শিরোনাম

আর এক বছর অপেক্ষা!

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮:৩৮:৪২ অপরাহ্ণ - ০৮ জুন ২০২১ | ৮৮

বরিশাল-খুলনা মহাসড়কের পিরোজপুরের বেকুটিয়া-কুমিরমারা পয়েন্টে কচা নদীর ওপর অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে কাজের ৭২ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে সুপার স্ট্রাকচার ও অ্যাপ্রোচ সড়কের নির্মাণ। আগামী বছরের জুনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের বেকুটিয়া সেতু উদ্বোধনের আশা করছেন সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। সেতুটি চালু হলে বরিশাল-পিরোজপুর-বাগেরহাট-খুলনা ও মোংলা সমুদ্রবন্দর যাতায়াতে সময় অনেক কমবে। এতে খুশি বেকুটিয়া ফেরিঘাটে দুর্ভোগের শিকার পরিবহন শ্রমিক, যাত্রীসহ স্থানীয় মানুষ।

কচা নদীর ওপর অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের জুলাইয়ে। জিটুজি পদ্ধতিতে সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায় চীনের ‘চায়না রেলওয়ে সেভেনটিন ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড’। ব্যয় ধরা হয় ৮৯৮ কোটি টাকা। ৬৫৪ কোটি টাকা গ্র্যান্ড অনুদান দেয় চীন সরকার। বাকি ২৪৪ টাকার জোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ৪২৯ মিটার ভায়াডাক্টসহ সেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪২৭ মিটার এবং প্রস্থ ১০.২৫ মিটার (ডবল লেন)। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৯৯৮ মিটার। ১০টি পিলার ও নয়টি স্প্যানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বক্স গার্ডার টাইপ এ সেতুটি। নয়টি স্প্যানের সাতটি ১২২ মিটার আর ৭২ মিটার স্প্যান রয়েছে দুটি। গত তিন বছরে ৭২ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সেতু নির্মাণের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। এ সময় বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারেক ইকবাল, প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাসুম মাহমুদ সুমনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘করোনাকালেও দিনরাত দুই শিফটে কাজ চলছে। আগামী বছর জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই খুলে দেওয়া হবে সেতুটি।’ সওজ বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারেক ইকবাল বলেন, ‘বরিশাল-খুলনা সরাসারি সড়ক যোগাযোগে সব শেষ প্রতিবন্ধকতা বেকুটিয়ার কচা নদী। সেতুটি চালু হলে খুলনা, মোংলা ও বাগেরহাট অঞ্চলের সঙ্গে পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগ আরও সহজতর হবে।’ এ সেতু প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ও বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুম মাহমুদ সুমন জানান, সেতুটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের মধ্যে সড়কপথে ট্রাভেল টাইম অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা কমে যাবে।

এদিকে বেকুটিয়া সেতু নির্মাণে খুশি এলাকাবাসীসহ পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। সেতুটি চালু হলে বরিশাল-খুলনা রুটে ফেরিবিহীন সরাসরি সড়ক যোগাযোগ চালু হবে বলে তারা জানান। ফেরিঘাটে দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান ঘটতে যাওয়ায় আনন্দের জোয়ার বইছে কঁচা নদীর দুই তীরে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।

বেকুটিয়া ফেরির যাত্রী সাহেব আলী জানান, অতীতের সরকারের সময় বারবার এই সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েও যেটা পারেনি, সেটা সম্ভব করে দেখাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার। সরকার প্রধানের সু-নজরের কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এখন জেগে ওঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনিসহ অন্যান্য যাত্রীরা।

সর্বশেষ
%d bloggers like this: