শিরোনাম

ক্রিকেট নিয়ে জুয়া অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে ব্যবস্থা নিন

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১:২২:৪৩ পূর্বাহ্ণ - ০৯ মে ২০১৭ | ১৭৩

ক্রিকেট মাঠে ম্যাচ গড়াপেটার ঘটনা নতুন কিছু নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে অনেক আগে থেকেই ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে নানা ঘটনা ঘটে থাকে। বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনেও তার কালোছায়া পড়েছিল। অতি সম্ভাবনাময় এক খেলোয়াড়কে এ জন্য আজীবন বহিষ্কৃত হতে হয়েছে। খেলার মাঠে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ম্যাচে খেলার মাঠেই জুয়াড়িদের সক্রিয় হতে দেখা যায়। অনেক মাঠ থেকে জুয়াড়িদের আটক করার ঘটনাও ঘটেছে।

আঞ্চলিক কোনো প্রতিযোগিতা নিয়েও যে বাইরের দেশে জুয়া হতে পারে, বাংলাদেশে তার নজির স্থাপিত হয়েছে। ভারতের ক্রিকেট অঙ্গনের অতি জনপ্রিয় আইপিএল বা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, যেখানে বিশ্বের সব দেশ থেকে ক্রিকেটাররা অংশ নিয়ে থাকেন। আইপিএলে কোনো দলে সুযোগ পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার তো বটেই, সম্মানেরও। এই লিগে বাংলাদেশের দুজন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন। খেলাকে খেলা হিসেবে না দেখে এরই মধ্যে বাংলাদেশে আইপিএলের ম্যাচ নিয়ে নানা ধরনের জুয়া শুরু হয়ে গেছে। শুধু যে ম্যাচের জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে বাজি ধরা হয়, তা নয়। কোন ওভারে কত রান হবে, ব্যাটসম্যান চার-ছয় হাঁকাবেন, নাকি বোলার উইকেট পাবেন, এ নিয়েও বাজি ধরা হচ্ছে। মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশন থেকে শুরু করে ইন্টারনেটে চলছে বাজি ধরা। টাকা আদান-প্রদান হচ্ছে বিকাশে। মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়েছে এই জুয়া। উঠতি তরুণ, ব্যবসায়ী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত এই জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো অফিসেও নাকি সহকর্মীরা নিজেদের মধ্যে বাজি ধরছেন। জুয়ায় টাকা-পয়সা খুইয়ে আত্মহত্যার ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি সংঘর্ষে প্রাণহানিও হয়েছে।

যেকোনো খেলা নির্মল আনন্দ দেওয়ার জন্য। মাঠের পারফরম্যান্স একজন খেলোয়াড়ের জনপ্রিয়তা বাড়ায়। কিন্তু প্রতিটি বল কিংবা ব্যাটসম্যানের প্রতিটি শট যদি বাজি ধরার বিষয় হয়ে যায়, তাহলে খেলার আনন্দ আর থাকে না। এ ধরনের জুয়া সামাজিক শান্তি বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরই মধ্যে যেহেতু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে গেছে, তাই এই সামাজিক ব্যাধি বন্ধ করতে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আজকের দিনে তথ্য-প্রযুক্তির বিস্তার ঘটেছে। কারা কোন ওয়েবসাইট ব্যবহার করছে, কোন মোবাইল নম্বর থেকে বিকাশ করা হচ্ছে—এসব খুুঁজে বের করা বোধ হয় খুুব কঠিন কাজ হবে না। বিশেষ করে পাড়া-মহল্লায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এখনই বাড়িয়ে দিলে এই নেতিবাচক প্রবণতা থেকে রক্ষা পাওয়া হয়তো সহজ হবে। খুব বেশি দেরি হয়ে গেলে এর প্রভাব পড়বে সর্বত্র। নির্মল আনন্দের যেকোনো ক্রীড়া অনুষ্ঠানই তখন জুয়াড়িদের লক্ষ্য হবে। সমাজে বড় ধরনের কোনো সর্বনাশ হওয়ার আগেই লাগাম টেনে ধরতে হবে। বন্ধ করতে হবে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড।

 

janatarpratidin.com /Md. Bappy /09 May 2017

 

এ বিভাগের জনপ্রিয় খবর

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর