তাদের জীবন-জীবিকা পরিচালনা করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।’

ইতিমধ্যে যে কয়জন আত্মসমপর্ণ করেছে তাদের তালিকা করে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী ধরনের কাজ তারা করতে চায়, সুস্থ-সুন্দর স্বাভাবিক জীবন যাপনে সেই ধরনের কাজ তাদের দেয়া হবে। শুধু আত্মসমপর্ণ করে ছেড়ে দিলে হবে না, তাদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যাতে তারা আর এ ভুল পথে পা না বাড়ায়। তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় আমরা করে যাব।’

চোরাচালানি, জাল মুদ্রা, জাল পাসপোর্ট প্রস্তুত, ভিওআইপির মাধ্যমে টেলিফোন ব্যবহার ইত্যাদি অপরাধমূলক কাজ নিবারণের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে র‌্যাব যথেষ্ট সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের অভিযান সফল হয়েছে। ফলে আমাদের রাজস্ব বৃদ্ধিতেও এ বাহিনী যথেষ্ট অবদান রাখছে। কাজেই আমাদের আরও বেশি এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে যে কোনোভাবেই যেন এ ধরনের অসাধু কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে। খাদ্যে ভেজাল যেন দিতে না পারে সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।’

র‌্যাবকে আরো শক্তিশালী ও তাদের কার‌্যক্রম আরো জোরালো করতে বিভিন্ন অবকাঠামো ও কৌশলগত সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরো বাড়ানো হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। নতুন নতুন ব্যাটালিয়ান উদ্বোধন করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘র‌্যাব সদরদপ্তর এবং র‌্যাব ট্রেনিং স্কুলসহ সব ব্যাটালিয়নের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। র‌্যাব সদরদপ্তর, র‌্যাব ১৩ এবং ১৪-সহ সব ব্যাটালিয়নের অবকাঠামো নির্মাণকাজ একনেকের মাধ্যমে অনুমোদন করে দিয়েছি।’ র‌্যাবের প্রযুক্তি ও কৌশলগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কথাও এ সময় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদসহ বাহিনীর উধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ