শিরোনাম

ছাত্রলীগকে শাসানোর অধিকার শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২:৪২:০৪ পূর্বাহ্ণ - ২১ জুন ২০১৭ | ৩৫৮

ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিভিন্ন ‘অপকর্ম ও নেতিবাঁচক’ কর্মকাণ্ডের জন্য কয়েকবার শাসিয়েছেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও গণভবনে পরপর দু’বার ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনকে কড়া ভাষায় শাসানোর পর এখন বেশ কিছু সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও এস এম জাকির হোসাইনের অনুসারীরা প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রলীগকে শাসানোর অধিকার আসলে কার। তারা বলছেন, ছাত্রলীগের সমালোচনা সব সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা করতে পারেন; তবে শাসন করবেন একমাত্র আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

সোমবার গণভবনে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ইফতার ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। জানা যায়, এদিন শারিরীক অসুস্থতার কারণে গণভবনে পৌঁছাতে একটু বিলম্ব করেন ছাত্রলীগ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। এদিন জাকিরকে দেখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জিজ্ঞাস করেন, ‘আবার কি আকাম করে এসেছ।’ প্রতি উত্তরে এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ‘আমি কিছু করিনি।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তোমার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। ঠিক হয়ে যাও। আমি বুড়ো বয়সে আর ছাত্রলীগের দায়িত্ব নিতে পারব না।’ এ সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন কোন প্রতি উত্তর না দিয়ে জড়সড় হয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন।

এ ঘটনা জানাজানি হলে, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম ফেইসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে দেখা যায়, ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন প্রধানমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করছেন। ছবির ক্যাপশনে নাজমুল লিখেন, ‘ছাত্রলীগকে এভাবেই সবচেয়ে ভাল মানায়, নেত্রীর বাইরে আর সব ভোগাস।’

নাজমুলের এ স্ট্যাটাস শেয়ার করেছেন তিনশ’র বেশি ফেইসবুক ব্যবহারকারী। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কমেন্ট করেছেন ৩৮৪ জন। নাজমুলের এ স্ট্যাটাসে শত শত কমেন্টকারীদের অধিকাংশই তার রাজনৈতিক অনুসারীরা। ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনও নাজমুলের অনুসারী বলে ছাত্রলীগের বর্তমান নেতারা জানান। নাজমুলের স্ট্যাটাসে সারাদেশের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা যেসব কমেন্ট করেছেন, তার অধিকাংশের ভাষাটা এমন- ‘ছাত্রলীগকে শাসন করার মালিক একমাত্র শেখ হাসিনা।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাকিরকে এভাবে ‘শাসানো’ ভালভাবে নেননি জাকিরের সিনিয়র শুভাকাঙ্ক্ষী এবং জাকিরের অনুসারীরা। বিগত কমিটির সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগের চেয়ে সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের প্রভাব ছাত্রলীগে স্পষ্টতই বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজিদ আহমেদসহ ঢাকা মহানগর উত্তরেও নাজমুলের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। এসব ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও নাজমুলের অনুসারীরা রয়েছেন। তবে সিদ্দিকী নাজমুল আলমকে গত একযুগের ছাত্রলীগের মধ্যে সবচেয়ে কর্মীবান্ধব নেতা মনে করা হয়।

শুধু একটি ছবি পোস্ট করেছেন তা নয়; এর আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে কটাক্ষ করে নাজমুল লিখেন, ‘শুনলাম কোন মন্ত্রীর এক পিও নাকি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকও নাকি তাকে তোয়াজ করে চলে। ভালো তো…. ভাল না….’ ।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, জাকিরকে ধারাবাহিক শাসানোর কারণে, মূলত যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পিও মোহাম্মদ নুরুল করিম জুয়েলকে ইঙ্গিত করেই নাজমুল স্ট্যাটাস দিয়েছেন। নাজমুলের স্ট্যাটাসে অনেকে নুরুল করিম জুয়েলের নাম উল্লেখ করে কমেন্টও করেছেন।

ছাত্রলীগে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এভাবে জাকিরকে শাসানোর বিষয়টি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা ভালভাবে নেয়নি। ছাত্রলীগের রাজনীতি মূলত দু’টি সমান্তরাল ধারায় চলে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পদ-পদবিও দুই ভাগ করে নেন- সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাই জাকিরেরও রয়েছে অনেক অনুসারী। যারা জাকিরের কষ্টেও ব্যথিত হন।

শুধু গণভবনেই নয়; এর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়েও জাকিরকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘এত প্রটোকল নিয়ে ঘোর কেন? আমরাও এক সময় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম তখন আমরা তো এত প্রটোকল নিয়ে ঘুরিনি।’ ওই দিন উপস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের ইশারায় সভাস্থল ত্যাগ করেছিলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।সুত্র: – মানবকন্ঠ

 

janatarpratidin.com / Md. Bappy / 21 June 2017

 

সর্বশেষ
%d bloggers like this: