শিরোনাম

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণে প্রস্তুত সারা দেশ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:১৯:২৩ অপরাহ্ণ - ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১২০

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামীকাল। সারা দেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।

বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ও ব্যুরোর প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ অন্য ভোট গ্রহণ সামগ্রী পৌঁছে গেছে অধিকাংশ রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তরে। সেগুলো ভাগ করে বস্তাভর্তি করে পাঠানো হচ্ছে কেন্দ্রগুলোতে।

দেশজুড়ে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতায় মাঠে নেমেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত আছে র‌্যাব ও বিজিবিও। বিশেষ মহড়া ও টহল দিচ্ছেন সবগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশিও চলছে।

ঝিনাইদহ: রিটার্নিং কর্মকর্তা ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, জেলার চারটি আসনে মোট ১৩ লাখ ৪২ হাজার ২৩৪ জন ভোটারের মধ্যে ৬ লাখ ৭২ হাজার ৫৯৬ জন পুরুষ ও ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩৮ জন নারী। ৫৭৮টি ভোটকেন্দ্রের দুই হাজার ৬৩৫টি ভোটকক্ষে ভোট দেবেন তারা। ৫৭৮ জন প্রিসাইডিং অফিসার, দুই হাজার ৬৩৫ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পাঁচ হাজার ২৭০ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

নিরাপত্তা ও ভোট গ্রহণে সহায়তায় সেনা, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার মিলিয়ে ৯ হাজার ১১৯ জন সদস্য মাঠে থাকবেন। ১৭ জন ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ১৭টি সেনা ও বিজিবি টিম টহলে থাকবে বলেও জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ময়মনসিংহ: নগরীজুড়ে বিশেষ মহড়া দিচ্ছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-১৪। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও রাস্তায় টহল দিচ্ছেন।

র‌্যাব-১৪ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ইফতেখার উদ্দিন জানান, গতকাল দুপুরে ময়মনসিংহ সদর দপ্তর থেকে শুরু করে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্ব পয়েন্টে এ মহড়া শুরু করেছেন সংস্থাটির সদস্যরা।

তিনি জানান, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে র‌্যাব-১৪-এর আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহসহ সাতটি জেলার মাঠপর্যায়ে প্রায় এক হাজার সদস্য এবং একাধিক চৌকস টিম সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সক্রিয় রয়েছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে রাতভর সকল টিম নিয়ে নাশকতা ও বিক্ষোভ প্রতিরোধে এই মহড়া দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সব সময় সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে র‌্যাব বাহিনী। ময়মনসিংহে নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না।

চাঁদপুর: জেলার পাঁচটি আসনে নয় লাখ ১৬ হাজার ৪৭৩ জন পুরুষ ও আট লাখ ৮৯ হাজার ৪৫৩ জন নারীসহ ১৮ লাখ পাঁচ হাজার ৯২৬ জন ভোটার ৬৭৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন। কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেগুলোর দিকে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শওকত ওসমান।

তিনি জানান, এক হাজার ৬০০ পুলিশ, ১০ হাজার আনসার সদস্যের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবির সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন পুলিশ ও ১০ থেকে ১২ জন আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন এবং পুলিশের একটি করে মোবাইল টিম টহল দেবে। প্রতিটি উপজেলায় দুই প্লাটুন সেনা সদস্য, বিজিবির স্ট্রাইকিং ফোর্স ও র‌্যাবের একটি টিমও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নজরদারিতে থাকবেন। ৬৭৮ জন প্রিসাইডিং অফিসার, তিন হাজার ৭৭৫ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও এক হাজার ৩৫৬ জন পোলিং অফিসার ভোট নেবেন।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ৭৯টি ইউনিয়নে পুলিশের ১০৬টি মোবাইল টিম কাজ করবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ, নদী ও হাওর এলাকার কেন্দ্রগুলোর দিকে পুলিশের নজরদারি থাকবে বেশি।

বোয়ালমারী (ফরিদপুর): ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী-মধুখালী) আসনের বোয়ালমারী উপজেলায় মোট ৭৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র না থাকলেও ৩৫টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলার মোট ভোটার এক লাখ ৭৫ হাজার ২০৫ জন।

হবিগঞ্জ: জেলাজুড়ে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী ও র‌্যাব, চেকপোস্ট বসিয়ে চলছে তল্লাশিও।

জেলায় একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৩৬০ পদাতিক ব্রিগেডের অধীন দুটি ব্যাটালিয়নের সাত শয়ের মতো সেনাসদস্য কাজ করছেন, রয়েছে ১০০ সদস্যের র‌্যাব ও ৫৪০ সদস্যের বিজিবি টিম। ভোটের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন সাত হাজার ৫৯৬ জন আনসার ও এক হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য। সব মিলিয়ে নির্বাচনে নিñিদ্র নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় সাড়ে ১০ হাজার সদস্য।

র‌্যাব-৯ হবিগঞ্জের কর্মকর্তা এএসপি উবাইন জানান, জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকারসহ সব ধরনের যানবাহন ও আবাসিক হোটেলগুলোতে তল্লাশি করছে র‌্যাব। টহলও জোরদার করা হয়েছে।

নড়াইল: সেনাবাহিনীর পাঁচ শতাধিক সদস্য কাজ করছেন জেলায়। গতকাল বিকেলে নড়াইল-যশোর সড়কের রূপগঞ্জের বউবাজার এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি করেন সেনাসদস্যরা।
নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘নড়াইল-১ আসনে ১০২টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২টি এবং নড়াইল-২ আসনে ১৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬টি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি ছাড়াও হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকায় যেন কোনো সহিংসতা না হয় এবং তারা নির্বিঘ্ন ভোট দিতে পারেন, সেদিকে লক্ষ রাখা হচ্ছে।’

পুরো জেলায় পুলিশ, আনসার, বিজিবিসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তাবলয় ও ছক তৈরি করা হয়েছে। ৮৭৮ জন পুলিশ সদস্য কাজ করবেন, এসপি পদমর্যাদার দুজন বাড়তি ফোর্স অফিসারও পেয়েছি।’

গতকাল সকালে পুলিশ লাইন্স মাঠে বাহিনীর সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেন এই কর্মকর্তা। সভায় অংশ নেন নির্বাচনী ফোর্স অফিসার পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ রেজাউল মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) শরফুদ্দীন, সহকারী পুলিশ সুপার (পিবিআই) মনিরুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া) রিপন চন্দ্র সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিনসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ