শিরোনাম

ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ, আজ থেকে চলবে বিশেষ ট্রেন

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪:২৩:৩৪ পূর্বাহ্ণ - ২১ জুন ২০১৭ | ১৮৩

ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ছে। যাত্রাপথের ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই একটু আগেভাগেই পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হয়েছেন, কিন্তু দূর্ভোগ তাদের পিছু ছাড়েনি। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে  দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো এখন বেহাল অবস্থা। সর্বত্রই যানজট লেগে আছে। বিশেষ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ চার মহাসড়কে ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-সিলেট,ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘস্থায়ী যানজট ২ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৬-৭ ঘণ্টা। ঘরমুখো মানুষের চাপ সামলতে আজ (বুধবার থেকে চালু হচ্ছে বিশেষ ট্রেন।

প্রতিবছরই ঈদে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নগরবাসী রাজধানী ছাড়েন। সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই  যানবাহনের বাড়তি চাপ পড়ে। ঈদ আসার আরো ৫দিন বাকি থাকলেও ঘরমুখো মানুষরা সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কারণ সারাদেশের সড়ক-মহাসড়কের বেহাল অবস্থা। সড়ক-মহাসড়কে যানজট লেগেই আছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো মহাসড়কে ২০/২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট হচ্ছে।   ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়তি যাত্রীর চাপ, বেপরোয়া চলতে গিয়ে দুর্ঘটনা, বিপত্তির ঘটনা মিলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ। ঈদের ছুটি শুরু হলে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে  ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে তার কিছুই হয়নি। রাস্তা সংস্কারের কাজ যতোটুকু হয়েছে সবই জোড়াতালি দিয়ে। বৃষ্টিতে সেই মেরামতের কাজও ভেস্তে গেছে।

মঙ্গলবার ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজটে ঘন্টার পর ঘন্টা শত শত যানবাহন আটকে ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দি ও পদুয়ারবাজার টোল প্লাজা ঘিরে যানজট হচ্ছে প্রতিদিন। ফোর লেনের কাজের জন্য চার লেনের সড়ক হয়েছে এক লেন। মূলত এ সমস্যার কারণেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটের ভোগান্তি বেড়েছে। টঙ্গী-জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত পানিতে ডুবেছে সড়ক। দেখা দিয়েছে ভাঙ্গাচোরা। তিন ভাগের দুই ভাগ রাস্তা দখলে থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের ভোগান্তি হচ্ছে এ রুটের মানুষের। পূবাইল-কালীগঞ্জ-বাইপাইলসহ অন্তত আটটি পয়েন্টে সড়ক ভাঙ্গাচোরা, পানি জমা, দখল ও বাজারের কারণে ঢাকা-সিলেট রুটে যানজটের ভোগান্তি বাড়ছে।ঘরমুখি যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে ইতোমধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চার লেনের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদে ঘরমুখি যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করার জন্য আরও আগে থেকে মহাসড়কগুলো সংস্কার করা উচিত ছিল। আগভাগে সড়ক-মহাসড়কগুলো সংস্কার করা হলে এতোটা ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হতো না।

এদিকে, ঈদ উপলক্ষে ঈদের বিশেষ ট্রেনের যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ বুধবার থেকে। যারা ১২ জুন অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ করেছিলেন তারাই প্রথম নাড়ির টানে বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করবেন। যথাসময়ে ট্রেন ছাড়তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এবারের ঈদ উপলক্ষে ১২ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত ২১, ২২, ২৩, ২৪ ও ২৫ জুনের অগ্রিট টিকেট বিক্রি হয় কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে। যাত্রার দিন স্ট্যান্ডিং টিকেট বিক্রির কথা জানিয়েছেন কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী। যথাসময়ে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঈদ উপলক্ষে অগ্রিম টিকেট বিক্রি করেছে বিআরটিসি। তবে প্রথম দিনে আশানরূপ সাড়া মেলেনি। কর্তৃপক্ষ বলছে, বৃহস্পতি ও শুক্রবার টিকেটের চাপ বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার থেকেঈদের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি। মঙ্গলবার সকাল থেকে কমলাপুর, গুলিস্তান, কল্যাণপুর ও জোয়ার সাহারা বাস ডিপো থেকে অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হয়। প্রথম দিনে টিকেটের চাহিদা ছিল খুবই কম। ডিপো ম্যানেজাররা জানিয়েছেন, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের অগ্রিম টিকেট বিক্রি হয়েছে। তবে আশানরূপ সাড়া মেলেনি। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সেবা ও বাসের মান ভাল না হওয়ায় বেসরকারী পরিবহনের মতো বিআরটিসি বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রিতে সাড়া মেলে না। তবে গত বছরের মতো এ বছর গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বাস ভাড়া দেবে বিআরটিসি। নির্দিষ্ট দিনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বাস পাঠানো ও যাত্রী পরিবহন করার কথা জানিয়েছেন বিআরটিসির কর্মকর্তারা। টানা চার দিন অগ্রিম টিকেট বিক্রি হবে। যে কেউ চার দিনের মধ্যে টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন। বিআরটিসির ৯০০ বাস এ বছর ঈদসেবা দেবে।

 

janatarpratidin.com / Md. Bappy / 21 June 2017

 

সর্বশেষ
%d bloggers like this: