শিরোনাম

ছাত্রলীগ নয়, বরং শিক্ষর্থীদের আন্দোলনে যারা আক্রমণ করেছে তাদের বিচার দাবি

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯:৪৭:৫৯ অপরাহ্ণ - ১১ আগস্ট ২০১৮ | ২৫৩

ছাত্রলীগ নয়, বরং শিক্ষর্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যারা আক্রমণ করেছে তাদের বিচার দাবি করেছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহম্মদ।

আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে শনিবার (১১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংহতি সমাবেশ আয়োজন করে লেখক শিল্পী-ছাত্র-শিক্ষক ও সংস্কৃতি কর্মীদের একটি প্লাটফর্ম। সেখানে অধ্যাপক আনু মুহম্মদ এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেছেন- যারা আক্রমণ করেছেন তারা যদি ছাত্রলীগ প্রমাণিত হয়, আমরা অবশ্যই তাদের বিচার করবো। ছাত্রলীগ প্রমাণিত হওয়ার দরকার নেই, যারা আক্রমণ করেছে তাদের আপনারা বিচার করেন; তারা ছাত্রলীগ বা বিএনপি বা জামায়াত হোক। আপনারা একবার বলছেন, আন্দোলনের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত ঢুকেছে। আক্রমণকারীরা যদি বিএনপি-জামায়াত হয় তাহলে তাদের গ্রেফতার করতে সমস্যা কোথায়? আপনাদের বিএনপি-জামায়াতের প্রতি এ মমতাটা কেন!

সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেসবুকের স্ট্যাটাসের উপর ভিত্তি করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো নাগরিকেরই আইনের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত নয়। এ কথাটাই এখন পরিস্কার করতে হবে। যারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের উপর বর্বরোচিত হামলা চালালো, ধর্ষণের হুমকি দিলো, তারা কি আইনের ঊর্ধ্বে? এদের সবার ছবি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে এবং কোনো পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেনি। এখন দৃশ্যটা তৈরি হয়েছে এরকম, পুলিশের ভূমিকা হচ্ছে- পুলিশ উর্দী পরা ছাত্রলীগের ভূমিকা পালন করছে আর ছাত্রলীগ উর্দীছাড়া পুলিশের ভূমিকা পালন করছে। সেজন্য পুলিশ যখন অভিযান চালাচ্ছে, তার মাঝখানে মাঝখানে আমরা হেলমেট পরা লোকজন দেখতে পাচ্ছি। তাদের পরিচয় সবাই জানে, কিন্তু তাদের ধরা হচ্ছে না। তাহলে তারা কেন আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে?

শিক্ষার্থীদের মাফ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন শিক্ষার্থীদের মাফ করা যাবে না। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীকে মাফ করবে কে? এই শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভূলুণ্ঠিত করার পেছনে যাদের ভূমিকা প্রধান, তিনি তারমধ্যে একজন। প্রশ্নফাঁস, গাইড বই, কোচিং সেন্টার, শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাণিজ্যিকিকরণ করা, বিধ্বস্ত করা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন সব নিয়োগ করা যে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন মহা বিপদের মধ্যে আছে। সন্ত্রাসের এক-একটি কারাগারে পরিণত হয়েছে। সেই শিক্ষা মন্ত্রীকে ক্ষমা কে করবে!

আনু মুহম্মদ বলেন, হাতুড়ি দিয়ে যে শিক্ষার্থীকে মারা হলো, তাদের সবার ছবি পত্রিকায় ছাপা হলো। যারা হামলা করলো, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই, কিন্তু যে মার খেলো, তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। রিমান্ড এখন অত্যাচারের এক-একটি কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। অত্যাচার নির্যাতনের একটা ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে রিমান্ড।

‘শহিদুল আলমকে রিমান্ডে রাখা হয়েছে। তার উপরে কি ধরনের নির্যাতন করা হচ্ছে আমরা জানি না। কিন্তু পত্রিকায় তথ্য আসছে তিনি রিমান্ডে এটা বলেছেন, ওটা বলেছেন। এটা কিভাবে পত্রিকায় আসে? যখন রিমান্ডে তার নিজ পক্ষ সমর্থনের উপায় নাই, যখন তার নিজের ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারছেন না, তখন মুখ-হাত বেধে তার বিরুদ্ধে এধরনের অপপ্রচার চালানো কোন ধরনের আইন? কোন ধরনের শাসন? শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাকে আদালতে নেন, প্রশ্ন করুন, তিনি উত্তর দিবেন। উত্তর দিতে না পারলে তার শাস্তি দিবে আদালত’।

তিনি বলেন, আমরা নাগরিক। নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন করার অধিকার আছে আমাদের। মত প্রকাশ করার অধিকার আমাদের আছে। বিশৃঙ্খল ঢাকা শহরকে শৃঙ্খল করার যে আন্দোলন, বড়রা বা ক্ষমতাবানরা যা পারেনি, টিফিন বক্সে একটু খাবার আর একটু পানি এনে শিক্ষার্থীরা তা সম্ভব করে দেখিয়েছে। তাদের প্রতি এ ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা করেন অর্থনীতির এ অধ্যাপক। তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তিনি বলেছেন, কোটা থাকবে না। পরে বললেন, কোটা থাকবে। শিক্ষার্থীরা তাকে কিভাবে বিশ্বাস করবে? নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে নামা শিক্ষার্থীদের তিনি ঘরে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছেন। তবে শিক্ষার্থীরা কেন তাকে বিশ্বাস করে ঘরে ফিরে যাবে?

সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের এ অরাজনৈতিক আন্দোলনকে বুর্জোয়া দু’টি দলের ট্যাগ দিয়ে বিকৃত করার চেষ্টা করেছে সরকার। আন্দোলনের মূল মর্মবাণীকে নিঃশেষ করে দিতে সরকার নানা ষড়যন্ত্র করেছে। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ বলেছিলেন, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। এ আহ্বান তো সরকারের বিরুদ্ধে ছিল, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়। সরকারের বিরুদ্ধে বলা আর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলা এক জিনিস নয়।

সরকারের ভেতরে একটি ‘মাফিয়া চক্র’ ঢুকে পড়ায় গণপরিবহন ব্যবস্থা সংস্কার করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন সেলিম। তিনি বলেন, মালিক-শ্রমিক ফেডারেশন শ্রমিকের ঘাড়ে বন্দুক রেখে মালিকের স্বার্থ হাসিল করে চলেছে, যেখানে সরকারও অসহায়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ‘কিশোর বিদ্রোহ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে এসেছিল- রাষ্ট্রের মেরামতের কাজ চলছে। শিক্ষার্থীরা দেখিয়ে দিয়েছে অর্থনৈতিক, সামাজিক, জেন্ডার বৈষম্যসহ নানা ক্ষেত্রে সমাজ ও রাষ্ট্র পচে গলে গেছে। আমাদের আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের দিকটি শিক্ষার্থীরা দেখিয়ে দিয়ে গেছে।

বিকেলের এ সমাবেশে আরো যোগ দেন গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, বেলার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পারভীন হাসান, দৃকের মহাব্যবস্থাপক এসএম রেজাউর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জিএইচ হাবিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা, অধিকার কর্মী শিরিন হক, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ আরো অনেকে।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবিতে উত্তাল সময়ে ফেসবুক লাইভে এসে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। দৃক গ্যালারি, পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল পরে মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও সরকারের সমালোচনা করেন। পরে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। সুত্র: বাংলা নিউজ২৪

সর্বশেষ
%d bloggers like this: