শিরোনাম

আবিষ্কার যখন আবিষ্কারকের মৃত্যুর কারণ

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ - ১০ মে ২০১৭ | ৩৬৫

সব উদ্ভাবকই নিজেদের সৃষ্টিকে সফল হিসেবে দেখতে চান। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবিষ্কারই হয়ে দাঁড়ায় আবিষ্কারকের মৃত্যুর কারণ।

১. টাইটানিক জাহাজের নকশাকার থমাস এন্ড্রুজ। তিনি ছিলেন বিখ্যাত নৌযান নকশাকার। ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল হিমবাহে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায় টাইটানিক। বাঁচতে পারেননি থমাসও। এমনকি তার মরদেহও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

২. প্রথম আধুনিক প্রেস আবিষ্কার করেছিলেন উইলিয়াম বুলক। ফিলাডেলফিয়ার একটি সরকারি অফিসে প্রেস মেশিন বসাতে গিয়ে এর নিচে চাপা পড়েন তিনি। পরে তার পায়ে গ্যাংগ্রিন হয়ে যায়। ১৮৬৭ সালের এপ্রিলে অস্ত্রোপচারের সময় হওয়া জটিলতায় তিনি মারা যান।

৩. লুই স্লটিন পেশায় ছিলেন একজন পারমাণবিক পদার্থবিদ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি প্লুটোনিয়াম নিয়ে গবেষণা করছিলেন। কিন্তু একটি ফিশন বিক্রিয়া চালানোর সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। তখন অন্যদের বাঁচাতে স্লটিন ওই প্লুটোনিয়াম পাত্রটিকে আগলে ধরেছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত হয়ে দুর্ঘটনার দুই সপ্তাহ পর, ১৯৪৬ সালের ৩০ মে মৃত্যু হয় তার।

৪. বিশ্বের প্রথম মোটরসাইকেল আবিষ্কারক সিলভেস্টার এইচ রোপার। ১৮৯৬ সালের ১ জুন ভেলোসিপেড নামের মোটরসাইকেলটি পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর সময় ভয়ংকর দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। তাতেই মৃত্যু হয় এই আবিষ্কারকের।

৫. হোরেস লসন হানলে সাবমেরিন আবিষ্কার করেছিলেন। তার নকশায় তৈরি প্রথম সাবমেরিনটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার সফল হয়েছিল। এরপর আরও উন্নত সাবমেরিন তৈরিতে লেগে পড়েন হানলে। কিন্তু নতুন সাবমেরিন পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সময় ঘটে বিপত্তি। ১৮৬৩ সালের ১৫ অক্টোবর সাবমেরিনটি পানিতে নামে। কিন্তু পানির ওপরে আর ভেসে উঠতে পারেনি। সব ক্রু নিয়ে সলিলসমাধি হয় হানলের।

৬. দু’বারের নোবেল জয়ী মেরি কুরি একাধারে পদার্থ ও রসায়নবিদ ছিলেন তিনি। তেজস্ক্রিয়তার তত্ত্ব, দুটি মৌলিক পদার্থ ও এক্স-রে রশ্মি আবিষ্কারেরও কৃতিত্ব ছিল তার। প্রায়ই নিজের সঙ্গে একটি টেস্টটিউবে তেজস্ক্রিয় পদার্থ প্লুটোনিয়াম রাখতেন মেরি কুরি। অতিরিক্ত এই তেজস্ক্রিয়তার জন্যই ১৯৩৪ সালের ১৪ জুলাই তার মৃত্যু হয়।

 

 

janatarpratidin.com / Md. Bappy / Kukon/ Rokib/ 10 May 2017

 

সর্বশেষ