শিরোনাম

শ্রাবণের বৃষ্টি ভেজা ক্যাম্পাসের হারনো স্মৃতি তুলে ধরেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:২০:৩০ অপরাহ্ণ - ০৯ আগস্ট ২০২০ | ১৯
মো ফাহাদ বিন সাঈদ,
জাককানইবি প্রতিনিধিঃ
ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ।যেকোন ঋতুর চেয়ে বর্ষা তার স্নিগ্ধ রূপে মুগ্ধ করে প্রকৃতি প্রেমীদের। বৃষ্টিস্নাত কদম ফুল, সন্ধ্যার শিউলি ফুল আর শ্রাবণের বারিধারা বর্ষাকে করে অনিন্দ্য অপরূপ। বর্ষা প্রেমীরা বৃষ্টিতে ভিজে বৃষ্টির প্রেম আলিঙ্গন করে।বৈশ্বিক মহামারী কোভিট১৯ এর জন্য এখন সব যেনো স্মৃতির পাতা হতে সবাই স্মরণ করছে পুরনো সেই বিগত দিনের ক্যাম্পাস স্মৃতি।শ্রাবণের বৃষ্টি ভেজা ক্যাম্পাস এর স্মৃতির পাতা থেকে সবার মাঝে তুলে ধরেছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিয়া জাহান বলেন,ভালবাসার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।যার সৌন্দর্য বলাই বাহুল্য। বৃষ্টি ভেজা দিনে যেন তার সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়।তার মাঝেই জড়িয়ে আছে নানান স্মৃতি।বৃষ্টিস্নাত ভোলা রোডে হাঁটা,মুষলাধারে বৃষ্টি পড়লে দৌড়ে গ্রাউন্ডফ্লোরে চলে এসে বন্ধুদের সাথে সিঁড়িতে বসে আড্ডা দেয়া কিংবা সোজে টংয়ে গিয়ে চা খাওয়া আর সাথে টা হিসেবে গরম গরম তিন টাকার সিঙারা!যখন বৃষ্টি খানিকটা থেমে যায় তখন পুরো ক্যাম্পাস হাতে ঝালমুড়ি নিয়ে চক্কর দেয়া।
ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টির মাঝে ভার্সিটি সংলগ্ন ব্রিজটি বন্ধুদের সাথে গাইতে গাইতে পাড়ি দেয়া কিংবা ভার্সিটির পাশ দিয়ে বহমান কীর্তনখোলার পাড়ে বাসে গান নাচের আড্ডায় মেতে ওঠা।সবকিছুই মনে পড়ে।খুব মিস করি প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়টিকে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শফিকুল আলম বাপ্পী বলেন,
শ্রাবণধারায় জাককানইবি
করোনার ভয়াল ছায়া সমগ্র পৃথিবীকে যখন গ্রাস করেছে ঠিক তখনই শ্রাবণের অঝর বর্ষন মনে করিয়ে দেয় প্রিয় ক্যাম্পাসের কিছু রঙ্গীন স্মৃতি কে। সারাদিন ঝুম বৃষ্টিতে ঘর বন্দী জীবনে বন্ধুদের সাথে গানের আড্ডা, খিচুরী পার্টি কিংবা ক্যাম্পাসের অতীত, বর্তমান, ভবিৎষত নিয়ে দূরদর্শী আলোচনা সবই যেনো এখন শুধুই স্মৃতি। ক্লাস কিংবা পরিক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ছাতা ভাগাভাগি করে ডিপার্টমেন্টে যাওয়া আর ক্লাস শেষে পলিব্যাগে মোবাইল, মানিব্যাগ সংরক্ষন করে সবাই মিলে বৃষ্টির মধ্যে দৌড়ঝাপ করা। পরিচিত কাওকে পেলে জোর করে বৃষ্টি কাদায় লুটোপুটি খাওয়া। দল বেধে সেন্ট্রাল ফিল্ডে ঘন্টার পর ঘন্টা ফুটবল  খেলা শেষে ক্যাফেটেরিয়া থেকে খাবার পার্সেল নিয়ে ঘরে ফিরে যাওয়া। সবটাই এখন শুধু স্মৃতি। অঝর বর্ষনে জীবনে আবার শ্রাবণ এসেছে। কিন্তু এই শ্রাবণের ধারায় আমি খুঁজে ফিরি আমার প্রিয় বন্ধুদের, কাছের সিনিয়র জুনিয়রদের, প্রাণের ক্যাম্পাসকে এবং ক্যাম্পাসে কাটানো আমার প্রতিটি সুখকর স্মৃতি কে। পৃথিবী তুমি সুস্থ হও, আমি আরও একটা বর্ষণমুখর দিন কাটাতে চাই আমার প্রাণের ক্যাম্পাসে আমার প্রিয় মুখ গুলোর সাখে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় লোক-প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াদ বলেন, ব্যস্ত ক্যাম্পাসে হঠাৎ বৃষ্টি। অার বৃষ্টি মানেই চারিদিকে নির্মল শান্ত পরিবেশ, মানবমনে প্রশান্তির ছায়া। বৃষ্টিভেজা ক্যাম্পাস যেন খুঁজে পায় স্নিগ্ধ প্রকৃতির সান্নিধ্য। বৃক্ষরাজি হয়ে উঠে রঙিন সবুজ। ক্যাম্পাসের বর্ষণমুখর দিনে ক্লাস করার অভিজ্ঞতা ভোলার মত নয়। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে পিচঢালা বৃষ্টিস্নাত সরু রাস্তা দিয়ে ক্লাসে যাওয়ার মুহুর্তটা অনেক রোমাঞ্চকর। এমন দিনে বন্ধুদের সঙ্গে অাড্ডাটাও জমে উঠে বেশ। সবাই মিলে রান্না করা, মুড়ি পার্টির অায়োজন করার উত্তম সময় হয়ে উঠে সেদিন। ক্যাম্পাসে বর্ষণমুখর দিনের এসব টুকরো টুকরো স্মৃতি ভবিষ্যতে অবসরে স্মৃতির খোরাক জোগায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শামা নিশাত নদী বলেন,
বৃষ্টি মানেই এক অনাবিল আনন্দ।  আর ক্যাম্পাসের বৃষ্টি সে তো আরও দারুণ ব্যাপার। খুব বেশি দিন হয়নি এসেছি ক্যাম্পাসে। দেড় মাসের এই অল্প সময়টাতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য যতটা উপভোগ করেছি তার থেকেই বলছি।
ঢাবির কলা ভবনের বৃষ্টি সবথেকে সুন্দর।
এছাড়া আমতলা,বটতলা,শেডো,মল চত্বর, হাকিম চত্বর,ভিসি চত্বর,প্রেম চত্বর,পায়রা চত্বর,টিএসসি, চারুকলা, কার্জন  সব জায়গায় ঝুম বৃষ্টি হয়। হলের ৪ তালা থেকে বৃষ্টি দেখতে আরও আনন্দ লাগে। ঘাসের ওপর শিশিের ফোঁটার মত বৃষ্টি শুরু হলেই ভিজতে মন চায়। এছাড়া ছাতা মাথায় খালি পায়ে হেঁটে যেতে ভীষণ মজা। বৃষ্টির পানিতে সকল ময়লা আবর্জনা ধুয়ে মুছে যায়।মনের বেদনাও দূর হয়। বৃষ্টির দিনে একদিকে মনে পড়ে কবি রবীন্দ্রনাথ এর সেই অমীয় বাণী,আজ ঝরঝর বাঁদরও মুখরও দিনে।বৃষ্টি মানেই এক অন্যরকম ভালোলাগা। ক্যাম্পাসের গাছের পাতাগুলো থেকে শিশির এর ফেটার মত বৃষ্টি পড়ে। ফুলগুলোকে আরও সজীব মনে হয়। বৃষ্টি অনেক দেখেছি।কিন্তু ক্যাম্পাসের বৃষ্টিই আমার কাছে সবচেয়ে সেরা। পৃথিবী সুস্থ হলে আবারও মুখরিত হয়ে ওঠুক ঢাবি প্রাঙ্গন।প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আরও উপভোগ করতে চাই।
সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর