শিরোনাম

“সুযোগ পেলে ময়মনসিংহ-৪’ এর জনগণ’ই বলবেন আমি কেমন!প্রমাণ দেবেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮:৫২:৫৩ পূর্বাহ্ণ - ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮৬

রিপোর্টার আবু হাসান খান বাবু,জনতার প্রতিদিন 

ক্ষুদ্র পরিসরে নেতৃত্ব পালনের মাধ্যমে বৃহৎ নেতৃত্বের পরিচয় প্রকাশ পায়, আজ বলব এমন একজন নেতার কথা।
* বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রাচ্যর অক্সফোর্ড খ্যাত ও প্রধান রাজনৈতিক কেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজ ২০০১ সালে বিএনপি-জামাতজোট ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রদল ও শিবিরের করাল গ্রাসে এই কলেজটি তার অতীত ঐতিহ্য হারাতে শুরু করে, শুরু হয় এক ঘৃন্য রাজনৈতিক চর্চা।
যে কলেজটি ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের গনতন্ত্র চর্চার প্রধান কেন্দ্র সেখানে পরিনত হয় মাদক, টেন্ডারবাজী ও সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রমে।ময়মনসিংহের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ও সাধারণ মানুষের আতংকের নাম ছিল কলেজ রোড ও আনন্দমোহন কলেজ।
দিনদুপুরে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মোবাইল নিয়ে যাওয়া, ছাত্রহোস্টেলের রোম থেকে ছাত্রদের বের করে নেশা করা,হল বানিজ্য এসব ছিল নিত্যনৈমত্তিক ব্যপার। ছাত্র-ছাত্রীরা সে সময়ের ছাত্রদলের নেতাদের কাছে বিচার চাইতে গেলে ওল্টো ছাত্রদের লাঞ্চিত হতে হতো। প্রতিরাতে কলেজে বহিরাগতদের আগমনে রাতের বেলায় বসত নেশার আসর।২০০৮ সালে এই কলেজে ভর্তি হন একজন ছাত্র নাম তার রকিব।
এই কলেজ রোডে কলেজের পাশেই তার জন্ম, বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে সন্তান। রকিব ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ২০০৬ সালে এস এস সি ও ২০০৮ সালে ময়মনসিংহের অন্যতম শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেন। স্কুল জীবন থেকেই রকিব রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করতেন। স্কুল ও কলেজ জীবনে শিক্ষকদের কাছে তিনি পছন্দের ছাত্র ছিলেন। এরপর তিনি ঢাকায় এক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন কিন্তু তার রাজনৈতিক চর্চার জন্য তা ছেড়ে ভর্তি হন বাড়ির পাশে আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে।
ভর্তি হওয়ায় পর থেকে তিনি সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কল্যানে কাজ করায় ব্রত হন। ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায্য অধিকার ও সন্ত্রাস চাঁদাবাজ নির্মূলের লক্ষে ১১ দফা দাবি আদায়ে হাজার হাজার ছাত্রদের নিয়ে আন্দোলনে নেমে পড়েন। এই আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি মামলার হয়রানি হন কিন্তু সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ভালবাসা সাথে নিয়ে দাবি আদায়ে অনড় থাকেন। ফলে কলেজ থেকে সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি ও মাদক ক্রমেক্রমে কমতে থাকে।ছাত্রলীগের সাধারন কর্মী হয়ে এই কাজগুলো করতে থাকেন। ফলে কলেজের সকল শিক্ষক ও ছাত্রীদের মনে জায়গা করে নেন তিনি।

পরবর্তীতে জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে তাকে সদস্য পদ প্রদান করা হয়। কলেজ যখন যোগ্য নেতৃত্বের অভাব তখন ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাকে আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব অর্পন করেন। এতে আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায় এবং হাজার হাজার ছাত্র জনতা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়।এই দায়িত্ব অর্পনের একুশ দিন পর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব কে সাধারন সম্পাদক ও জসিম উদ্দিন কে সভাপতি করে জেলা ছাত্রলীগ কমিটি প্রদান করা হয়।
এই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি নির্দেশনা মেনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ চর্চার মাধ্যমে হাজার হাজার ছাত্রলীগ কর্মী বাহিনী গড়ে তোলেন।মাদক,সন্ত্রাস, চাদাবাজ ও টেন্ডারবাজি নির্মূল করে ছাত্রলীগের অতীত ঐতিহ্য পূনঃপ্রতিষ্টা করে ক্যম্পাসকে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের বাসযোগ্য করে গড়ে তোলেন এবং গনতন্ত্র চর্চার প্লাটফর্ম হিসাবে গড়ে তোলেন।
২০১৫ সালের ৩১শে আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মজিব স্বরনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্তৃক আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে তাকে “শ্রেষ্ঠ সংগঠক ৩য় ” হিসাবে পুরুস্কার প্রধান করা হয়।এর কিছুদিন পর হঠাৎ করে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ কমিটিকে স্থগিত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কার্য-নির্বাহী সংসদ।ফলে চতুর্দিকে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয় এই কমিটি নিয়ে।
পরবর্তীতে জানা যায় সভাপতি দায়িত্ব হীনতার কারনে এই কমিটি স্থগিত করা হয়।রকিবের আদর্শ নিয়ে কাজ করে যেতে থাকেন তার মনে কোন দূর্বলতা ছিল না।সকল জল্পনা – কল্পনা অবসান ঘটিয়ে ২০১৬ সালের ৮ ই ফেব্রুয়ারী মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব কে সভাপতি ও সরকার মোঃ সব্যসাচী কে সাধারন সম্পাদক করে নতুন কমিটি প্রদান করা হয়।
এর পর লক্ষ ছাত্র-জনতা তাকে বরণ করে নেন।এর পর থেকে রকিব আরও আত্নবিশ্বাসী হয়ে উটেন। “উওরের গারো পাহাড় থেকে দক্ষিনের ভাওয়ালের গড়,পশ্চিমের যমুনার জল থেকে পূর্বের কংশের ঢল” পর্যন্ত তিনি চষে বেড়ান এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ পূনঃপ্রতিষ্টা করেন।
ময়মনসিংহ জেলা শাখার প্রতিটা ইউনিটকে সুসংগঠিত করে নতুন কমিটি প্রদান করেন।২০১৭ সালে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ৭ ই জানুয়ারি ঐতিহাসিক কৃষ্ণচূড়া চত্তরে এক”ঐতিহাসিক ছাত্র সমাবেশর” ডাক দেন।উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্তিত ছিলেন তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের স্বাধীনতা -উত্তর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি মহোদয়,প্রধান উদ্ভোধক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের মাটি ও মানুষের নেতা মাননীয় ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান স্যার, এছাড়াও ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সকল ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। লক্ষ ছাত্র-জনতার উপস্থিতিতে মূখরিত হয়ে ছিল এই সমাবেশ। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি মহোদয় খুশি হয়ে বলেছিলেন “এটা শুধুমাত্র কোন ছাত্র সমাবেশ না,এটা একটা মিলন মেলা”। মাননীয় ধর্মমন্ত্রী আনন্দে আত্নহারা হয়ে বলেছিলেন ” আগামী ১০০ বছরেও এমন ছাত্র সমাবেশ আর হবে না”।এছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনা করার মাধ্যমে ছাত্রলীগের গতিশীলতা এনেছেন।
বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ সারা বাংলাদেশের মডেল হিসাবে পরিচিত হয়েছে। সামনে আসছে নির্বাচন চারদিকে যখন তারুণ্যের জয়জয়কার ঠিক তখনই সময়ের দাবিতে ময়মনসিংহ সদর ৪ আসন থেকে মনোনয়ন কিনেছেন মোঃরকিবুল ইসলাম রকিব।
রকিব কে এই ব্যপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন” নৌকা প্রতিকে জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী হিসাবে সুযোগ পেলে ময়মনসিংহ ৪ আসনের জনগনই আমার প্রমাণ দেবেন আমি কেমন, দলের কর্মকান্ডে আমি কতটা সাংগঠনিক এবং ময়মনসিংহবাসীর কাছে সরকারের সেবা পৌছে দিতে আমি কতটুকু যোগ্য ”
ময়মনসিংহের তরুনদের প্রথম পছন্দ রকিব। যিনি ছাত্রলীগের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উটেছেন তাই তরুণ প্রজন্ম আগামীর আধুনিক ময়মনসিংহ গড়তে রকিব কে এমপি হিসাবে মনোনয়ন দিয়ে সূযোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সকলে আশাবাদী।
ছোট পরিসরের পরিচয়ের বৃহৎ দায়িত্বে কাজ করতে সুযোগ দানে এমনটাই আশাবাদী সাধারণ মানুষ।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর