শিরোনাম

১৫ টাকার বরাদ্দে শিশুদের কপালে জুটলো ৬০ পয়সার চকলেট

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪:২৫:২২ অপরাহ্ণ - ১৯ মার্চ ২০১৯ | ৮০

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ‘মিনা প্রদর্শনী ও উপকরণ মেলা না করেই বরাদ্দের টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

র‌্যালিতে অংশ নেয়া প্রত্যেক শিশুর জন্য বরাদ্দ ১৫ টাকা মূল্যের নাস্তার প্যাকেট। অথচ দেয়া হয়েছে মাত্র ৬০ পয়সার চকলেট।

মেলা ও শিশুদের নাস্তার টাকা লুটের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রতিবাদের ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও।

গৌরীপুরে মেলা না করে বিভিন্ন স্কুল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে শিক্ষা উপকরণ। এ উপকরণ দিয়েই সোমবার (১৮ মার্চ/১৯) শুরু হয়েছে ময়মনসিংহে মেলা। নিয়ম হলো ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং ক্লাস্টারভিত্তিক মেলা শেষে সেরা উপকরণ উপজেলার নেতৃত্ব দিয়ে জেলার মেলায় অংশ নেয়া।

প্রাথমিক ও শিক্ষা অধিদফতরের ২৫ ফেব্রুয়ারি’র এক পত্রাদেশে উপজেলা পর্যায়ে ৪০০ শিশুর নাস্তার জন্য ৬ হাজার টাকা, মাইকের ১ হাজার ৫০০ টাকা, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন ৪ হাজার ৫০০ টাকা, আলোচনা সভার আপ্যায়ন ২ হাজার টাকা, কো-অর্ডিন্টের (ইউইও) ৬০০ টাকা, সহায়ক কর্মকর্তা ৫০০ টাকা, রিসোর্সস পার্সন (ডিপিইও/এডিপিইও) ২ জনের ১ হাজার ৬০০ টাকা, তাদের যাতায়াত ভাতা ২ হাজার টাকা, ব্যানার ৮০০ টাকা ও প্রশাসনিক ব্যয় ২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

‘প্রাথমিক শিক্ষার দীপ্তি-উন্নত জীবনের ভিত্তি’ প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ শুরু হয়েছে গত বুধবার (১৩মার্চ/১৯) থেকে। কর্মসূচীর দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার ছিলো মিনা কার্টুন প্রদর্শনী ও শিক্ষা উপকরণ মেলা।

এবার মিনা কার্টুন প্রদর্শনী ও শিক্ষা উপকরণ মেলা না হওয়ায় অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ নিয়ে চান্দের সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন বিনতে ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘চুপ থাকতে পারছি না’ শিরোনামে স্ট্যাটার্স দেন। এরপরেই উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড়।

শিক্ষা সপ্তাহের র‌্যালিতে অংশ নেয়া ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী রুনা আক্তার জানায়, তাকে দেয়া হয়েছে একটি চকলেট, যার মূল্য ৫০/৬০ পয়সা হবে। তার পাশে থাকা জুয়েল মিয়া জানান, সে পেয়েছে দু’টি চকলেট।

রোববার এ প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, শিশুদের চকলেট দেয়া হয়েছে। জেলায় উপকরণ মেলা করতে অনেক খরচ, তাই সমন্বয় করা হয়েছে। এ দিকে ‘মিনা কার্টুন প্রদর্শনী ও উপকরণ মেলা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদেরও বিভ্রান্ত করেন এ কর্মকর্তা।

রোববার দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে তিনি জানান, এ দিন গোলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘মিনা কার্টুন প্রদর্শনী ও উপকরণ মেলা চলছে।

এ তথ্য যাছাই করতে সাংবাদিকরা সেই বিদ্যালয়ে দুপুর ১টা ৫২মিনিটে উপস্থিত হন। বিদ্যালয়ের দরজা তখন তালাবদ্ধ। মাঠে একপাশে দু’টি গরু। বারান্দায় ৭০ ঊর্ধ্ব ভাসমান এক নারীর সম্বলখ্যাত উপকরণ ‘তিনটি ছট’, ভাঙা ইট, সবুজ রঙের একটি বোতল ব্যতিত আর কিছুই দেখা যায়নি। সাংবাদিকদের দেখে সেখানে হাজির হন ইউআরসি’র (উপজেলা রিসোর্স সেন্টার) অফিস সহায়ক মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, এখানে কোনো মেলা নেই। মেলার উপকরণ বিভিন্ন স্কুল থেকে আনা হচ্ছে, সেগুলো ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এ সময় কিছু উপকরণ নিয়ে হাজির হন শাহগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিব উল্লাহ। তিনি তালাবদ্ধ দেখে মুঠোফোনে কথা বলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসে। তিনিও এ বিদ্যালয় মাঠে মেলা হচ্ছে এ প্রসঙ্গে কিছু জানেন না বলে নিশ্চিত করেন।

সাংবাদিকদের তৎপরতার পরপরই টনক নড়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসের। মুহূর্তের মাঝে কয়েকজন প্রভাবশালী শিক্ষক, শিক্ষা বিভাগের অফিসার হাজির হন সেই মাঠে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকীর দিনে তড়িঘড়ি করে শেষ বিকালে মেলা বসানোর নামে ফটোসেশনে পায়তারা চালান। এ নিয়েও শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক শিক্ষক ফেসবুকে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

সহকারী শিক্ষক রাজিব আহমেদ জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসের বাহিরে আরও একটি কর্মসূচি পালন উচিত নয়। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোজাম্মেল হক এর মুঠোফোন ৩টা ৩৬ মিনিটে দু’বার কল দেয়া হলেও রিসিভ করেননি।

সর্বশেষ