শিরোনাম

একাদশ সংসদ নির্বাচনী রোডম্যাপ: ইসির ২৩ এজেন্ডা

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩:২৫:৫১ পূর্বাহ্ণ - ১০ মে ২০১৭ | ৩৮৩

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে তাতে প্রাথমিকভাকে ২৩টি এজেন্ডা অন্তর্ভুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দু’দফা বৈঠক ও আংশিক ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট সম্পন্নের পরিকল্পনা রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে।

মূলত ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এই খসড়া রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী রোববার কমিশন সভায় এ রোডম্যাপ চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানন, রোডম্যাপ নিয়ে আগামী রোববার (১৪ মে) কমিশন সভা আহ্বান করা হয়েছে। কমিশন সভায় রোডম্যাপ চূড়ান্ত হলে পরবর্তীতে গণমাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

আগামী বছর ৩০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে বর্তমান কমিশনের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের আগে সংসদ নির্বাচনের অন্যতম পাঁচটি অনুষঙ্গকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০১৮ সালের আগস্টের মধ্যে সেসব কাজ শেষ করার কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, আগামী বছর নভেম্বরে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য সময় ধরে খসড়া কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার অন্তত তিন মাস আগে (২০১৮ সালের আগস্টের মধ্যে) সব ধরনের কাজ শেষ করার রূপরেখা থাকছে রোডম্যাপে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বরে। তার আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনের তফসিল হয় ২ নভেম্বর। সর্বশেষ দশম সংসদের অধিবেশন ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি শুরু হওয়ায় এবার মেয়াদ শেষের আগের ৯০ দিনের মধ্যে ভোট করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে।

আইন-বিধি সংশোধন ও সংলাপ: ১ নম্বর এজন্ডায় রয়েছে, জুলাই মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কিত আইন-বিধির সংশোধনী আনয়নের পরিকল্পনা, আগষ্টে প্রস্তাবিত আইন-বিধির খসড়া প্রণয়ন, আগস্টে নির্বাচনী আইন সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ, সেপ্টেম্বরে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠান, নভেম্বরে আইন-বিধি সংশোধন সম্পন্ন করে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ, ডিসেম্বরে আইন-বিধি চূড়ান্তকরণ।

সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ: ২ নম্বর এজেন্ডায় সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ রাখা হয়েছে। আগস্টে নির্বাচনী এলাকার সীমানা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা, সেপ্টেম্বরে ৩০০ সংসদীয় আসনের খসড়া তালিকা প্রণয়ন, অক্টোবরে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার প্রাথমিক তালিকা অনুমোদন এবং খসড়া তালিকা প্রকাশ, দাবি-আপত্তি-সুপারিশ আহ্বান, নভেম্বরে দাবি-আপত্তি ও সুপারিশের উপর শুনানী গ্রহণপূর্বক নিষ্পত্তি এবং ডিসেম্বরে সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

নতুন দলের নিবন্ধন: ৩ নং এজেন্ডায় রয়েছে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন। আগামী অক্টোবরে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের আবেদন আহ্বান করা হবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন রাজনৈতিক দলের আবেদন নিষ্পত্তি করে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন তালিকা প্রকাশ করা হবে।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ: চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি গ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে রোডম্যাপে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও খসড়া প্রকাশ; আপত্তি-নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ; ফেব্রুয়ারিতে ৩০০ নির্বাচনী এলাকার ছবিসহ ভোটার তালিকা, ছবি ছাড়া সিডি প্রস্তুত; জুনে মাঠ পর্যায়ে যাচাইয়ের পর ভোটার তালিকা মুদ্রণ; আগস্টে প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক ভোটার তালিকা, সিডি প্রস্তুত এবং মাঠ পর্যায়ে প্রেরণ।

বাজেট প্রস্তুত ও বাজেট বরাদ্দ: এখানে দুইটি ভাগ রয়েছে-একটি রাজস্ব বাজেট, আরেকটি প্রকল্প বাজেট। ২০১৮ সালের মে মাসের আগে বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থের খাতভিত্তিক হার নির্ধারণ ও দফাওয়ারি বিভাজন তালিকা প্রস্তুত করে সময়সূচি ঘোষণার ১০ দিন আগে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দপত্র জারি করার কথা বলা হয়েছে রাজস্ব বাজেটে। আর সময়সূচি ঘোষণার ৩৬৫ দিন আগেই উন্নয়ন অংশীদার বা অন্য কোনোভাবে প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রমের অর্থের সংস্থান হবে প্রকল্প বাজেট অংশে।

নির্বাচনী মালামাল মুদ্রণ: ২০১৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের বিভিন্ন ফরম প্যাকেট মুদ্রণের জন্য মুদ্রণ অধিদফতরের সঙ্গে সভা করে বিভিন্ন প্রকার ফরম, প্যাকেট, লিফলেট ইত্যাদি পর্যায়ক্রমে মুদ্রণের জন্য মুদ্রাণালয়ের নিয়ন্ত্রককে অনুরোধ করা। জুলাইয়ে মুদ্রণ সম্পন্ন করা এবং অক্টোবরের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল সংশ্লিষ্ট এবং প্রাথমিক পর্যায়ের বিভিন্ন ফরম, প্যাকেট ও অন্যান্য দ্রব্যাদি মাঠপর্যায়ে পাঠানো। এছাড়া এর মধ্যে নির্বাচনী সামগ্রী সংযুক্ত এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পরিপত্রের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ক্রয় সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে ভোটগ্রহণের কমপক্ষে ৩০ দিন পূর্বে সকল ব্যালট বাক্স ব্যবহার উপযোগী করা।

ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতকরণ: ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে ভোটকেন্দ্র হিসেবে সম্ভাব্য স্থাপনা/প্রতিষ্ঠানের মেরামত ও সংস্কারের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেয়া এবং সময়সূচি ঘোষণার ২৫ দিন পূর্বে ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে পাঠানো হবে।

ম্যানুয়েল ও নির্দেশিকা প্রণয়ন: ২০১৮ সালের জুলাই মাসের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রকার ম্যানুয়েল ও নির্দেশিকা প্রণয়ন ও কমিশনের প্রাথমিক অনুমোদন নেয়া এবং বাকি কাজ করে সময়সূচি ঘোষণার ২০ দিন পূর্বে ম্যানুয়েল ও নির্দেশিকার মুদ্রন সম্পন্ন করা করা হবে।

ডিজিটাল মনিটর স্থাপন: একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ৩০ দিন পূর্বে বেসরকারি ফল প্রদর্শনের জন্য ডিজিটাল মনিটর ক্রয়/ভাড়ার ব্যবস্থা করে তফসিলের ১০দিন পূর্বে তা স্থাপন করে ট্রয়ালের ব্যবস্থা করা হবে। সময়সূচি ঘোষণার ১৫দিন পূর্বে শাহবাগ, গুলিস্তান ও মতিঝিলে ফলাফল প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্বাচন ভবনের বর্হিঃদেয়ালে ফল প্রদর্শনের জন্য স্ক্রল স্থাপন করা হবে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কার্যক্রম: সময়সূচি ঘোষণার ৩০ দিন পূর্বে ঋণখেলাপী সংক্রান্ত তথ্য প্রাপ্তি ও এ সংক্রান্ত বিধি বিধান/নীতিমালা প্রস্তুতের জন্য অর্থমন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সভা। এছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, ডাক বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরিবহন ও সেতু বিভাগ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে সভা করার কথা বলা হয়েছে সময়সূচির ৩০ দিন পূর্বে।

নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ: নির্বাচনের প্রস্তুতি ও পরিচালনার জন্য সময়সূচি ঘোষণার ৩০ দিন পূর্বে জনবলের সংখ্যা নির্ধারণ, সময়সূচি ঘোষণার ১৫দিন পূর্বে তালিকা সংগ্রহের পরিকল্পনা, ১০দিন পূর্বে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার তালিকা চূড়ান্ত করে নিয়োগদান সম্পন্ন করা হবে।

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সভা: সময়সূচি ঘোষণার ২৫ দিন পূর্বে এই অংশে ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ ও নির্বাচনের বিষয়ে সার্বিক ধারণা নেয়ার জন্য প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সভা করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া এই অংশে সময়সূচি ঘোষণার ৩৫দিন পূর্বে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সভা করার কথা বলা হয়েছে।

সংসদ নির্বাচনে ইভিএম: ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারে উপযোগী করা, সময়সূচি ঘোষণার ৩০ দিন পূর্বে ইভিএম ব্যবহারের উপযোগিতা সংক্রান্ত প্রচারণা চালানো, সময়সূচি ঘোষণার ১০দিন পূর্বে মকভোটিং এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। এর অংশ হিসাবে আগামী বৃহস্পতিবার ইভিএম নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ইসি।

এছাড়াও রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োগ ও বৈঠক, প্রশিক্ষণ/ব্রিফিং, নির্বাচনী প্রচারণামূলক কার্যক্রম, রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রচার, নির্বাচন কমিশনের ও বেসরকারি পর্যায়ের দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সুসংহতকরণ, বেসরকারি প্রাথমিক ফল প্রচার সংক্রান্ত কার্যাবলী, ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে নির্বাচনি এলাকার পরিস্থিতি প্রতিবেদন সংগ্রহ, নির্বাচনী ব্যয় মনিটরিং কমিটি গঠন এবং আইসিটি সহায়তা সংক্রান্ত সভা করার বিষয়টি এসেছে রোডম্যাপে। সুত্র: – যমুনা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

 

 

janatarpratidin.com / Md. Bappy / Kukon/ Rokib/ 10 May 2017

 

সর্বশেষ