শিরোনাম

কেন্দুয়ায় ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড ৪ গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:২৬:০৪ অপরাহ্ণ - ০১ জুন ২০২১ | ৮৮

মাত্র ১৫ মিনিটের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় একটি বাজারসহ চারটি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। অনেক ঘর আধাকিলোমিটার দূরে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। ঘরহারা মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন স্বজনদের বাড়িতে।
সোমবার দুপুরের দিকে উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের বালিজুড়া বাজারসহ ভরাপাড়া, নোয়াদিয়া ও লস্করপুর এবং নওপাড়া ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি গ্রামে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়। এতে এসব গ্রামের ১৩৫টি পরিবারের বসতবাড়ি লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঝড়ে অনেক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ছিঁড়ে গেছে বিদ্যুতের তার। ঘরচাপা পড়ে আটজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভরাপাড়া গ্রামের রইছ উদ্দীনের স্ত্রী তাহেরা খাতুনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে বৃদ্ধ কৃষিশ্রমিক রইছ উদ্দিন বলেন, ‘আমার জীবনে এই রকম ঘূর্ণিঝড় দেখছি না। ঝড়ের সময় অন্যের বাড়িতে কাজ করতেছিলাম। ঝড়ের পর বাড়িতে আইয়্যা দেখি, আমার বসতঘরের ওপরে একটি গাছ ভাইঙ্গা পড়ছে। ঘরের নিচে চাপা পইড়া আমার বউ তাহেরার দুইডা পাও ভাইঙ্গা গেছে। আমার কী সর্বনাশ অইছে গো! আমি সরকারের কাছে ঘর বানানোর সায্য চাই। বউয়ের চিকিৎসার লাইগা সায্য চাই।’
লস্করপুর গ্রামের রেজ্জাক বলেন, ‘আমরার ঘরবাড়ি ভাইঙ্গা গেছে। কী কইরে ঘরবাড়ি বানাইয়াম, ট্যাহা কই পাইয়াম, তা জানি না। আমরা সরকারের কাছে সায্য চাই।’বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলী আকবর তালুকদার মল্লিক জানান, বালিজুড়া বাজারসহ লস্করপুর, নোয়াদিয়া ও ভরাপাড়া গ্রামের ১১৪টি পরিবারের ঘরবাড়ি, গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে ইউএনওর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। নওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, পুড়াবাড়ি গ্রামের ২১টি পরিবারের ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনিও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা উপজেলা প্রশাসনে জমা দিয়েছেন।
ইউএনও মইন উদ্দিন খন্দকার বলেন, তিনি তালিকা পেয়েছেন। এটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। বরাদ্দ এলেই ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। আহত তাহেরার চিকিৎসার বিষয়েও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে।

সর্বশেষ
%d bloggers like this: