শিরোনাম

ছাড়পত্র পেল ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বোরখা

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১:২৫:২৩ পূর্বাহ্ণ - ২৭ এপ্রিল ২০১৭ | ৩৫৪

অবশেষে ভারতীয় চলচ্চিত্র সেন্সর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মুক্তির অনুমতি পেয়েছে ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বোরখা (বোরখার নিচে লিপস্টিক)’ নামে পুরস্কারপ্রাপ্ত একটি হিন্দি চলচ্চিত্র। আপত্তিকর শব্দ এবং অডিও পর্নোগ্রাফির (অর্থাৎ ফোন সেক্স) অভিযোগে চলচ্চিত্রটি আটকে দিয়েছিল ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন।

ভারতের একটি ছোট শহরের চারজন মহিলার জীবনকে কেন্দ্র করে এই চলচ্চিত্রের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন কঙ্কনা সেনশর্মা ও রত্না পাঠক শাহ-র মতো অভিনেত্রীরা।

টোকিওতে মাসকয়েক আগে ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হওয়ার পর বিশ্বের নানা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটি অনেক পুরস্কার জিতেছে। ভারতের সেন্সর বোর্ড ছবিটির মুক্তি আটকে দিয়েছিল এই যুক্তি দেখিয়ে, যে ছবিটি বড্ড বেশি ‘মহিলা-কেন্দ্রিক’ ও তাতে যৌনতা ও গালাগালির দৃশ্য রয়েছে।

আপিল বোর্ড ছবিটিকে ‘প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য’ (অ্যাডাল্ট) বলে সার্টিফিকেশন দিয়েছে এবং পরিচালককে ছবির বেশ কয়েকটি দৃশ্য কাটছাঁট করার জন্যও বলেছে। নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ছবির বেশ কয়েকটি দৃশ্যে ব্যবহৃত হিন্দি শব্দগুলো মুছে দিতে- যার মধ্যে একটি হল প্রস্টিটিউট বা যৌনকর্মী।

ছবিতে ‘সমাজের একটি বিশেষ শ্রেণীর ব্যাপারে স্পর্শকাতর অনুভূতি’ও রয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছিল – যার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছিল তা মুসলিমদের ধর্মীয় ভাবাবেগকে আহত করতে পারে।

ছবিটির পরিচালক অলঙ্কৃতা শ্রীবাস্তব এই নিষেধাজ্ঞাকে নারী অধিকারের ওপর চরম আঘাত বলে বর্ণনা করেছিলেন এবং এই আদেশকে আপিল আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

বিবিসি-র ‘ওয়ার্ল্ড টুনাইট’ অনুষ্ঠানে এসে এসে তিনি বলেন, ছবিটিতে যেভাবে মহিলাদের দৃষ্টিভঙ্গীকে তুলে ধরা হয়েছে তাতে সেন্সর বোর্ড ‘বিচলিত’ বোধ করেছে।

ফিল্ম সেন্সরশিপ নিয়ে ভারতে বরাবরই নানা অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু গত দু’বছর ধরে তাদের বিরুদ্ধে দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সমালোচনা আরও বেশি তীব্র হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত বছর পাঞ্জাবের মাদক সমস্যা নিয়ে তৈরি উড়তা পাঞ্জাব নামে একটি ছবির নির্মাতাদের সেন্সর বোর্ড ৯৪টি দৃশ্য কাটার নির্দেশ দিয়েছিল। পাঞ্জাবের কোনও শহরের নাম উল্লেখ করা যাবে না, ড্রাগ শট নেওয়ার দৃশ্য দেখানো যাবে না বলেও বলা হয়েছিল।

পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ ও ছবির প্রযোজকরা এই নির্দেশের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং মুম্বইয়ের একটি আদালত শেষ পর্যন্ত মাত্র একটি দৃশ্য কাটতে বলে ছবিটির মুক্তির অনুমতি দেয়।

ওই দৃশ্যে ছবিটির প্রধান চরিত্র শাহিদ কাপুরকে প্রকাশ্য স্থানে ভিড়ের মধ্যে মূত্রত্যাগ করতে দেখা যাচ্ছিল।

২০১৫তে সেন্সর বোর্ড ‘এন-এইচ টেন’ নামে একটি ছবিতে অনার কিলিংয়ের একটি সহিংস দৃশ্যের মেয়াদ কমাতে বলেছিল।

‘দম লাগা কে হাইসা’ নামে একটি রোমান্টিক কমেডিতে লেসবিয়ান শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল – সেন্সর বোর্ডের নির্দেশে সেই জায়গাটি শব্দহীন করে দেওয়া হয়।

এছাড়া, জেমস বন্ড সিরিজের ছবি ‘স্পেক্টারে’ অভিনেতা ড্যানিয়েল ক্রেইগের দুটো চুম্বনদৃশ্য ছিল – সেন্সর বোর্ডের নির্দেশে সেই দৃশ্যদুটির দৈর্ঘ্য কমানোর পরই ছবিটি ভারতে মুক্তির অনুমতি পায়।

সৌজন্যে : বিবিসি বাংলা

সর্বশেষ