শিরোনাম

“সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণেরর আবেদন যাচাইবাচাই চলছে”

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮:৪৬:২৬ অপরাহ্ণ - ০৭ নভেম্বর ২০১৮ | ২১

সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণ আবেদন গত ৫ নভেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। নির্ধারিত ৪টি সরকারি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।

সম্প্রতি এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আবেদনের সংখ্যাসহ সামগ্রীক তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। আর ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব আবেদন যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা গেছে, আবেদন অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে রেডি ফ্ল্যাট আছে কি-না তা যাচাই করতে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বোর্ড থেকে সেটার অনুমোদন নিয়ে অর্থ বিভাগের গৃহ ঋণ সেলে পাঠানো হবে। পরে সেখান থেকে ঋণের ভর্তুকি নির্ধারণ করে অর্থ বিভাগের সম্মতি নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিজীবীদের কম সুদে গৃহ ঋণ দিতে সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রুপালী এবং বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং কর্পোরেশনের সাথে সমঝোতা স্মারক সই করে অর্থমন্ত্রণালয়। ওই ঋণের সরল সুদহার হবে ১০ শতাংশ। যার মধ্যে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার। ইতোমধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ভর্তুকি বাবদ ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। দেশে মোট ২১ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী আছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ কর্মচারী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ২০০টি আবেদনও ঋণ পাওয়ার উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ আছে।

তিনি বলেন, অর্থ বিভাগে এখনও গৃহঋণ সেল করা হয়নি। তবে কেউ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে আসলে আমার অবশ্যই বিষয়টি দেখবো এবং অনুমোদন দিয়ে দেবো। কারণ সবকিছু অনলাইনে হওয়ায় ১০ হাজারটি আবেদন জমা পড়লেও সেটা হ্যান্ডেল করা সহজ হবে।

গত ১ অক্টোবর থেকে অনলাইনে গৃহ নির্মাণ ঋণের জন্য আবেদন জমা শুরু হয়। অভিন্ন আবেদনপত্রে ২৮টি তথ্য চাওয়া হয়, যার মধ্যে ই-টিন নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া প্রাইভেট প্লটের জন্য ৪-৬টি দলিল এবং সরকারি/লিজ পাওয়া প্লটের জন্য ৪-৭ দলিল দিতে হচ্ছে আবেদনকারীদের।

অর্থ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান প্রক্রিয়া খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ জন্য নির্ধারিত ব্যাংকগুলোর সাথে অর্থ বিভাগের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। খুব শিগগিরই ঋণ দেওয়া শুরু হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুলাই সরকারি কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণ নীতিমালা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে অর্থ বিভাগ। নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে এবং সর্বোচ্চ ৫৬ বছর বয়স পর্যন্ত গৃহ ঋণের জন্য আবেদন করা যাবে। বেতন স্কেলের গ্রেড ভেদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ এবং সর্বনিম্ন ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়া যাবে। ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

প্রথম-পঞ্চম গ্রেডভুক্তরা ঢাকাসহ সব সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগীয় সদরের (উপ-সচিব থেকে সচিব পদমর্যাদার) জন্য ৭৫ লাখ, জেলা সদরের জন্য ৬০ লাখ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৫০ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন।

৬-৯ম গ্রেডভুক্তরা ঢাকাসহ বিভাগীয় সদর এলাকার জন্য ৬৫ লাখ, জেলা সদরের জন্য ৫৫ লাখ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৪৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন।

১০-১৩তম গ্রেডভুক্তরা ঢাকাসহ বিভাগীয় সদরের জন্য ৫৫ লাখ, জেলা সদরের জন্য ৪০ লাখ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন।

১৪-১৭তম গ্রেডভুক্তরা ঢাকাসহ বিভাগীয় সদরের জন্য ৪০ লাখ, জেলা সদরের জন্য ৩০ লাখ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ২৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন।

১৮-২০তম গ্রেডভুক্তরা ঢাকাসহ বিভাগীয় সদরের জন্য ৩০ লাখ, জেলা সদরের জন্য ২৫ লাখ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ২০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর