শিরোনাম

কোথাও যেনো খুব মিল! আবারো কোথায় যেনো ভীষণ ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি!

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩:৩০:৪৪ পূর্বাহ্ণ - ২২ এপ্রিল ২০১৮ | ৩৯৩

কোটা সংস্কার আন্দোলন → অতঃপর গু-জবের দাসত্ব!

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে সুপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তা ছাত্রলীগের উপর চাপিয়ে শিক্ষার্থীদের আরো খেপিয়ে তোলার চেষ্টা করেন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাঝে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের ছাত্রদেরকে আরো বেশি মাত্রায় সম্পৃক্ত ও সক্রিয় করা, ফলে ঢাকাসহ সারা দেশব্যাপী আন্দোলন কিছুটা সাংগঠনিক রূপ পেতে শুরু করে।  আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে এসে রাস্তা অবরোধের মতো কর্মসূচি দিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করে দেশকে প্রায় অচল করে দেয়ার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়।

এই সকল বিষয় তুলে- ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেওয়া একটি থেকে পোস্টে হুবহু তুলে ধরা হলঃ

কোটা সংস্কারের আন্দোলনে অতি-চেতনাধারী মেধাবী নামক আন্দোলনকারীদের দেখলাম তাদের দাবীকৃত আন্দোলনের মূল স্লোগান ছিল–”জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু”!
সেই সাথে সুপরিকল্পিত ভাবে অতি-প্রেমী সেজে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধু তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত টিশার্ট, প্যানা ও লিফলেট ব্যবহার করছেন!

এখন আসি আসল কথায়ঃ   
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাদের কথা ভেবেই বলেছিলেন
মুক্তিযোদ্ধা কোটা খালি থাকা সাপেক্ষ মেধাবীদের মূল্যায়ন করা হবে! এমতাবস্থায় আপনাদের বোঝা উচিৎ ছিল বাকি অন্যান্য কোটাগুলোও এমনিতেই সংস্কার হবে!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথায় খেয়াল না করে বিবেকবুদ্ধির মাথা খেয়ে মূর্খের মত নানাবিদ গুজবে দাসত্ব মেনে রীতিমতো বাধ্য করালেন আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করানোর!
বেশ মিটিং হল-! আলোচনা সাপেক্ষ একমাসের সিদ্ধান্তও হল!
এর পরেও কোনকিছুর তোয়াক্কার না করে নির্লজ্জ জবানচোট্টার মতন পুনরায় রাতভর [ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যারের বাসভবন ভাংচুর] সহ মাত্রাতিরিক্ত যেসব বারাবারি যা করা হল তা আর নাইবা বললাম!
এরপর আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রীতিমতো বাধ্য হয়েই মহান জাতীয় সংসদে কোটা সংস্কারের জায়গায় সকল কোটা বাতিল করার ঘোষণা দিলেন!
আপনারা মেঘ না যে চাইতেই বৃষ্টি হলো! এর কৃতজ্ঞতা সরূপও কাওকেই তো দেখলাম না যে বঙ্গবন্ধু ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে বা স্টেটাস দিতে!
উল্টা আবার নতুন বাহানা শুরু করলেন-! কোটা বাদ মানিনা না সংস্কার চাই!

কিছু প্রশ্ন জাগেঃ

তবে কেনো কার নির্দেশে কোন স্বার্থে সংস্কার আন্দোলনের নামে আন্দোলনকারীরা শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকারের বিশেদাগার করছে এবং অহিংসতা ভুলে সহিংসতায় লিপ্ত হচ্ছে!

★ কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আজ হঠাৎই কেনো এতটা সহিংসতায় রূপ নিল!
★ কেন‌ইবা আন্দোলনকারীরা তাদের মূলদাবী থেকে দূরে সরে গিয়ে অনর্থক ভুলপথে পরিচালিত হলো!

★ ওরা কারা- যারা সংস্কার আন্দোলনকে ইস্যু করে আন্দোলনকারীদের সরকারের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে উৎসাহিত করছে!
★ ওরা আসলে কারা- যারা নেপথ্যে ইন্ধন দিয়ে আন্দোলনকারীদের উস্কে দিয়ে বা়ংলার রাজপথ রঞ্জিত করার এক ঘৃণ্য কৌশল দেখালো!

★ ওরা কারা যারা শান্তিপূর্ণ সংস্কারবাদীদের অহেতুক রাজনৈতিক করে তুললো!
★ কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্তরালে আন্দোনকারীরা কার্যত কাদের স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে সর্বত্র বিদ্বেষী শ্লোগান তুলে রাজপথে অশান্তির বীজ বুনে দিলো!
★ পরিশেষে কাদের স্বার্থে আন্দোলনকারীরা তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে নিঃশেষে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলল!
★ সত্যিই জানতে ইচ্ছে করে আন্দোলনকারীরা আজ কাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হলো!

★ আমরা ছাত্র, শিক্ষকদের পিতৃতুল্য মনে করি!অথচ আজ শিক্ষকরাই যখন নেপথ্যে ইন্ধন দিয়ে দাবানল উস্কে দেয় তখন আমরা কেন প্রতিবাদ করি না!

পরিশেষে এতটুকুই বলবো,
আন্দোলন তখনই সহিংস হয় যখন কেউ খুব স্বার্থপর হয়! তখনই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন বিপ্লবীরাও বিদ্রোহী হয়!

নীতি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও কারো ব্যক্তিস্বার্থে গণজাগরণ‌ও আজ গরুজাগরণে পরিনত হয়েছে!
আর অতিকায় হস্তিটি লোপ পাইয়াছে কিন্তু ইমরান এইচ সরকার তেলাপোকার মতো আজো টিকিয়া আছে!

শাহবাগের যৌক্তিক আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক গণজাগরণ আবার অহিংস কোটা স়ংস্কার আন্দোলন থেকে সহিংসতা!
কোথাও যেনো খুব মিল আবারো কোথায় যেনো ভীষণ ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি!

কিছু ভুল হলে ক্ষমা করবেন কারণ আমি ততটাও মেধাবী ন‌ই!

 

সর্বশেষ
%d bloggers like this: